Advertisement
E-Paper

জাতীয় স্তরের বাস্কেটবল খেলোয়াড়, কৌতুকশিল্পী থেকে চিকিৎসক! টিভিকে প্রধান বিজয়ের মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন কারা

তামিলনাড়ুর সরকার গঠনে গত কয়েক দিন প্রতি মুহূর্তে যে নাটকীয় মোড় দেখা গিয়েছে, ঠিক সে রকমই নাটকীয় এবং চমকপ্রদ বিজয়ের মন্ত্রিসভাও।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ মে ২০২৬ ১৫:০৮
রবিবার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তলপতি বিজয়। ছবি: পিটিআই।

রবিবার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তলপতি বিজয়। ছবি: পিটিআই।

৪ মে ফল ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছিল সরকার গঠন নিয়ে টানাপড়েন। পাঁচ দিন পর সেই সব জটিলতা কাটিয়ে রবিবার অবশেষে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন তামিলাগা ভেটরি কাজ়াগম (টিভিকে)-এর প্রধান তথা অভিনেতা রাজনীতিক জোসেফ বিজয় ওরফে তলপতি বিজয়। তামিলনাড়ুর সরকার গঠনে গত কয়েক দিন প্রতি মুহূর্তে যে নাটকীয় মোড় দেখা গিয়েছে, ঠিক সে রকমই নাটকীয় এবং চমকপ্রদ বিজয়ের মন্ত্রিসভাও। তাঁর মন্ত্রিসভায় যেমন রয়েছে জাতীয় স্তরের খেলোয়াড়, তেমনই কৌতুকশিল্পী থেকে চিকিৎসক এবং অবসরপ্রাপ্ত আমলাও।

বিজয়ের সঙ্গে রবিবার শপথ নিয়েছেন এন আনন্দ, আদভ অর্জুন, এস কীর্তন, কেজি অরুণরাজ, টিকে প্রভু, পি বেঙ্কটরমনন, নির্মল কুমার এবং রাজমোহন অরুমুগম এবং সেঙ্গোত্তিয়ান। বিজয়ের মন্ত্রিসভায় দু’জন চিকিৎসক, এক জন কৌতুকশিল্পী, এক জন প্রাক্তন আমলা, এক জন টিভিকে ফ্যান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি।

এন আনন্দ: তিনি বিজয়ের ফ্যান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন। বিজয় যখন রাজনীতিতে আসেননি, তখন থেকেই তিনি ফ্যান ক্লাবের সভাপতি। টিভিকে দলটিকে তৈরি নেপথ্যে আনন্দের ভূমিকা অনস্বীকার্য। পরবর্তী কালে তিনি টিভিকে-র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তিনি আবার দলের মুখপাত্রও। চেন্নাইয়ের ত্যাগরাজনগর আসনে ডিএমকে প্রার্থী রাজা আনবাজ়াগনকে ৫১ হাজার ভোটে হারিয়ে বিধায়ক হয়েছেন।

আদভ অর্জুন: তিনি প্রাক্তন বাস্কেটবল খেলোয়াড়। জাতীয় স্তরে খেলেছেন। এক জন ক্রীড়াবিদ হিসাবে পরিচিতির পাশাপাশি তাঁর আরও একটি পরিচয়ও রয়েছে। অর্জুন এক জন ভোটকুলশী, সমাজসেবী। আগের বার তামিলনাড়ুর নির্বাচনে ডিএমকে-র হয়ে ভোটের রণকৌশলের কারিগর ছিলেন। ডিএমকে-র জয়ের নেপথ্যে মূল ভূমিকা ছিল অর্জুনের। এ বার তিনি বিজয়ের মন্ত্রিসভার সদস্য। ভিল্লিভক্কম আসন থেকে জিতেছেন।

এস কীর্তন: তামিলনাড়ুর শিবকাশীর যুবক। বিজয়ের মন্ত্রিসভার সবচেয়ে কনিষ্ঠ মন্ত্রী তিনি। শিবকাশী আসন থেকে জিতে বিধায়ক হয়েছেন তিনি। এই শিবকাশীই বাজি কারখানার জন্য বিখ্যাত গোটা দেশে। হিন্দি ভাষায় কথা বলতে অত্যন্ত স্বচ্ছন্দ্য। রাজনীতির তৃণমূল স্তর থেকে লড়াই করে উঠে এসেছেন। গণিতে স্নাতক এবং রাশিবিদ্যায় স্নাতকোত্তর। কাজ করেছেন রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসাবেও।

কেজি অরুণরাজ: তিনি চিকিৎসক। আবার প্রাক্তন আমলাও। তিনি টিভিকে-র নীতিনির্ধারকের দায়িত্বে ছিলেন। নামাক্কল জেলার তিরুচেঙ্গুরু থেকে জিতে বিধায়ক হয়েছেন।

টিকে প্রভু: অরুণরাজের মতো তিনিও এক জন চিকিৎসক। প্রভু এক জন দন্তচিকিৎসক। কারাকুরি আসন থেকে জিতে বিজয়ের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেয়েছেন।

সেঙ্গোত্তাইয়ান: এডিএমকে-র অন্যতম প্রবীণ নেতা। গত বছর দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল তাঁকে। নির্বাচনের আগে বিজয়ের সঙ্গে হাত মেলান। তার পর টিকিটও পান এবং জিতে বিজয়ের মন্ত্রিসভার সদস্য হয়েছেন।

পি বেঙ্কটরমণন: তিনি টিভিকে-র কোষাধ্যক্ষ। প্রথম বারের বিধায়ক। নিজে এক জন আইনজীবী। এ ছাড়াও ২০০০ সাল থেকে বিজয়ের ম্যানেজার হিসাবে কাজ করেছেন। ফলে বিজয়ের সঙ্গে বেঙ্কটরমণনের ঘনিষ্ঠতা দীর্ঘ সময়ের। মায়লাপুর আসন থেকে এ বার জিতে বিধায়ক হয়েছেন।

নির্মল কুমার: টিভিকে-র সমাজমাধ্যম এবং তথ্যপ্রযুক্তি সেলের ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারি। মাদুরাইয়ের তিরুপরানকুন্দ্রম আসনে জিতেছেন তিনি।

রাজমোহন অরুমুগম: তিনি এক জন অভিনেতা। কৌতুকশিল্পী এবং মোটিভেশনাল স্পিকার। এগমোর থেকে জিতেছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, এ বার তামিলনাড়ুর নির্বাচনে বিজয়ের টিভিকে পেয়েছে ১০৮টি আসন। তবে বিজয় দু’টি আসনে জিতেছেন। তাঁর একটি আসন ছেড়ে দিলে আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৭। কিন্তু সরকার গঠনের জন্য দরকার ছিল ১১৮। আর এখানেই শুরু হয় নম্বরের খেলা। টিভিকে-কে কে সমর্থন দেবে, কে দেবে না, শর্তসাপেক্ষে সমর্থন— সব মিলিয়ে একটা টানাপড়েনের সৃষ্টি হয়। ফল ঘোষণার পর পাঁচ দিন ধরে সেই টানাপড়েন চলে। অবশেষে কংগ্রেস, ভিসিকে, সিপিআই, সিপিএম এবং ইউনিয়ন মুসলিম লিগের সমর্থনে সরকার গঠন করেন বিজয়। রবিবার মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নেন তিনি।

Tamil Nadu
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy