২০২৫ সালে ‘ধুরন্ধর’ ও ‘ছাওয়া’ মুক্তি পাওয়ার পর থেকে আবার আলোচনায় অভিনেতা অক্ষয় খন্নার অভিনয়। এই আবহে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর বেশ কিছু পুরনো সাক্ষাৎকারও। আবার অনেক অভিনেতাই অক্ষয়ের সঙ্গে নিজেদের কাজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছেন। শান্ত, সংযত এবং অল্প কথার অক্ষয়ই নাকি এক বার শুটিং সেটে রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন। এক উঠতি অভিনেতার সঙ্গে হওয়া আচরণে বেশ বিরক্ত হন তিনি। সম্প্রতি অভিনেতা অমিত বহল শোনালেন এমনই এক ঘটনা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অমিত জানান, একটি ছবির শুটিং চলাকালীন এমনই ঘটনা ঘটেছিল। ছবির এক চরিত্রাভিনেতাকে মূল কলাকুশলীদের থেকে আলাদা একটি হোটেলে রাখা হয়েছিল। বাকিদের মতো বিপুল পরিচিতি বা ‘তারকা’ তকমা না থাকার কারণেই আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছিল তাঁর জন্য। একদিন ওই অভিনেতা মূল কলাকুশলীদের হোটেলে দুপুরের খাবার খেতে যান। সেখানে তখন উপস্থিত ছিলেন অক্ষয় নিজেও।
অমিতের কথায়, ওই অভিনেতা হোটেলের বুফে থেকে খাবার নিয়ে সবে মুখে তুলতে যাবেন, এমন সময় তাঁকে থামিয়ে দেওয়া হয়। ছবির প্রযোজকের স্ত্রী বা কোনও আত্মীয় দেখতে পান যে, ওই অভিনেতা ‘মূল ইউনিট’-এর সদস্য নন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি নাকি দাবি করেন যে, ওখানকার খাবার ওই অভিনেতার জন্য নয়। কিছুক্ষণ পরে প্রযোজনা সংস্থার এক জন এসে সরাসরি অভিনেতাকে বলেন, “আপনি এই খাবার খেতে পারবেন না।”
স্বাভাবিক ভাবেই খাবার হাতে কাউকে এমন বললে তিনি অপমানিত বোধ করবেন। ওই কথা শুনে অভিনেতাও চুপচাপ প্লেট নামিয়ে এক পাশে গিয়ে বসেন। দূর থেকে পুরো বিষয়টি দেখতে পান অক্ষয়। অমিত জানান, এর পরেই প্রবল চটে যান তিনি। প্রযোজক থেকে শুরু করে সেখানে উপস্থিত সকল কলাকুশলীকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন অক্ষয়। অমিতের কথায়, “অক্ষয় সাধারণত খুব কম কথা বলেন। কিন্তু সে দিন তিনি বুঝিয়ে দেন খিদে পেটে থাকার আসল অর্থ। সম্মান কাকে বলে, তা নিয়েও কথা বলেন। সেই দিন বুঝেছিলাম, সহ-অভিনেতাদের প্রতি তিনি কতটা সংবেদনশীল এবং গভীর ভাবে ভাবেন।”
অমিতের কথায়, “অক্ষয় বলেছিলেন, ‘একটা ছবি কতগুলো প্লেট বা খাবারের পরিমাণ দিয়ে তৈরি হয় না, মানুষের আশীর্বাদ দিয়েই একটা ছবি তৈরি হয়।’ সেদিন মনে হয়েছিল, এই চুপচাপ থাকা মানুষটার অন্দরের আগ্নেয়গিরি জেগে উঠেছে।”