শরবতের প্রতি বাঙালির টান আজকের নয়। সে বাড়িতে অতিথি এলে হোক বা গরমের দিনে পেট ঠান্ডা রাখতে, শরবতই ছিল প্রথম পছন্দ। প্যাকেটের ফলের রস, নরম পানীয় বা বাজারের সিন্থেটিক শরবত সেখানে ভাগ বসালেও, আজও অনেক বাড়িতেই শরবত বানিয়ে খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। উত্তর-পশ্চিম ভারতে এক ধরনের শরবত খুব জনপ্রিয়। সেটি হল ভারিয়ালি শরবত। গুজরাত, রাজস্থানের মানুষ এ শরবত খুব পছন্দ করেন। গরমের দিনে পেট ঠান্ডা রাখতে ভারিয়ালির চাহিদা পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম ভারতে বেশি।
ভারিয়ালি গুজরাতি শব্দ, বাংলায় এর অর্থ মৌরি। মৌরি, মিছরি, বিটনুন এ সব দিয়েই তৈরি হয় ভারিয়ালি। কোনও কৃত্রিম রং বা প্রিজ়ারভেটিভ মেশানো হয় না এতে। গুজরাত, রাজস্থানের আবহাওয়া শুষ্ক। গরম থেকে বাঁচতে সেখানে ভারিয়ালি শরবত খাওয়ার চল রয়েছে। মহারাষ্ট্রের কিছু অংশেও ভারিয়ালির জনপ্রিয়তা রয়েছে। হজমশক্তি বাড়াতে এবং গ্যাস-অম্বলের সমস্যা কমাতেও পানীয়টি খুবই উপকারী।
আরও পড়ুন:
কী ভাবে বানাবেন ভারিয়ালি?
উপকরণ
আধ কাপ মৌরি
২ চামচ চিনি বা মিছরি
৩-৪টি এলাচ
সামান্য বিটনুন
১ চামচ লেবুর রস
১ চামচ ভাজা জিরেগুঁড়ো
প্রয়োজনমতো ঠান্ডা জল
বরফ কুচি
প্রণালী
প্রথমে মৌরি ভাল করে ধুয়ে নিন। এর পর মৌরি এবং মিছরি সামান্য জল দিয়ে ৩-৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। সবচেয়ে ভাল হয় আগের দিন রাতে মৌরি ও মিছরি ভিজিয়ে রাখলে। ভেজানো মৌরি, মিছরি ও এলাচ ভাল করে বেটে নিন। খুব মিহি করে বাটতে হবে। মিশ্রণটি তৈরি হয়ে গেলে একটি পাতলা কাপড় বা বড় ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে নিতে হবে যাতে মৌরির খোসাগুলি আলাদা হয়ে যায়। এই ঘন মিশ্রণের সঙ্গে ঠান্ডা জল মিশিয়ে তাতে অল্প বিটনুন ও ভাজা জিরেগুঁড়ো মিশিয়ে দিতে পারেন স্বাদের জন্য। এ বার বরফকুচি মিশিয়ে পরিবেশন করুন। চাইলে উপরে পুদিনাপাতাও ছড়িয়ে দিতে পারেন।