শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষার 'ওএমআর' শিট নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করল স্কুল সার্ভিস কমিশন। রাজ্যে পালাবদলের পরেই কমিশনের এই পদক্ষেপ নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে শিক্ষা মহলে। যদিও জানা গিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রেক্ষিতে এই শিট প্রকাশ করা হল। এর পরেই যোগ্য প্রার্থীদের চাকরিতে ফের পুনর্বহাল করার দাবি উঠল। যদিও নির্দিষ্ট রোল নম্বর দিয়ে তবেই ওএমআর শিট দেখা যাবে।
২০১৬ সালে নবম থেকে দ্বাদশ স্তরের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সিবিআই তদন্ত শুরু করে। সূত্রের খবর, তদন্তের সময়ে গাজিয়াবাদ থেকে সিবিআই যে হার্ডডিস্ক উদ্ধার করে সেখানে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের সব ওএমআর শিট পাওয়া যায়। এরপর ২০২৫ এর ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্টে সেটি পেশ করে সিবিআই এবং তারা দাবি করে যে এই ওএমআর শিট নির্ভুল। এর পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির দায়ে পুরো প্যানেল বাতিল করে সর্বোচ্চ আদালত।
যোগ্য শিক্ষকদের জন্য আন্দোলনকারী শিক্ষকদের তরফে জানানো হয়েছে, এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশে নবম-দশম স্তরের ওএমআর শিট প্রকাশ করেছিল স্কুল সার্ভিস কমিশন। তবে সেটা ছিল শুধু ‘এম্প্যানেল্ড’ এবং ‘ওয়েটিং’ ক্যান্ডিডেটদের। দাগি প্রার্থীদের একটি মামলার কারণে অতীতে কলকাতা হাইকোর্ট একাদশ-দ্বাদশ এর ওএমআর প্রকাশ করতে নিষেধ করেছিল এবং মুখবন্ধ খামে তা হাইকোর্টে জমা দিতে বলেছিল। ফলে ওএমআর শিট আর প্রকাশিত হয়নি। তার পরে প্যানেল বাতিল হওয়ার পরে আর কোনও শিট প্রকাশ করেনি কমিশন। গত ২৫ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে আদালত অবমাননার একটি মামলায় ডিভিশন বেঞ্চ কমিশনকে নির্দেশ দেয় যে আগামী ১১ মে ২০২৬ এর মধ্যে ওএমআর শিট প্রকাশ করতে হবে। এবারে সেই সেটাই প্রকাশ করল কমিশন।
যোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চের তরফে মেহবুব মণ্ডল দাবি তুলেছেন, " নবনির্বাচিত সরকার এই সামগ্রিক বিষয় তুলে ধরে কোর্টের মাধ্যমে আমরা যারা নিষ্কলঙ্ক শিক্ষক-শিক্ষিকা আছি, তাদের চাকরি ফিরিয়ে আনুক।" ওই সংগঠনের তরফে ধীতীশ মণ্ডল বলেন, " এই প্রকাশিত ওএমআর-এর ভিত্তিতে নবনির্বাচিত সরকার যোগ্য এবং অযোগ্য আলাদা করে ২০১৬ সালের যোগ্যদের পুনর্বহাল করুক। এটাই আমাদের একান্ত অনুরোধ।"
একই দাবি তুলেছে শিক্ষক সংগঠন শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, " ওএমআর প্রকাশের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যোগ্যদের সবাইকে তাঁদের পুরনো জায়গায় সসম্মানে পুনর্বহাল করুক। একজনও যেন নিরপরাধ শাস্তি না পায় তা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।"
যদিও বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল প্রশ্ন তুলেছেন, নতুন সরকার আসতেই এটা প্রকাশ করা হল। এত দিন সেটা প্রকাশিত হয়নি কেন? তাছাড়া তিনি জানান সেই অর্থে এটা পাবলিক ডোমেনে দেওয়া হল না। কারণ এটা শুধু প্রার্থীরা নিজেরাই দেখতে পারবেন। সকলে দেখতে পাবেন না। লিংক খোলার জন্য নির্দিষ্ট রোল নম্বরের প্রয়োজন। স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদারকে এ দিন ফোনে পাওয়া যায়নি।