Advertisement
E-Paper

একাদশে পরিচিতি হয় শিক্ষাবিজ্ঞানের সঙ্গে, স্নাতক পড়ার সুযোগ কেমন? চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা কেমন?

দ্বাদশের পর কোন বিষয় বেছে নেবেন, তা আগে থেকেই স্থির করে ফেলেন বেশির ভাগ পড়ুয়া। মাধ্যমিকের পরই বেছে নেওয়া বিভাগ, তার পর এগিয়ে যাওয়া নির্দিষ্ট লক্ষ্যে। কী পড়বেন, কী ভাবে পড়বেন, রইল তার প্রাথমিক রূপরেখা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ মে ২০২৬ ০৮:৫৯
‘এডুকেশন’ নিয়ে পড়বেন কেন?

‘এডুকেশন’ নিয়ে পড়বেন কেন? — প্রতীকী চিত্র।

একাদশে প্রথম পরিচয় ঘটতে পারে শিক্ষাবিজ্ঞান বিষয়টির সঙ্গে। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের অধীনে বহু দশক ধরে চলে আসছে এই বিষয়ের পাঠ। মূলত কলা বিভাগে এই বিষয়টি পড়ানো হয়ে থাকে। তবে অনেকেই স্নাতক-স্নাতকোত্তর স্তরে শিক্ষাবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতে চান। গত কয়েক বছরে এই বিষয় নিয়ে পড়াশোনার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আদৌ কি এই বিষয়ে নিয়ে পড়ার কোনও ভবিষ্যৎ রয়েছে?

বিষয়ের খুঁটিনাটি

‘এডুকেশন’ বা ‘শিক্ষাবিজ্ঞান’ এমন একটি বিষয় যেখানে রাশিবিজ্ঞান, সমাজবিদ্যা, মনোবিদ্যা-সহ শিক্ষা সংক্রান্ত সমাজের সকল বিষয়েরই পাঠ দেওয়া হবে। কেন পড়াশোনা প্রয়োজন, কেন কোনও বিশেষ বিষয় কাউকে আকর্ষণ করে সেই তত্ত্বের পাশাপাশি পাঠ্যক্রম থাকে পঠনপাঠন পদ্ধতি এবং শিক্ষাব্যবস্থার খুঁটিনাটি।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশন বিভাগের শিক্ষক বিজয়কৃষ্ণ পান্ডা বলছেন, ‘‘শিক্ষাবিজ্ঞান এমন একটি বিষয় যা শিক্ষা সংক্রান্ত নানা বিষয় ও পদ্ধতি বিশ্লেষণ করে। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতিতে প্রযুক্তির ব্যবহার, শিক্ষার মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য, মূল্যবোধ এবং আন্তর্জাতিক সৌভাতৃত্ব গড়ে তোলা যায়—তার পাঠও মেলে।’’

পড়ার সুযোগ

শিক্ষাবিজ্ঞান নিয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর স্তর এবং গবেষণারও সুযোগ রয়েছে। স্কুল স্তরে রাজ্য সরকার অধীনস্থ স্কুলগুলিতেই এডুকেশন পড়ানো হয়। সিবিএসই বা অন্য মাধ্যমের বোর্ডে এই বিষয়টি স্কুল স্তরে সে ভাবে অন্তর্ভুক্ত নেই। তাই শুধুমাত্র রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে কলা মাধ্যমে এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

শিক্ষামহলের একাংশের মতে, এই কারণেই বিষয়টি এখনও তুলনামূলক ভাবে পিছিয়ে রয়েছে। তবে জাতীয় স্তরে এবং বিভিন্ন রাজ্যের শিক্ষা পর্ষদ শিক্ষাবিজ্ঞানকে পৃথক বিদ্যাচর্চার শাখা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় উচ্চমাধ্যমিক স্তরে বিষয়টির জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে বাড়ছে।

কী ভাবে এগোবে পড়াশোনা

উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ‘শিক্ষাবিজ্ঞান’ বিষয় নিয়ে পড়াশোনার পর স্নাতক স্তরে শিক্ষাবিজ্ঞানকে মেজর বিষয় হিসাবে বাছাই করা যেতে পারে। এরই পাশে রাশিবিজ্ঞান, অর্থনীতি, মনোবিদ্যা, সমাজবিদ্যা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন, কম্পিউটার সায়েন্স, ইতিহাসের মতো বিভিন্ন বিষয়কে মাইনর হিসাবে রাখলে ভাল। কারণ তাতে সরাসরি ‘শিক্ষাবিজ্ঞান’ বিষয়ের ব্যবহারিক পরিধি বৃদ্ধি পাবে।

শিক্ষকতা ও গবেষণা

কর্মক্ষেত্রে শিক্ষক এবং অধ্যাপক হওয়ার পাশাপাশি এডুকেশন বিষয়ে গবেষণার পরিধি অনেকটাই বিস্তর। এই বিষয় নিয়ে বিদ্যালয় স্তরে পড়াশোনার করে যেমন উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে তেমনি দেশে এবং বিদেশে রয়েছে ফেলোশিপ নিয়ে গবেষণার সুযোগ। শিক্ষক-শিক্ষণ পদ্ধতির মান উন্নয়ন নয়, তুলনামূলক শিক্ষাপদ্ধতি, শিক্ষা প্রযুক্তিবিজ্ঞান, পাঠক্রম প্রণয়ন, মানসিক স্বাস্থ্য, রাশিবিজ্ঞান, শিক্ষা-অর্থনীতি, শিক্ষাব্যবস্থাপনা ও প্রশাসন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, শিক্ষক-শিক্ষণ, মূল্যবোধ ও শান্তিপ্রতিষ্ঠার শিক্ষা— এ সব যুগোপযোগী এবং কার্যকরী দিকগুলো ‘শিক্ষাবিজ্ঞান’ বিষয়ের অন্তর্গত। গত কয়েক দশকে দেশে বা বিদেশে এ বিষয়ে গবেষণার সুযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিজয়কৃষ্ণ বলেন, ‘‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ যে সর্বাঙ্গীন বিকাশের কথা বলছে, ‘শিক্ষাবিজ্ঞান’ নিয়ে পড়াশোনা করে তার অন্তর্নিহিত অর্থ উপলব্ধি করতে পারা যাবে। তা কার্যকরী করা যাবে যাঁরা স্নাতক অথবা স্নাতকোত্তর স্তরে পড়াশোনা করে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে চান, তাঁদের জন্য সুযোগ রয়েছে।’’

কাজের সুযোগ

যে কোনও সর্বভারতীয় স্তরের চাকরির পরীক্ষায় যোগ্যতা অর্জনের পাশাপাশি সাব-ইন্সপেক্টর অফ স্কুলস, বিদ্যালয় এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা, পাঠক্রম বিশেষজ্ঞ, ইনস্ট্রাকশনাল ডিজ়াইনার, এডুকেশনাল কন্সালট্যান্ট, এডুকেশনাল পলিসি ডিজ়াইনার, শিক্ষা-প্রযুক্তি এবং ই-লার্নিং বিশেষজ্ঞ, সমাজবৈজ্ঞানিক গবেষক, পাবলিক রিলেশন এক্সপার্ট, এডুকেশনাল কাউন্সেলর, শিক্ষাপ্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞর মত আকর্ষণীয় ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়া যায়।

Admission 2026
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy