E-Paper

চন্দ্রনাথ খুন: আগরায় গোয়েন্দারা

পুলিশ সূত্রের খবর, খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়িটির সূত্রে পুলিশের একটি দল প্রথম উত্তরপ্রদেশ যায়। গাড়িটিতে যে নম্বরপ্লেট লাগানো ছিল সেটির সঙ্গে শিলিগুড়ির বাসিন্দা এক ব্যক্তির গাড়ির নম্বরপ্লেটের হুবহু মিল রয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ মে ২০২৬ ০৯:০৩
চন্দ্রনাথ রথ।

চন্দ্রনাথ রথ। — ফাইল চিত্র।

তিন দিন পরেও চন্দ্রনাথ রথের খুনের ঘটনায় কাউকেই গ্রেফতার করতে পারল না পুলিশ। ধোঁয়াশা কাটল না এই ঘটনার একাধিক দিক নিয়ে। এর মধ্যেই উত্তরপ্রদেশের আগরায় পুলিশের একটি দল নতুন করে হানা দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, মোবাইলের সিম কার্ড বদলে বদলে ‘অপারেশন’ সংগঠিত করা হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত তদন্তে এমনই ইঙ্গিত মিলছে। যদিও এ ব্যাপারে পুলিশের কোনও স্তর থেকেই স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। রাজ্য পুলিশ সূত্রের খবর, এই ঘটনার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যাওয়া নিয়ে জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে এ দিন। শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর তাঁর ব্যক্তিগত সহায়ক চন্দ্রনাথকে খুনের ঘটনার তদন্ত গতি পায় কি না, সে দিকেই নজর থাকছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত গাড়িটির সূত্রে পুলিশের একটি দল প্রথম উত্তরপ্রদেশ যায়। গাড়িটিতে যে নম্বরপ্লেট লাগানো ছিল সেটির সঙ্গে শিলিগুড়ির বাসিন্দা এক ব্যক্তির গাড়ির নম্বরপ্লেটের হুবহু মিল রয়েছে। সামনে আসে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একটি গাড়ি কেনাবেচার অ্যাপ নির্ভর সংস্থায় বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন গাড়িটি বিক্রি করার জন্য। উত্তরপ্রদেশের এক ব্যক্তি গাড়িটি কিনবেন বলে অনেক দূর পর্যন্ত কথাবার্তা চালান। কিন্তু পরে কেনেননি। ওই ব্যক্তির সঙ্গে খুনের ঘটনার কোনও যোগ রয়েছে কি না, জানতে পুলিশ উত্তরপ্রদেশ যায়। কিন্তু তদন্তে উঠে এসেছে, ওই ব্যক্তি পুরনো গাড়ি কেনাবেচার ব্যবসায় যুক্ত। কিন্তু খুনের ঘটনায় তাঁর জড়িত থাকার কোনও প্রমাণ মেলেনি। ফলে কোথা থেকে খুনে ব্যবহৃত গাড়ি ও মোটরবাইকগুলি আততায়ীরা পেয়েছিল সে নিয়ে রহস্য কাটেনি।

পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে টাওয়ার ডাম্পিং পদ্ধতি ব্যবহার করছিল। তাতে সন্দেহভাজন বেশ কয়েকটি নম্বর তদন্তকারীরা পেয়েছেন। খুনের ঘটনাস্থলের আশপাশে সেগুলির উপস্থিতি দেখা গিয়েছে। কিন্তু তদন্তে এগিয়ে পুলিশকে ধাক্কা খেতে হচ্ছে, নম্বরগুলি দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার না হওয়ায়। এক তদন্তকারী অফিসারের কথায়, ‘‘এক একটি নম্বরের অল্প কিছুক্ষণের ফুটপ্রিন্ট মিলছে। অর্থাৎ কিছুক্ষণ ব্যবহার করেই সেই নম্বরের সিম বন্ধ করে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।’’ এই পথে তদন্তকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীদের একাংশ। খুনে ব্যবহৃত গাড়ি ও মোটরবাইকগুলি ফেলে রেখে যাওয়ার ধরন দেখেও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা বলে মনে করছে পুলিশ।

এই সূত্রেই পুলিশের একটি দল আগরায় পৌঁছেছে। গাড়ির রহস্য নিয়ে পুলিশের একাংশের দাবি, প্রথমে মনে করা হয়েছিল, যে গাড়িটি বাজেয়াপ্ত হয়েছে সেটি চোরাই গাড়ি। তবে এহেন পুরনো গাড়ি কিনে বা চুরি করে ‘অপারেশন’-এর ধরন বিহার ও উত্তরপ্রদেশের গ্যাংয়ের মধ্যে দেখা যায় বলে মনে করেন তদন্তকারীরা। এ রাজ্যে বিটি রোডে ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো, বরানগরে সোনার দোকানে ডাকাতি থেকে শুরু করে বহু ঘটনাতেই এমন গাড়ি ও বাইক ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছিল বিহারের কুখ্যাত দুষ্কৃতী সুবোধ সিংহের গ্যাংকে। সিনিয়র পুলিশ কর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, যে কোনও ‘অপারেশন’-এর আগে ভাল দামি গাড়ি অনলাইন কেনা-বেচা সংস্থা বা অন্য কোনও জায়গা থেকে জোগাড় করে সুবোধ-গ্যাং। সেই গাড়িতেই রেকি থেকে অপারেশন— পুরোটাই চলে। মধ্যমগ্রামের ক্ষেত্রে তেমনটাই হয়েছে কি না সেটা দেখা হচ্ছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

police investigation Chandranath Rath CID

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy