Advertisement
E-Paper

চেনা ভূগোলের ছকে এখন প্রযুক্তির পদবিক্ষেপ! স্নাতক পডুয়ার হাতে রয়েছে কী কী সুযোগ?

দ্বাদশের পর কোন বিষয় বেছে নেবেন, তা আগে থেকেই স্থির করে ফেলেন বেশির ভাগ পড়ুয়া। মাধ্যমিকের পরই বেছে নেওয়া বিভাগ, তার পর এগিয়ে যাওয়া নির্দিষ্ট লক্ষ্যে। কী পড়বেন, কী ভাবে পড়বেন, রইল তার প্রাথমিক রূপরেখা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ ০৯:০৬
উচ্চ মাধ্যমিকের পর ভূগোল পড়ার ভবিষ্যৎ কী?

উচ্চ মাধ্যমিকের পর ভূগোল পড়ার ভবিষ্যৎ কী? ছবি: সংগৃহীত।

পৃথিবীর আকৃতি কেমন— ভূগোলের প্রাথমিক পাঠে উঠে আসে এই প্রশ্ন। পৃথিবী ঠিক গোলাকার নয়। কেউ কেউ বলেন পৃথিবী নাকি ন্যাশপাতির মতো। গোলক পৃথিবীর উত্তরে-দক্ষিণে খানিক চাপা। আসলে পৃথিবীর আকৃতি ঠিক পৃথিবীর মতো। কয়েক শতাব্দী ধরে একটু একটু করে বদলেছে পৃথিবীকে দেখার পদ্ধতি, বদলেছে পৃথিবীকে চেনার ধরন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির ফলে ভূগোলের ভোল বদলে গিয়েছে অনেকখানি। বদলে গিয়েছে পাঠ্যক্রম, পঠনপাঠন পদ্ধতি এবং অবশ্যই প্রয়োগ।

দ্বাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান, কলা বা বাণিজ্য বিভাগ থেকে যে কোনও পড়ুয়া স্নাতকে বেছে নিতে পারেন ভূগোল। সে ক্ষেত্রে কী ভাবে এগোবে পড়াশোনা। প্রথাগত বিষয়ভিত্তিক ভূগোল পাঠের বাইরে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পঠনপাঠন কতখানি সহায়ক হবে জীবিকা নির্বাচনে, তা-ও জেনে রাখা প্রয়োজন।

স্নাতকে কারা পড়তে পারবেন ভূগোল

যে কোনও বিভাগ থেকেই পড়ুয়ারা ভূগোল পড়া যায়। তবে স্নাতক স্তরের ভূগোলে নানা ধরনের অঙ্ক কষতে হয়। তাই দ্বাদশে গণিত থাকলে ভাল হয়। অঙ্কে আগ্রহ না থাকলে উচ্চ শিক্ষায় সমস্যা হতে পারে।

শুধু গণিত নয়, ভূগোলে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে অর্থনীতি, সমাজবিদ্যা বিষয়ে জ্ঞান থাকলে সুবিধা হতে পারে।

পড়াশোনার সুযোগ কোথায়

বিষয় অনুযায়ী ভূগোল স্নাতকে বিএ বা বিএসসি ডিগ্রি দেওয়া হয়। এক একটি প্রতিষ্ঠান এক এক ভাবে এই ডিগ্রি দিয়ে থাকে। যেমন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএ এবং বিএসসি— দু’প্রকার ডিগ্রিই দেওয়া হয়। আবার যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি এবং উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে তা পড়ানো হয় বিএসসি ডিগ্রির আওতায়। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল স্নাতকে দেওয়া হয় বিএ ডিগ্রি।

এ ছাড়াও, স্কুল অফ প্ল্যানিং অ্যান্ড আর্কিটেকচার, ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর পপুলেশন সায়েন্সেস-এর মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভূগোলে স্পেশ্যালাইজ়েশন করার সুযোগ রয়েছে। তবে দেশের একাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও ভূগোলের বিশেষপত্র পড়ানো হয়।

চার বছর স্নাতকের পর কোন পথে পড়ুয়ারা

পড়ুয়ারা স্নাতক পড়তে পড়তেই বুঝে নিতে পারবেন পরবর্তীতে কোন পথে এগোবেন। ওশানোগ্রাফি, রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট, ডিজ়াস্টার ম্যানেজমেন্ট, রিজিয়োনাল প্ল্যানিং অথবা আরবান প্ল্যানিং, জিয়োইনফরমেটিক্স, মেটিয়োরোলজি, হাইড্রোলজি বা ওয়াটারশেড ম্যানেজমেন্ট-এর মতো বিষয়গুলি নিয়ে স্পেশ্যালাইজ়েশন করার সুযোগ থাকে চার বছরের পাঠ্যক্রমেই। আর তার পর সরকারি নানা ক্ষেত্র যেমন— মেটিয়োরোলজি বিভাগ, জিয়োলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া, ম্যাপিং বা জিয়োইনফরমেটিক্সের কাজ করে সার্ভে অফ ইন্ডিয়া, ন্যাশনাল ডিজ়াস্টার ম্যানেজমেন্ট, সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন, মিনিস্ট্রি অফ এনভায়রনমেন্ট, ফরেস্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ বিভাগে চাকরির সুযোগ খোলা থাকে।

এ প্রসঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলের শিক্ষক অরিজিৎ মজুমদার বলেন, ‘‘ভূগোল পড়লে শিক্ষকতা, অধ্যাপনা বা গবেষণার পাশপাশি নানা ধরনের পেশায় যুক্ত হওয়া যায়। পাঠ্যক্রমের ধরন বদলে গিয়েছে।”

ধরা যাক কোনও কৃষি জমিতে স্থাবর নির্মাণ করা যায় কিনা, অথবা নদীর বুকে সেতু তৈরি জন্য কী পরিকল্পনা প্রয়োজন। এই কাজের জন্য প্রয়োজন হয় এনভায়রনমেন্টাল অডিটরের। এই পেশাতেও অগ্রাধিকার পান ভূগোলের ছাত্রছাত্রীরা। বহু বেসরকারি এবং সরকারি সংস্থায় এনভায়রনমেন্টাল অডিটিং-এর কর্মী নিয়োগ করা হয়।

শিক্ষক-শিক্ষিকারা মনে করছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিষয়কেন্দ্রিক পড়াশোনার থেকে অনেকটাই এগিয়ে এসেছে ভূগোল। চার বছর ভূগোল অনার্স বা অনার্স উইথ রিসার্চ পড়ার পর এই সংস্থাগুলিতে চাকরির সুযোগ খোলা থাকে, তেমনই গবেষণার পথও বেছে নিতে পারেন। এ দেশে আইআইটি প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভূগোলের ছাত্রছাত্রীরা গবেষণার সুযোগ পেয়ে থাকেন। সে ক্ষেত্রে ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি টেস্ট অথবা স্টেট এলিজিবিলিটি টেস্ট উত্তীর্ণ হতে হবে। ভূগোল পড়ে জিয়োম্যাট্রিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে গ্র্যাজুয়েট অ্যাপ্টিটিউড টেস্ট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আশুতোষ কলেজের ভূগোলের শিক্ষক সায়নী মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ভূগোল গতিশীল বিষয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদল হয়েছে পাঠ্যক্রমেও। এখন প্রথাগত পাঠ্যক্রমে যুক্ত হয়েছে জিআইএস, রিমোট সেন্সিং-এর মতো একাধিক প্রযুক্তিগত বিষয়। যার ফলে সার্বিক পরিকল্পনার জায়গা উন্নত হয়েছে।”

কাজের দিশা

জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, পাইথন এবং সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুক্ত হওয়ার কর্মক্ষেত্রের অনেকগুলি দিক খুলে গিয়েছে। জিআইএস অ্যানালিস্ট, রিমোট সেন্সিং বিশেষজ্ঞ, মানচিত্র বিশেষজ্ঞ, পরিবেশগত পরামর্শদাতা হিসাবে বেসরকারি সংস্থাগুলিতে কাজে নিযুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে। ভূগোল নিয়ে উচ্চস্তরে পড়ে ইসরো-র মতো সংস্থায় কাজের সুযোগও পাওয়া যায়। জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ায় বা বন বিভাগেও চাকরির সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। বিদেশে ভূগোল পড়ুয়াদের গবেষণার জন্য সব থেকে ভাল সুযোগ রয়েছে। কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানী-সহ একাধিক দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভারত থেকে ভূগোলের ডিগ্রি নিয়ে গবেষণা করছেন। পাশাপাশি নিজস্ব কোনও সংস্থা তৈরির ক্ষেত্রে সুবিধা রয়েছে ভূগোল পড়ুয়াদের। কেউ জিআইএস, রিমোট সেন্সিং-এর কাজ জেনে নিজস্ব ম্যাপ তৈরির কাজ করতে পারেন। আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে নতুন উদ্ভাবনের লক্ষ্যেও নিজেদের স্বাধীন ভাবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

প্রযুক্তি জ্ঞানের সংযুক্তি

শিক্ষকদের অনেকেই মনে করেন, প্রথাগত পড়াশোনার পাশে প্রযুক্তির শিক্ষাও প্রয়োজন। শুধু পড়ুয়া নন, একজন শিক্ষকেরও এ বিষয়ে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।

পাইথন কী ভাবে ভূগোলের সঙ্গে যুক্ত, তা যদি একজন শিক্ষক না জানেন তা হলে তিনি পড়াতেও পারবেন না। তাই নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাঠ্যক্রম যেমন বদল হচ্ছে তেমন শিক্ষকদেরও নিজেদের তৈরি করা খুব দরকার।

Geography
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy