করোনার পরই কাজ চলে গিয়েছিল বাবার। আর কোনও উপায় হয়নি তাঁর রোজগারের। বাধ্য হয়েই মা ধরেছিলেন সংসারের হাল। শাড়ির পাড়-আঁচল সেলাই করে সামান্য রোজগার করেন তিনি। ছেলের পড়াশোনার খরচ জোগানোই মুশকিল। তবু, হার মানতে নারাজ গভর্নমেন্ট স্পনসর্ড মাল্টিপারপাস স্কুল (বয়েজ), টাকি হাউসের স্পন্দন পান্ডা। এ বার মাধ্যমিকে সে পেয়েছে ৬৫১।
স্কুলশিক্ষকেরাও স্পন্দনের সাফল্যে খুশি। একই সঙ্গে গর্বিত। তবে শুধু পড়াশোনা নয়, স্পন্দন ভালবাসে লেখালিখি করতে, বক্তৃতা দিয়ে, তর্ক করে বা কুইজ়ের উত্তর দিয়ে পুরস্কার নিয়ে আসতেও স্কুলে তার জুড়ি নেই। কিন্তু ভবিষ্যতে স্পন্দন চায় প্রাণিবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করতে। মাধ্যমিকে জীবনবিজ্ঞান ও ভৌতবিজ্ঞানে ৯৭ পেয়েছে স্পন্দন।
স্পন্দন জানায়, ইতিমধ্যেই সে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছে নিজের স্কুলে। স্কুল শিক্ষকদের সহায়তাতেই এত দূর এগিয়েছে, দাবি স্পন্দনের। সে বলে, “প্রধানশিক্ষিকা স্বাগতা বসাক এর আগেও আমার ফি মুকুব করেছেন। একাদশেও ভর্তি হয়েছি বিনামূল্যে। স্কুল শিক্ষকেরাই আমাকে পড়িয়েছেন বিনা পারিশ্রমিকে।”
প্রধানশিক্ষিকা বলেন, ‘‘স্পন্দন শুধু পড়াশোনা নয়, কুইজ থেকে শুরু করে নানা ক্ষেত্রে পারদর্শী। কলকাতা আইএসআই এবং খড়্গপুর আইআইটি গিয়েও পুরস্কার নিয়ে এসেছে। অর্থের অভাবে ও পিছিয়ে পড়বে এটা আমরা কোনও দিন হতে দিইনি। আমাদের সকলেক গর্ব স্পন্দন। স্কুল সব সময়ে ওর পাশে আছে। ও শুধু এগিয়ে যাক।’’
পরিবারের আর্থিক সঙ্গতি না থাকলেও ছেলে পড়াশোনায় অনেক দূর এগিয়ে যাক এটাই চান বাবা ও মা। স্পন্দন জানায়, শুধু বিজ্ঞান নয় তার সাহিত্য প্রেম অগাধ। বাংলা ও ইংরেজি সব রকমের সাহিত্যের প্রতিই তার আকর্ষণ। তবে এই ছোট্ট বয়সেই সে জেনে গিয়েছে মানুষের জন্য ভাল কিছু করতে হলে সংগঠনের প্রয়োজন। সেই সংগঠনের জন্য রাজনীতির পক্ষে সে। তার কথায়, ‘‘মানুষের ভালর জন্য যে রাজনীতি সেটাতেই আমি আগ্রহী।’’
অন্য দিকে সুন্দরবনের কাছাকাছি খোজখিদির গ্রামের বাসিন্দা কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাইস্কুলের ছাত্র শুভজিৎ নস্কর ৯০ শতাংশের উপরে নম্বর পেয়ে মাধ্যমিক পাশ করেছে। বাবা হলদিয়ায় কাজ করেন দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে। প্রবল অর্থ কষ্টের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে সফ্টঅয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় সে। প্রিয় বিষয় গণিত নিয়ে আরও চর্চা করার ইচ্ছা রয়েছে তার। স্কুলের প্রধান শিক্ষক চন্দন মাইতি বলেন, ‘‘শুভজিৎ অত্যন্ত পরিশ্রমী ও মেধাবী ছাত্র। আমরা সব রকমের সাহায্য করছি। উপযুক্ত সহযোগিতা পেলে সে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হবে।’’