আর্টিস্ট ফোরামের সহকারী কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে পদত্যাগ করলেন অভিনেতা দিগন্ত বাগচী। আনন্দবাজার ডট কম-কে এ কথা জানিয়েছেন তিনি। ফোরামের পক্ষ থেকে চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, দিগন্তের ইস্তফা গ্রহণ করেছে সংগঠন। তবে তাঁকে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়নি।
প্রতি মাসের দ্বিতীয় রবিবার সংগঠনের সাধারণ বৈঠক বসে। এ দিনও বৈঠক বসেছিল টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োতে। উপস্থিত ছিলেন সভাপতি রঞ্জিত মল্লিক, কার্যকরী সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সহ-সভাপতি চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী, ভরত কল, সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, সহ-সম্পাদক চন্দন সেন, রানা মিত্র, যুগ্ম সম্পাদক দেবদূত ঘোষ, আবীর চট্টোপাধ্যায়, কোষাধ্যক্ষ বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়-সহ সদস্যরা। নানা বিষয়ের পাশাপাশি এ দিন দিগন্তের ইস্তফার প্রসঙ্গটিও ওঠে। এর পর সেটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
শনিবার রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এ দিন রাতেই তাঁর ইস্তফাপত্র মেল করে পাঠিয়ে দেন দিগন্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় অভিনেতাকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচারে যোগ দিতে দেখা গিয়েছে। তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে ‘দিদি ঘনিষ্ঠ’ হিসাবেই পরিচিত। কোনও রাজনৈতিক চাপ আসাতেই কি পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন দিগন্ত? পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, তিনি নাকি ইন্ডাস্ট্রির অনেককে হুমকি দিতেন। ৭ মে-র পর আর্টিস্ট ফোরাম ভেঙে দেবেন, এমনই নাকি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছিলেন। এ সবও কি তাঁর ইস্তফার নেপথ্য কারণ? প্রশ্ন করেছিল আনন্দবাজার ডট কম।
আরও পড়ুন:
দিগন্ত সবিস্তার জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “৮ ফেব্রুয়ারি সংগঠনের নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে আমি সহকারী কোষাধ্যক্ষের পদ পাই। কিন্তু সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ যেহেতু মতামত দিতে পারেননি, তাই ১৪ ফেব্রুয়ারি আমি প্রথম ইস্তফা দিই। সেই সময় রঞ্জিতবাবু, বুম্বাদা (প্রসেনজিৎ), চিরঞ্জিৎদা, শান্তিলালদা নতুন কমিটি গঠনের পরেই ইস্তফা দিতে বারণ করেন। ওঁদের কথা মেনে নিয়েছিলাম।” এর পর রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু, তার জন্য থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের— এ সবে ব্যস্ত হয়ে পড়ে সংগঠন। শনিবার রাতে দিগন্তের মনে হয়েছে, কেউ কিছু বলার আগেই তাঁর সরে যাওয়া উচিত। অভিনেতার কথায়, “আমি কাউকে হুমকি দিইনি। কোনও রাজনৈতিক দলও আমায় পদত্যাগ করতে বাধ্য করেনি। নিজের বিবেকের কাছে পরিষ্কার থাকতেই আমার পদত্যাগ।” আরও জানিয়েছেন, আগামী দিনে শুধুমাত্র সদস্য হিসাবে তিনি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে টলিউডের অনেককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভরতের বিরুদ্ধেও। এ প্রসঙ্গে কী বলছেন তিনি? বর্ষীয়ান অভিনেতাকে এ দিন ফোনে ধরা যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন চিরঞ্জিৎ। তিনি সাফ বলেছেন, “এরকম কোনও অভিযোগ ভরত বা দিগন্তের বিরুদ্ধে নেই। কেউ সংগঠনকে সেরকম কোনও অভিযোগ জানাননি। ফলে, বিষয়টির সত্যতা নিয়ে আমাদেরও সন্দেহ রয়েছে।” পাশাপাশি এ-ও জানিয়েছেন, দিগন্ত ছাড়া এই মুহূর্তে সংগঠনের আর কেউ পদত্যাগ করেননি।