বিধানসভা নির্বাচন শেষ। বিজেপির হয়ে ভোটে লড়ে জয়ী আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। এই মুহূর্তে ব্যস্ততা তুঙ্গে তাঁর। তার ফাঁকেই আনন্দবাজার ডট কম-কে জানালেন, মিমি চক্রবর্তীর বনগাঁকাণ্ডের মামলার কথা ভোলেননি তিনি। যথা সময়ে আদালতে উঠবে মামলাটি।
এ প্রসঙ্গে তরুণজ্যোতি আরও বলেন, “কিছুই ভুলিনি। সব মনে আছে। মাঝে বিধানসভা নির্বাচন গিয়েছে। ভোটে জিতেছে দল। শনিবার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী শপথ নিলেন। আপাতত বিধানসভা নিয়ে খুবই ব্যস্ত। এই পর্ব মিটলেই বিষয়টিতে হাত দেব।” আইনজীবী এ-ও জানান, বনগাঁকাণ্ডের মামলা শীঘ্রই আদালতে উঠবে। আইনত যা যা করার সব করবেন তিনি।
মিমিকে নিয়ে গণ্ডগোলের সূত্রপাত চলতি বছরের জানুয়ারিতে। বনগাঁর এক মঞ্চানুষ্ঠানে অভিনেত্রীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে বচসা বাধে মিমি চক্রবর্তী এবং তনয় শাস্ত্রীর মধ্যে। তনয়ের অভিযোগ, মিমির আসার কথা ছিল রাত সাড়ে ১০টায়। তিনি এসে পৌঁছোন রাত পৌনে ১২টায়। ফলে, মিনিট পনেরো পরে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে অনুষ্ঠান শেষ করতে বাধ্য হন তিনি।মঞ্চে উঠে সে কথা জানাতেই ‘অপমানিত’ বোধ করেন অভিনেত্রী। তিনি অভব্য আচরণের পাল্টা অভিযোগ তোলেন অনুষ্ঠানের আয়োজক তনয়ের বিরুদ্ধে। জলঘোলা হতে হতে বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত।
এর পর দোলের আগের দিন, অর্থাৎ ২ মার্চ বনগাঁ আদালতে মিমির বিরুদ্ধে জোড়া মামলা দায়ের করেন অভিযোগকারী তনয় শাস্ত্রী। সেই সময় অভিযোগকারীর আইনজীবী তরুণজ্যোতি আনন্দবাজার ডট কম-কে বলেছিলেন, “মানহানি মামলায় ২০ লক্ষ টাকা দাবির পাশাপাশি অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। মিমি নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠানে না এসেও ২ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছেন। দ্বিতীয় মামলা তারই ভিত্তিতে।”
আরও পড়ুন:
তরুণজ্যোতি আরও জানান, মিমির আচরণ যথার্থ ছিল না। প্রথমত, তিনি অনেক দেরিতে অনুষ্ঠানে আসেন। মাত্র ১৫ মিনিট অনুষ্ঠান করেন। রাত ১২টার পরে অনুষ্ঠানের অনুমতি ছিল না। ফলে, অনুষ্ঠান ওই সময়ের মধ্যেই শেষ করতে হয়। মিমি সমস্ত দোষ অকারণে তনয়ের উপরে চাপিয়েছেন। মিথ্যা অভিযোগে তরুণজ্যোতির মক্কেলকে সংশোধনাগারে পাঠিয়েছেন। তনয় তাই তাঁর সঙ্গে ঘটা অন্যায়ের বিধান চান। আইনজীবীর আরও মত, “ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন মিমি। নিজে দোষ করে অন্যায় ভাবে তনয়কে হেনস্থা করছেন। এর বিহিত হওয়া দরকার।”