ভারত-মার্কিন প্রস্তাবিত বাণিজ্যচুক্তির রূপরেখা নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা করলেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়ল। বৃহস্পতিবার গোয়ল জানান, মার্কিন বাণিজ্যসচিব হাওয়ার্ড লুটনিক এবং ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেছেন। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক সম্প্রসারণের দিশানির্দেশ নিয়ে আলোচনার অগ্রগতি হয়েছে বলেও সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে জানিয়েছেন তিনি।
গত ২ ফেব্রুয়ারি রাতে (ভারতীয় সময়) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য-সমঝোতার কথা ঘোষণা করেছিলেন। ভারতীয় পণ্যে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। এর পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য-সমঝোতার কথা জানান। সে সময় গোয়ল জানিয়েছিলেন, মার্চ মাসে প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত হবে। কিন্তু গত ২০ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে, জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য ব্যবহৃত আইনকে হাতিয়ার করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে নতুন আন্তর্জাতিক শুল্পনীতি প্রণয়ন করেছিলেন, তা অবৈধ। মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের একক ভাবে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার নেই বলেও জানিয়েছে সে দেশের শীর্ষ আদালত।
এই পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত বাণিজ্যচুক্তির আইনি খসড়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ওই রায়ের পরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, বিভিন্ন দেশের পণ্যের উপর ১৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে। যদিও মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) শুল্ক এবং সীমান্ত রক্ষা (ইউনাইটেড স্টেটস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন) এজেন্সি জানিয়েছে, আপাতত ১০ শতাংশ হারেই শুল্ক নেওয়া হবে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন বাণিজ্যসচিব এবং রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের কথা জানিয়ে সমাজমাধ্যমে গোয়ল লিখেছেন, ‘‘এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উভয় দেশই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির প্রথম পর্যায়ের আইনি কাঠামো চূড়ান্ত করে ফেলতে সক্রিয় হয়েছে।’’ প্রসঙ্গত, বাণিজ্য-সমঝোতা নিয়ে গত এক বছর ধরে আলোচনা চলছে ভারত এবং আমেরিকার। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মোদীর ওয়াশিংটন সফরের পর থেকে দু’দেশের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছিল। শুল্ক ঘিরে জটিলতার মাঝে তা থমকেও ছিল। পরে আবার তা শুরু হয়। এখনও পর্যন্ত বেশ কয়েক দফায় দু’দেশের মধ্যে তা নিয়ে বৈঠক হয়েছে। কিন্তু এখনও চূড়ান্ত হয়নি চুক্তির খসড়া।