বিভিন্ন দেশের পণ্যের উপর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা বেআইনি বলে ঘোষণা করেছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। ট্রাম্প অবশ্য তাতে দমেননি। কড়া ভাষায় আদালতের সমালোচনা করেছেন এবং পাল্টা আরও ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। আদালতের নির্দেশের পর কি এত দিনের শুল্ক বাবদ আয়ের টাকা ফেরত দিয়ে দিতে হবে ট্রাম্প প্রশাসনকে?
মার্কিন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কাজটা এত সহজ হবে না। জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য ব্যবহৃত আইন প্রয়োগ করে বিভিন্ন দেশের উপর আমদানি শুল্ক চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প। আদালত তাকে বেআইনি বলেছে। এই শুল্কই ছিল ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম স্তম্ভ। ফলে টাকা ফেরত পাওয়ার রাস্তা দীর্ঘ হতে পারে।
আরও পড়ুন:
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত আন্তর্জাতিক আমদানি শুল্ক বাবদ ট্রাম্পের আয় হয়েছে ১৩.৩৫ হাজার কোটি ডলার। শুল্ককে বেআইনি বললেও টাকা ফেরতের বিষয়টি স্পষ্ট করেনি আমেরিকার আদালত। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে নিম্ন আদালতগুলি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আমেরিকার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতের উপরেও বিষয়টি ছাড়া হতে পারে। তবে নিজে থেকে যে টাকা ফেরত চলে আসবে না, তা একপ্রকার নিশ্চিত। বিশেষজ্ঞেরা মনে করছেন, যাঁরা ট্রাম্প প্রশাসনকে শুল্কবাবদ দেওয়া টাকা ফেরত চান, তাঁদের মামলা করতে হবে আমেরিকার আদালতে।
ইতিমধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরুও হয়ে গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর হাজারের বেশি সংস্থা টাকা ফেরতের জন্য আইনি লড়াই শুরু করেছে। এ বিষয়ে মার্কিন সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘‘আগামী পাঁচ বছর ধরে আমাদের সকলকে কোর্টের চক্কর কেটে বেড়াতে হবে।’’
আদালতের নির্দেশের পর ট্রাম্পের পাল্টা ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়টিকে অর্থনৈতিক চাল হিসাবে দেখছেন অনেকে। মার্কিন আইন উল্লেখ করে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ১২২ নম্বর ধারার অধীনে আরোপিত স্বাভাবিক শুল্কের উপরে ১০ শতাংশ আন্তর্জাতিক (গ্লোবাল) শুল্ক তিনি আরোপ করছেন। শুল্ক আরও বাড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
বস্তুত, ১০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আরোপের সময় ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ১২২ নম্বর ধারার কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এই ধারাও মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া বেশি দিন বলবত থাকবে না। সর্বোচ্চ ১৫০ দিন এই শুল্ক কার্যকর হতে পারে। তার পরেও তা চালিয়ে যেতে চাইলে কংগ্রেসের অনুমোদন আনতে হবে ট্রাম্পকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের রায় ট্রাম্পের শুল্কনীতির জন্য এক নতুন অধ্যায় রচনা করল।