Advertisement
E-Paper

‘বিরল পেশাদারি সাহসিকতা’! আই-প্যাক কর্ণধার প্রতীকের বাড়িতে তল্লাশি চালানো সেই কর্তাকে বিশেষ পুরস্কার ইডির

শুক্রবার দিল্লিতে ৭০তম ইডি দিবস পালিত হয়। সেখানেই কোনও না কোনও বিশেষ অবদানের জন্য প্রশান্ত-সহ সংস্থার পাঁচ কর্তাকে পুরস্কৃত করা হয়। প্রশান্ত পুরস্কার পেয়েছেন কলকাতায় অভিযানের জন্য।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ১৮:১৫
(বাঁ দিকে) ফাইল হাতে আই-প্যাক কর্তার বাড়ি থেকে বেরোনোর পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া ইডি আধিকারিক প্রশান্ত চান্ডিলা (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) ফাইল হাতে আই-প্যাক কর্তার বাড়ি থেকে বেরোনোর পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া ইডি আধিকারিক প্রশান্ত চান্ডিলা (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কলকাতায় তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের দফতর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিলেন যে আধিকারিক, তাঁকে পুরস্কৃত করল ইডি। ‘বিরল পেশাদারি সাহসিকতা’র পরিচয় দেওয়ার জন্য বিশেষ সম্মান পেয়েছেন ইডি আধিকারিক প্রশান্ত চান্ডিলা। কেন্দ্রীয় সংস্থার অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর পদে রয়েছেন তিনি।

১ মে ইডির প্রতিষ্ঠা দিবস। ১৯৫৬ সালে এই সংস্থা যাত্রা শুরু করেছিল। শুক্রবার দিল্লিতে ৭০তম ইডি দিবস পালিত হয়। সেখানেই প্রশান্ত-সহ সংস্থার পাঁচ কর্তাকে পুরস্কৃত করা হয় কোনও না কোনও বিশেষ অবদানের জন্য। প্রশান্তকে মঞ্চে ডাকার পর সঞ্চালক বলেছেন, ‘‘কলকাতার একটি অভূতপূর্ব অভিযানে প্রশান্ত ব্যতিক্রমী, পেশাদারি সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। বুদ্ধিদীপ্ত তৎপরতায় নিখুঁত পঞ্চনামা (সিজ়ার লিস্ট) প্রস্তুত করেছেন, যা পরে সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে আমাদের অন্যতম মূল প্রমাণ হিসাবে কাজে লেগেছে।’’ উল্লেখ্য, পুরস্কার দেওয়ার সময় আই-প্যাকের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

ইডি দিবসে প্রতি বছরই কিছু আধিকারিককে পুরস্কার দেওয়া হয়। ইডি সূত্রে খবর, যে পাঁচ আধিকারিক শুক্রবার ইডি দিবসে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছেন, তাঁরা সকলেই অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর পদমর্যাদার। এঁদের মধ্যে তিন জনই আই-প্যাক মামলার সঙ্গে যুক্ত। প্রশান্ত ছাড়া পুরস্কার পেয়েছেন বিক্রম অহলওয়াট নামের এক কর্তা। তিনিও কলকাতায় ইডির অভিযানে ছিলেন। সল্টলেকে আই-প্যাকের দফতরে তল্লাশির সময় ইডির প্রতিনিধিদলের ছিলেন এই বিক্রম। এ ছাড়া, আই-প্যাকের ডিরেক্টর বিনেশ চান্দেলকে যে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল, তার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত এক আধিকারিককেও পুরস্কৃত করা হয়েছে।

গত জানুয়ারিতে কয়লা পাচার মামলার তদন্তে কলকাতায় অভিযান চালিয়েছিল ইডি। লাউডন স্ট্রিটে প্রতীকের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিল তারা। সেই দলের নেতৃত্বে ছিলেন প্রশান্ত। এ ছাড়া, আর একটি দল গিয়েছিল সল্টলেকে আই-প্যাকের দফতরে। তল্লাশি চলাকালীন সেখানে হাজির হন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রতীকের বাড়িতে ঢুকে ইডি আধিকারিকদের সামনে থেকে কিছু নথিপত্র নিয়ে বেরিয়ে আসেন। সল্টলেকেও গিয়েছিলেন মমতা। এই ঘটনার জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে তাদের নির্বাচনী কৌশল, নথিপত্র ‘চুরি’ করার পরিকল্পনা করেছিল বিজেপি। আবার ইডি দাবি করেছিল, মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁদের তল্লাশি অভিযানে বাধা দিয়েছেন এবং নথি ‘ছিনতাই’ করে নিয়ে গিয়েছেন। ঘটনার পর প্রশান্তের বয়ান অনুযায়ী ইডি একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছিল। পরে তা-ই সুপ্রিম কোর্টে তুলে ধরা হয়। শুক্রবার পুরস্কার বিতরণের সময় প্রশান্তের পঞ্চনামার (সিজ়ার লিস্ট) উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর কাজ প্রশংসিত হয়েছে ইডির অন্দরে।

ED Enforcement Directorate I-Pac
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy