E-Paper

বিজেপি-তৃণমূলের সেতু গড়েও কাজিয়া অনামী দলে  

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের প্রতি বিদ্রোহ করে দলের নির্বাচিত ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন মিলে এনসিপিআই-এ যোগ দিয়েছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ০৯:১৫
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

নির্বাচন কমিশনের খাতায় নথিভুক্ত কিন্তু স্বীকৃত দল নয়। বছর চারেক আগে দল তৈরির পরে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া প্রথম বছরের জমা-খরচের হিসেবে হাতে ছিল ৭৫ টাকা! পঞ্চায়েত, পুরসভা বা কোনও বিধানসভায় প্রতিনিধি নেই। সেই ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ার (এনসিপিআই) হাতেই এখন ২০ জন সাংসদ! এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে সাংসদ-সংখ্যার নিরিখে অনামী এই দলই বৃহত্তম!

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের প্রতি বিদ্রোহ করে দলের নির্বাচিত ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন মিলে এনসিপিআই-এ যোগ দিয়েছেন। অর্থাৎ তৃণমূলের লোকসভার দলের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি অংশ মিশে গিয়েছে অচেনা ওই দলে। বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পরে তাদের বিধায়ক ও সাংসদদের গতিবিধি যেমন রহস্যে মোড়া, এনসিপিআই নামক অপরিচিত দলটির কাহিনিও তেমন নাটকীয়। দলের সভাপতি হিসেবে নাম রয়েছে শিউলি কুণ্ডুর। পেশায় তিনি আইনজীবী, তবে সেই সঙ্গে এমএসসি, এমবিএ-র মতো নানা ডিগ্রি তাঁর রয়েছে। শিউলির দাবি, দল প্রতিষ্ঠার পরে তাঁরা এনডিএ-রই সমর্থক ছিলেন, ত্রিপুরার বিধানসভা ভোটে তাঁদের দল লড়েওছিল। তবে তিনি নিজে মাসখানেক আগে দলের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। দলের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) পদাধিকারী পরিচয়ে শান্তনু দে দাবি করছেন, তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদেরা এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়ার ঘোষণা করার পরে তাঁরা জানতে পেরেছেন। অথচ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী তিনিই! নেতা এলে, লোকজন এলে দল বড় হবে বলে মন্তব্য করেও তাঁর দাবি, যে কোনও সিদ্ধান্ত আলোচনা করেই নেওয়া উচিত। আবার শিউলির পাল্টা দাবি, শান্তনুর এমন কোনও পদ ছিল না, তাঁর দায়িত্ব শুধু ত্রিপুরাতেই সীমাবদ্ধ ছিল!

পুরনো নথিতে শিউলিদের দলের সহ-সভাপতি হিসেবে নাম ছিল তাঁরই স্বামী উত্তীয় কুণ্ডুর। তাঁরও পত্রিকা সম্পাদক, অঙ্কের শিক্ষক, যোগ শিক্ষার স্বেচ্ছাসেবক-সহ বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় উল্লেখ করা আছে! বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নিজের ছবি সমাজমাধ্যমে দিয়েছিলেন তিনি। আর সোমবার ওই দলের সমাজমাধ্যমের পাতায় বিক্ষুব্ধ তথা যোগদানকারী তৃণমূল সাংসদদের ছবি দিয়ে তাঁদের স্বাগত জানানো হয়েছে। হাওড়ার সাঁকরাইলের গ্রাম হাটগাছার ঠিকানায় থাকা প্রায় লুকনো এমন এক দল বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে কী ভাবে সেতু গড়ে ফেলল, সেই চর্চাই ঘুরছে দিল্লি থেকে কলকাতার রাজনৈতিক শিবিরে!

রাতারাতি দলের তহবিলে ২০ জন সাংসদ জমা হওয়ার পরে সাঁকরাইলের হাটগাছায় এনসিপিআই-এর রাজ্য কার্যালয়ের বাইরে এ দিন উৎসুক ভিড় দেখা গিয়েছে। নামানো হয়েছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীও। এলাকার বাসিন্দা রবীন পালের বক্তব্য, ‘‘এই বাড়ি যে কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়, তা আমরা কোনও দিন জানতে পারিনি। দেখতাম, এই বাড়ি থেকে এক দম্পতি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পরিচালনা করেন। এখন এনসিপিআই বলে একটি দলের কার্যালয় জানতে পেরে দেখতে এসেছি!’’ এই দলের হয়ে গত ২০২৩ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রার্থী মিন্টু বেরা জানাচ্ছেন, এনসিপিআই মূলত ত্রিপুরার একটি রাজনৈতিক দল।

যদিও বিস্ময় গোপন না-করে বিজেপি-শাসিত ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা আগরতলায় বলছেন, ‘‘এই রাজনৈতিক দলের বিষয়ে কিছুই জানা ছিল না। গত কাল হঠাৎ করে এই দলের নামটি সামনে এল। কে কাকে কোন জায়গা থেকে ধরে আনছে, কিছুই বোঝা যাচ্ছে না! দেখা যাক, আগামী দিনে কী হয়!’’

এই বঙ্গে বিজেপি ও তৃণমূল, দুই শিবিরেরই খবর রাখা এক নেতা অবশ্য বলছেন, ‘‘কে ছিলেন, কোথায় ছিলেন, সে সব এখন অতীত। এ বার কারা কোথায় আসবেন, সব অন্যত্র ঠিক হয়ে গিয়েছে!’’ জানেন না শুধু শিউলি-শান্তনুরাই! অন্তত তাঁদের মুখের কথা তেমনই।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TMC BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy