আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও লেবানন থেকে সেনা সরাবে না ইজ়রায়েল। সোমবার দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া একটি বক্তৃতায় এমনটাই জানালেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, “লড়াই এখনও শেষ হয়নি। আমাদের দেশকে রক্ষা করতে যত দিন প্রয়োজন, তত দিন আমরা সেখানে (লেবানন) থাকব।” নেতানিয়াহুর এই ঘোষণার পরেই শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ শান্তিচুক্তির অন্যতম শর্ত হিসাবে লেবাননে ইজ়রায়েলি হামলা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে ইরান। সে ক্ষেত্রে ইজ়রায়েল অনমনীয় অবস্থান নিলে ইরান পাল্টা কোনও শর্ত চাপায় কি না, সে দিকেই নজর সকলের।
আমেরিকা-ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই পড়শি লেবাননের দক্ষিণে নাগাড়ে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজ়রায়েল। তাদের নিশানায় ইরানের সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লা। মূলত দক্ষিণ ইজ়রায়েলের প্রভাব রয়েছে এই গোষ্ঠীটির। হিজ়বুল্লা দমনে দক্ষিণ লেবাননকে ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ বলে ঘোষণা করেছে ইজ়রায়েল। তবে কেবল দক্ষিণ লেবাননই নয়, সে দেশের রাজধানী বেইরুটি এবং সংলগ্ন অঞ্চলেও বোমাবর্ষণ করার অভিযোগ রয়েছে ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন:
মার্চ মাসে ইরানে যৌথ হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। তার পরেই তেহরানের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে ইজ়রায়েলে হামলা চালায় হিজ়বুল্লা। ইজ়রায়েল পাল্টা হামলা চালালে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির পাশে দাঁড়ায় ইরান। সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে মরিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুর লেবানন-নীতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ‘অ্যাক্সিওস’-সহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, নেতানিয়াহুকে ফোন করে ট্রাম্প জানিয়ে দেন যে, হিজ়বুল্লার বিরুদ্ধে ইজ়রায়েল সংঘাত চালিয়ে গেলে আমেরিকা তার দায় নেবে না।
অন্য দিকে, কোন কোন শর্তে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হতে চলেছে, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তবে ইরান একাধিক বার স্পষ্ট করেছে যে, শান্তির পথে এগোতে হলে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে ইজ়রায়েলকে। নেতানিয়াহু বুঝিয়ে দিলেন, তিনি সেই শর্ত মানছেন না। নেতানিয়াহুর ‘অনমনীয়তার’ কারণে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে হওয়া দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ভেস্তে যাবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে ইজ়রায়েল এবং লেবানন জড়়িয়ে পড়লেও তারা সরাসরি এই চুক্তির অংশ নয়। এর আগে ওয়াশিংটনে ইজ়রায়েল এবং লেবাননের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক ভাবে শান্তিবৈঠক হয়েছিল আমেরিকার। কিন্তু লেবানন সরকারকে আবার স্বীকারই করে না বিদ্রোহী হিজ়বুল্লা গোষ্ঠী।
এই আবহে সোমবার আমেরিকা এবং ইরান শান্তিচুক্তি থেকে দূরত্ব বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই বোঝাপড়া করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং আমেরিকা। এটা ওঁর (ট্রাম্প) সিদ্ধান্ত। আমাদের নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে।” কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, লেবাননে সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার নেপথ্যে নেতানিয়াহুর নিজস্ব স্বার্থও রয়েছে। কারণ চলতি বছরের শেষেই ইজ়রায়েলে নির্বাচন হবে। ওই ভোটে জিততে মরিয়া নেতানিয়াহু দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও নমনীয়তার বার্তা দিতে চান না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
২৩:১৬
শুরুতেই ভিন্ন সুর ইজ়রায়েলের, পরমাণু প্রকল্প, হরমুজ় ঘিরেও ধোঁয়াশা! স্বস্তির চেয়ে চ্যালেঞ্জই বেশি ট্রাম্প-ইরান শান্তিচুক্তিতে -
সুবিধাবাদী নীতিতে সাপ-ব্যাঙ দু’পক্ষকেই ‘চুমু’ খেয়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ! ‘আম-ছালা’ দুই-ই হারিয়ে এখন কাঁদছে ধনকুবের আরব রাষ্ট্র
-
২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চূড়ান্ত হবে শান্তিচুক্তি! শাহবাজ় শরিফের দাবির মাঝেই আবার লেবাননে বিমানহানা চালাল ইজ়রায়েল
-
ইরানকে সমঝোতার জন্য পাঁচটি প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প, রাজি মোজতবাও? হরমুজ়, পরমাণু চুক্তি-সহ তালিকায় আর কী
-
‘ইঞ্জিনরুম লক্ষ্য করে পর পর ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছি’! ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজে তৃতীয় হামলার পর বিবৃতি আমেরিকার