শান্তিসমঝোতায় ইরানকে কোনও আর্থিক সাহায্য দেওয়া হচ্ছে না। এমনটাই দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঘটনাচক্রে, সোমবার ফিনান্সিয়াল টাইম্স জানায়, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি হয়ে গেলে সে দেশে বিনিয়োগের জন্য ৩০ হাজার কোটি ডলারের তহবিল গড়ার কথা ভাবছে আমেরিকা। পরে সেই খবর সংবাদ সংস্থা রয়টার্সও প্রকাশ করে। তার পর পরই ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে দাবি করেন, ইরানকে কোনও আর্থিক সাহায্য দেওয়া হচ্ছে না।
আমেরিকা-ইরান চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিতে কী কী বিষয় উল্লেখ থাকছে, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের দাবি, শুক্রবার চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার আগেই তা প্রকাশ্যে আনা হবে। এরই মধ্যে সোমবার ফিনান্সিয়াল টাইম্স জানায়, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত সইসাবুদ মিটে গেলে তেহরানের জন্য ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি তহবিল গঠন করতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন। এই তহবিল সরাসরি ইরানের সরকারকে দেওয়া হবে না। ইরানে বিনিয়োগে আগ্রহী সংস্থাগুলির জন্য এই তহবিল তৈরি করার পরিকল্পনা চলছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই সংস্থাগুলিকেই এই তহবিল থেকে সাহায্য করা হবে যাদের আগ্রহ শুধু বিনিয়োগেই, ইরানের সরকার নিয়ে নয়।
এর পরে মঙ্গলবার সকালে (ভারতীয় সময়ে) ট্রাম্প একটি পোস্ট করেন নিজের সমাজমাধ্যম হ্যান্ডলে। সেখানে তিনি দাবি করেন, ইরানকে আমেরিকা ৩০ হাজার কোটি ডলার দিচ্ছে বলে যে খবর ছড়িয়েছে, তা ঠিক নয়। তাঁর বিরোধী রাজনৈতিক শিবির ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এই খবর ছড়াচ্ছে বলে দাবি ট্রাম্পের। তবে ইরান যে নিজেদের কাছে পরমাণু অস্ত্র না রাখতে রাজি হয়েছে, সে কথা মেনে নিয়েছেন ট্রাম্প।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ‘ফিনান্সিয়াল টাইম্স’ যে রিপোর্টটি প্রকাশ করেছে, তাতে বলা হয়েছে তহবিলটি ইরান সরকারের জন্য নয়, বরং ইরানে বিনিয়োগে আগ্রহী বিভিন্ন সংস্থার জন্য খোলার পরিকল্পনা চলছে। ট্রাম্প তাঁর বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ইরানকে কোনও অর্থ দিচ্ছে না আমেরিকা। তবে ইরানে বিনিয়োগে আগ্রহী সংস্থাগুলির জন্য আমেরিকা কোনও তহবিল খোলার পরিকল্পনা করছে কি না, সে বিষয়ে সমাজমাধ্যম পোস্টে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি।
উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার শান্তিসমঝোতা নিয়ে এখনও বেশ কিছু ক্ষেত্রে ধোঁয়াশা রয়েছে। সোমবার একটি মউ স্বাক্ষর হয়েছে দু’দেশের। তবে দেড় পাতার ওই মউ-কে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন না মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভান্স নিজেই। তাঁর দাবি, মউ স্বাক্ষরপত্রটি খুবই সাধারণ একটি নথি। চুক্তির সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলি আলোচনা করেই চূড়ান্ত করা হবে। ফলে ট্রাম্পের এই ঘোষণার নেপথ্যে অন্য কোনও কূটনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।