দিল্লির মালব্যনগরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তিন তরুণীর সঙ্গে জাতিবিদ্বেষমূলক আচরণের অভিযোগ ধৃত দম্পতিকে বুধবার ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠাল আদালত। অরুণাচল প্রদেশের দুই বিজেপি নেতা— কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু জানিয়েছেন, কোনও অবস্থাতেই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষদের প্রতি জাতিবিদ্বেষমূলক আচরণ বরদাস্ত করা হবে না। রিজিজু বলেন, ‘‘যাঁরা উত্তর-পূর্বের মানুষের উপর এই ধরণের অপরাধ করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
ওই তিন তরুণীর বাড়ি অরুণাচল প্রদেশে। কর্মসূত্রে দিল্লিতে ভাড়ার ফ্ল্যাটে থাকেন। ওই আবাসনের এক পরিবারের সঙ্গে গত শুক্রবার দুপুরে বচসা হয় তাঁদের। তরুণীদের পাঁচ তলার ফ্ল্যাটে কোনও বৈদ্যুতিন যন্ত্র বসানোর কাজ চলছিল। তার জন্য দেওয়াল ফুটো করা হচ্ছিল। ওই সময় ধুলো এবং কিছু পাথরের টুকরো নীচেরতলায় গিয়ে পড়ে। তাতেই আপত্তি জানান চারতলার এক ফ্ল্যাটের বাসিন্দা। তরুণীদের বক্তব্য, ওই পরিবার তাঁদের ভাল ভাবেই বিষয়টি বলতে পারত। কিন্তু তা না-করে দম্পতি চড়াও হন তিন তরুণীর উপরে।
ওই বচসার কিছু ভিডিয়ো ইতিমধ্যে সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে (যার সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। একটি ভিডিয়োয় অভিযুক্ত মহিলাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “তোমরা কি এখানে মাসাজ পার্লার চালাও! রাতে পার্টি হয়, কারা আসে!” তখন ওই তরুণীদের মধ্যে এক জন জোর দিয়ে বলেন, কোথায় আসে আমরা কী ভাবে জানব! আপনারা সিসি ক্যামেরা ঘেঁটে দেখুন। আমাদের ফ্ল্যাটে কেউ আসে কি না, তা হলেই বুঝতে পারবেন।” তার পরেও অভিযুক্ত মহিলা চিৎকার করতে থাকেন তাঁদের উদ্দেশে। এমনকি উত্তর-পূর্বের মহিলাদের নিয়েও বিভিন্ন কটূ মন্তব্য করতে শোনা যায় মহিলাকে।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানাচ্ছে, অপর একটি ভিডিয়োয় অভিযুক্তকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “তোমরা কি যৌনকর্মী! তোমরা এখানে কিসের ব্যবসা করো? তোমরা কি বাড়িতে মাসাজ পার্লার খুলে রেখেছো?” শুধু ওই মহিলাই নয়, তাঁর স্বামীও ওই তরুণীদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। একটি ভিডিয়োয় মহিলার স্বামীকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “উত্তর-পূর্ব থেকে এসে এখানে নোংরামি করছেন ওঁরা।” শুক্রবারের ওই ধৃত দম্পতির বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ভিন্ন ভিন্ন ধারায় এফআইআর রুজু করেছে মালব্যনগর থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, তরুণীদের উপরে কোনও শারীরিক আক্রমণ হয়নি। তবে যে ভাবে কুকথা বলা হয়েছে তাঁদের, তাতে তাঁরা মানসিক হেনস্থার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। রিজিজু বুধবার বলেন, ঘটনাটি নজরে আসার পরে তিনি নিজে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে দোষীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথা বলেছিলেন।