দিল্লির কড়কড়ডুমা আদালতের ডিস্ট্রিক্ট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটির পূর্ণাঙ্গ সচিব তথা বিচারক আমনকুমার শর্মার (৩০) অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্ত্রী ও শ্যালিকার বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা রুজু করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাল পরিবার। আজ রাজস্থানের অলওয়ারে আমনের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
সফদরজং এনক্লেভ থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৮ এবং ৬১(২) ধারায় দায়ের করা এফআইআরে নাম রয়েছে আমনের স্ত্রী স্বাতী এবং শ্যালিকা নিধি মালিকের। নিধি জম্মু-কাশ্মীর ক্যাডারের আইএএস অফিসার। তাঁর স্বামী দিল্লি পুলিশের পদস্থ আইপিএস অফিসার হলেও বর্তমানে তাঁরা আলাদা থাকেন। পরিজনের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে একান্ত ব্যক্তিগত ও দাম্পত্য জীবনে শ্যালিকার ‘মাত্রাতিরিক্ত হস্তক্ষেপ’ এবং মানসিক নির্যাতনে ভেঙে পড়েছিলেন আমন। যদিও আমনের শ্বশুরবাড়ির তরফে এই সমস্ত অভিযোগের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে খবর, গত কাল দুপুরে দক্ষিণ দিল্লির গ্রিন পার্কের বাবার কিনে দেওয়া ফ্ল্যাটের শৌচাগার থেকে আমনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগের রাতে আমন রাজস্থানে থাকা বাবাকে ফোন করে জীবন নিয়ে বীতশ্রদ্ধ হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন সকালে স্বাতী তাঁর শ্বশুরের সঙ্গে চূড়ান্ত দুর্ব্যবহার করে তাঁকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন ও পুলিশ ডাকার হুমকি দেন। তা সহ্য করতে না পেরে আমন শৌচাগারে ঢুকে আত্মঘাতী হন বলে দাবি পরিবারের। দরজা ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় এক নিরাপত্তারক্ষী মই বেয়ে জানালার কাচ ভেঙে ভিতরে ঢোকেন। উদ্ধার করে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে গেলে জানা যায়, আমনের মৃত্যু হয়েছে।
২০১৮ সালে পুণের ল স্কুল থেকে স্নাতক হওয়ার পরে আমন ২০২১ সালে বিচারক হিসেবে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। সতীর্থ স্বাতীকেই জীবনসঙ্গিনী হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে আমনের স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন। আজ আমনের শেষকৃত্যে প্রায় ২০ জন প্রবীণ বিচারক উপস্থিত থাকলেও সেখানে শ্বশুরবাড়ির কাউকেই দেখা যায়নি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)