Advertisement
E-Paper

১০ থেকে বেড়ে ১৫ শতাংশ! সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আবার শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পরে নতুন শুল্ক ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। প্রথমে ১০ শতাংশ, পরে তা বৃদ্ধি করে ১৫ শতাংশ করেছেন। তবে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই শুল্ক ১৫০ দিনের বেশি কার্যকর করা যায় না।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:৪৩
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের ধাক্কা খাওয়ার পরেই নতুন শুল্ক ঘোষণা করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রাথমিক ভাবে ১০ শতাংশ হারে ‘সাময়িক শুল্ক’ ঘোষণা করেন তিনি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা আরও বৃদ্ধি করলেন ট্রাম্প। জানিয়ে দিলেন, ১৫ শতাংশ হারে শুল্ক নেওয়া হবে বিভিন্ন দেশের থেকে।

শুল্ক নিয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর পর সিদ্ধান্তগুলির উপরে নজর রাখছে দিল্লিও। ভারতের বক্তব্য, সার্বিক পরিস্থিতির উপর কী প্রভাব পড়তে পারে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চার বাক্যে এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে এমনটাই জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রক। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “শুল্ক নিয়ে গতকাল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে, তা আমাদের নজরে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এ বিষয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেছেন। আমেরিকার প্রশাসন কিছু পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে। আমরা এই সকল বিষয়ের প্রভাব খতিয়ে দেখছি।”

ট্রাম্প নতুন ‘সাময়িক শুল্ক’-র হার ১০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ১৫ শতাংশ করার আগেই দিল্লি এই বিবৃতি দিয়েছে। ঘটনাচক্রে, দিল্লির এই বিবৃতির কিছু সময় পরেই ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্তও প্রকাশ্যে আসে। সমাজমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ নিজের হ্যান্ডলে ট্রাম্প লেখেন, “আমেরিকার রাষ্ট্রপতি হিসাবে আমি অবিলম্বে বিভিন্ন দেশের উপর ‘গ্লোবাল’ শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ১৫ শতাংশ করব। যাদের মধ্যে অনেকেই কয়েক দশক ধরে আমেরিকাকে নিংড়ে নিয়েছে।”

বস্তুত, শুক্রবারই আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেয়েছেন ট্রাম্প। সে দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দেয়, জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য ব্যবহৃত আইন প্রয়োগ করে বিভিন্ন দেশের উপর ট্রাম্প যে আমদানি শুল্ক চাপিয়েছিলেন, তা বেআইনি। মার্কিন কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া একক ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে এই শুল্ক চাপিয়েছেন ট্রাম্প। এর ফলে ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ওই নির্দেশের পরই হোয়াইট হাউস থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, ‘‘সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষিতে আইইইপিএ অনুসারে আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক আর কার্যকর হবে না। যত দ্রুত সম্ভব তা আদায় করা বন্ধ হবে।’’ এরই মধ্যে আবার ট্রাম্প পৃথক ভাবে বিভিন্ন দেশের উপরে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নির্দেশে স্বাক্ষর করেন। পরে তা বৃদ্ধি করে ১৫ শতাংশ করার কথাও ঘোষণা করে দেন তিনি। তবে এই শুল্ক ‘সাময়িক’। কারণ, ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ১২২ নম্বর ধারা উল্লেখ করে নতুন এই শুল্ক চাপিয়েছেন ট্রাম্প। আইন বলছে, এতেও মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনই শেষ কথা। প্রাথমিক ভাবে অনুমোদন ছাড়া ১৫০ দিনের বেশি এই ধরনের শুল্ক কার্যকর করা যায় না।

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়েও ইতিমধ্যে মুখ খুলেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সাম্প্রতিক বাণিজ্য বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একজন মহান ব্যক্তি। তিনি অন্যদের সঙ্গে আলোচনায় যতটা কঠোর ছিলেন, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে ততটা কঠোর ছিলেন না।” তাঁর সংযোজন, “আমরা ভারতের সঙ্গে একটি ন্যায্য চুক্তি করেছি। তাই এটি অপরিবর্তিত থাকছে।” ফলে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং তার পরে ট্রাম্পের নতুন ঘোষণার বাস্তবে কী প্রভাব পড়তে চলেছে, তা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে দিল্লি।

Donald Trump US Tariff
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy