Advertisement
E-Paper

‘অসাংবিধানিক’! মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে সওয়াল করলেন ‘ভারতীয় অভিবাসীর পুত্র’

অতীতে ট্রাম্প ২০১৭ সালে পর্যটনের উপর যে নিষেধাজ্ঞা এনেছিলেন, তাকে চ্যালেঞ্জ করেও সওয়াল করেছিলেন নীল কাটিয়াল। সেই নিয়ে একটি বইও লিখেছিলেন।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:২৫
আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে সওয়াল করেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নীল কাটিয়াল।

আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে সওয়াল করেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নীল কাটিয়াল। ছবি: সংগৃহীত।

অতীতে আমেরিকার সলিসিটর জেনারেল ছিলেন তিনি। জর্জ ফ্লয়েডের মামলায় মিনেসোটা স্টেটের হয়ে সওয়াল করেছিলেন। সেই ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবী এ বার আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে সওয়াল করলেন। ভারতীয় ‘অভিবাসী’ দম্পতির পুত্র নীল কাটিয়াল এবং তাঁর মতো আরও কয়েক জন আইনজীবীর সওয়াল শুনেই মার্কিন শীর্ষ আদালত রায় দিল, ট্রাম্পের ‘আন্তর্জাতিক আমদানি শুল্ক’ বেআইনি। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তাঁর সওয়াল যদিও এই প্রথম নয়।

নীল আদালতে সওয়াল করে জানান, ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) প্রয়োগ করে বাণিজ্যে সহযোগী দেশগুলির উপরে যে শুল্ক আরোপ করছেন ট্রাম্প, তা ‘অন্যায্য, অসাংবিধানিক’। সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পরে নীল বলেন, ‘‘আজ আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট আইনের শাসন, দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। শীর্ষ আদালতের বার্তা স্পষ্ট, প্রেসিডেন্ট ক্ষমতাবান, কিন্তু এখনও সংবিধান আরও বেশি ক্ষমতাশালী। আমেরিকায় কেবল কংগ্রেসই মানুষের উপরে শুল্ক চাপাতে পারে।’’

মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে করেছিলেন ছোট ব্যবসায়ীরা। তাঁদের সহায়তা করেছে লিবার্টি জাস্টিস সেন্টার। প্রেসিডেন্টের হয়ে সওয়াল করে জানানো হয়েছিল, আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য, অর্থনৈতিক কারণে এই শুল্ক আরোপ গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যে ঘাটতিকে জরুরি অবস্থা বলে বর্ণনা করা হয়েছে। নীল জানিয়েছেন, ‘‘আমাদের মামলায় আমরা যা যা চেয়েছি, সব দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এই মামলা কোনও প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে নয়। বরং প্রেসিডেন্ট পদ নিয়ে। ক্ষমতার বণ্টন নিয়ে মামলা হয়েছে, এই সময়ের রাজনীতি নিয়ে নয়। আমি কৃতজ্ঞ যে, সুপ্রিম কোর্ট আমাদের মৌলিক অধিকার রক্ষা করেছে।’’

যে অভিবাসীদের নিয়ে কড়া অবস্থান রয়েছে ট্রাম্পের, নীল সেই অভিবাসীরই সন্তান। তাঁর বাবা-মা ভারত থেকে গিয়ে আমেরিকায় থাকতে শুরু করেছিলেন। তাঁরা পেশায় ছিলেন ডাক্তার এবং ইঞ্জিনিয়ার। নীলের জন্ম শিকাগোয়। ডারমাউথ কলেজ থেকে তিনি স্নাতক পাশ করেন। ইয়েল ল স্কুলে আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি স্টিফেন ব্রেয়ারের সহকারী হিসাবে কাজ করেছিলেন। ২০১০ সালে বারাক ওবামা তাঁকে সলিসিটর জেনারেল নিয়োগ করেন। তার পরে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হয়ে বহু মামলায় সওয়াল করেছিলেন। সুপ্রিম কোর্টে অন্তত ৫০টি মামলায় সওয়াল করেছেন। সংবিধান সংক্রান্ত মামলায় তিনি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন। ১৯৬৫ সালের ভোটাধিকার আইনের সপক্ষে সওয়াল করেছিলেন তিনি। অতীতে ট্রাম্প ২০১৭ সালে পর্যটনের উপর যে নিষেধাজ্ঞা এনেছিলেন, তাকে চ্যালেঞ্জ করেও সওয়াল করেছিলেন। সেই নিয়ে একটি বইও লিখেছিলেন।

মিনেসোটা পুলিশের হাতে জর্জের হত্যার মামলায় তিনি স্টেটের হয়ে সওয়াল করেছিলেন। আমেরিকার বিচার বিভাগ তাঁকে সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান— ‘দ্য এডমুন্ড র‌্যানডল্ফ অ্যাওয়ার্ড’ দিয়েছিল।


প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন ন’জন বিচারপতির বেঞ্চ ৬-৩ ভোটের ভিত্তিতে ঘোষিত রায়ে বলেছে, ‘‘জাতীয় জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া একক সিদ্ধান্তে আমদানিকৃত পণ্যের উপর এই বিশাল শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট তাঁর ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।’’ মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে ট্রাম্প সরকারকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরত দিতে হতে পারে। এই প্রসঙ্গে নীল একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘বিষয়টা এ রকম যে, অভিবাসীদের পুত্র আমেরিকার আদালতে গিয়ে ছোট ব্যবসায়ীদের হয়ে সওয়াল করেছেন। বলেছেন যে, এই প্রেসিডেন্ট বেআইনি ভাবে কাজ করছেন। আমি নিজের মামলা উপস্থিত করতে সমর্থ হয়েছি। চরম তর্ক হয়েছে। সবশেষে ওঁরা ভোট দিয়েছেন, আমরা জিতেছি।’’ তাঁর কথায়, ‘‘একমাত্র কংগ্রেসই আমেরিকার মানুষের উপরে শুল্ক আরোপ করতে পারে। আর সেটাই হল শুল্ক।’’

US Tariff War
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy