যুদ্ধবিরতির জন্য ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানকে কথা বলতে বাধ্য করিয়েছে আমেরিকাই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে যে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন, তা শেষ হওয়ার আগে মধ্যস্থতা করতে বলা হয়েছিল পাকিস্তানকে। এমনকি, হোয়াইট হাউস থেকে এ বিষয়ে ইসলামাবাদকে চাপও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইনানশিয়াল টাইম্স। তাদের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর স্বাধীন মধ্যস্থতাকারী হিসাবে পাকিস্তানের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে।
ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে (আমেরিকার সময়) ইরান হরমুজ় প্রণালী খুলে না-দিলে ‘একটা গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে’। সরাসরি না-বললেও এই হুমকির মাধ্যমে ইরানের উপর পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগ করার ইঙ্গিত তিনি দিয়েছেন বলে অনেকে দাবি করেছিলেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইরানের সঙ্গে দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন ট্রাম্প। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও যুদ্ধবিরতির বিবৃতিত দেন। যুযুধান দুই দেশ জানিয়ে দেয়, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। শাহবাজ়ও সমাজমাধ্যমে সেই ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন:
আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সমঝোতার আলোচনা আয়োজন করতে দীর্ঘ দিন ধরেই সচেষ্ট ছিল পাকিস্তান। রিপোর্টে দাবি, এই মধ্যস্থতায় প্রধান ভূমিকা নিয়েছিলেন মুনিরই। ট্রাম্পের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে তাঁর সঙ্গে হোয়াইট হাউসের কর্তাদের একাধিক বার ফোনে কথা হয়। মুনির কথা বলেন ট্রাম্প, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে। ইরানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পাকিস্তান থেকে কে বা কারা কথা বলেছেন, এখনও স্পষ্ট নয়। রিপোর্টে দাবি, হোয়াইট হাউসের অধিকর্তারা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির আলোচনা করতে পাকিস্তানকে চাপ দিয়েছিলেন। বলা হয়েছিল, যে কোনও মূল্যেই হোক, হরমুজ় সংক্রান্ত শর্ত মানতে ইরানকে রাজি করাতে হবে। যুদ্ধবিরতির জন্য রাজি করাতে হবে। সে ক্ষেত্রে আমেরিকার দাবিগুলিই ইরানের সামনে পাকিস্তান তুলে ধরেছে বলে অভিযোগ। অনেকের মতে, ইরান এবং পাকিস্তান উভয়েই মুসলিম রাষ্ট্র হওয়ায় পাকিস্তানকে দিয়ে তাদের সামনে তাদের মতো করে দাবিগুলি তুলে ধরিয়েছে আমেরিকা। এই রিপোর্ট সত্য হলে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে পাকিস্তানের যে ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে, আন্তর্জাতিক মহলে তা নিঃসন্দেহে ধাক্কা খাবে।