গরম পড়তেই সুইমিং পুলের নীল জলের প্রতি অনেকেরই আকর্ষণ অনেকেরই বেড়ে গিয়েছে। অসহনীয় গরমে সারা ক্ষণই মনে হচ্ছে সুইমিং পুলের জলে শরীর ভাসিয়ে রাখতে। গরমে স্বস্তি পেতে অনেকে রোজই ডুব দিচ্ছেন জলের গভীরে। নীল জলরাশি শরীর আর মনের ক্লান্তি ধুয়ে দিচ্ছে। সুইমিং পুলের জল জীবাণুমুক্ত করতে প্রতি সপ্তাহেই ক্লোরিন দেওয়া হয়। তা দিতেও বারণ করা যায় না। কারণ, জলবাহিত রোগের প্রকোপ আটকাতে এই পদ্ধতি সহজ এবং খুব একটা ব্যয়বহুল নয়। কিন্তু, এই ক্লোরিনের কারণেই শরীরের নানা নকম সমস্যা হতে পারে। সতর্ক হবেন কী ভাবে?
ক্লোরিন শরীরের কী ক্ষতি করে?
১) ত্বক অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ক্লোরিন বা ক্লোরিনের মতো যে কোনও ধরনের রাসায়নিকই ত্বকের সংস্পর্শে এলে অস্বস্তি হওয়া স্বাভাবিক। এমনকি, ত্বক অতিরিক্ত শুষ্কও হয়ে পড়তে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় যাকে ‘জ়েরোসিস’ বলা হয়। চোখ, নাক, মুখের ত্বক দেহের অন্যান্য অংশের তুলনায় পাতলা। তাই ক্লোরিন মেশানো জল লাগলে ত্বকে জ্বালার অনুভূতি হয়।
২) সুইমিং পুলের ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করার পাশাপাশি ক্লোরিন কাগজ ও কাপড় তৈরিতে ব্লিচ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এতে থাকা ব্লিচের প্রভাবে চুলেরও ক্ষতি হতে পারে।
৩) ক্লোরিনের কারণে চোখে চুলকানি, লালচে ভাব এমনকি সংক্রমণও হতে পারে।
৪) এ ছাড়া ক্লোরিন মেশানো জল নাক, চোখের ভিতরে ঢুকে গেলেও সমস্যা হতে পারে। এ তো গেল ত্বকের সমস্যা। চিকিৎসকেরা বলছেন, ক্লোরিন মেশানো জলে নিয়মিত স্নান করলে অ্যালার্জি-জনিত সর্দিকাশি কিংবা শ্বাসযন্ত্রের গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ত্বকের ক্ষতি আটকাতে সাঁতার কাটতে নামার আগে কী কী করবেন?
১) পুলে থেকে উঠে অবশ্যই মৃদু সাবান দিয়ে স্নান করে নিন। মিনিট পনেরো আগে সারা গায়ে সানস্ক্রিন বা ভিটামিন সি-যুক্ত লোশন মেখে রাখতে পারলে ভাল হয়। কোনও রকম প্রসাধনী মেখে জলে নামার ক্ষেত্রে নানা রকম বিধিনিষেধ থাকে। সে ক্ষেত্রে নারকেল তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। কোনও রকম প্রসাধনী মেখে জলে নামার ক্ষেত্রে নানা রকম বিধিনিষেধ থাকে। সে ক্ষেত্রে নারকেল তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।
২) চুলের ক্ষতি রুখতে শাওয়ার ক্যাপ ব্যবহার করুন। এ ছাড়া সুইমিং করার পর স্নানের সময় এক বার শ্যাম্পু করে নিতে পারলে আরও ভাল।
৩) অ্যাজ়মার মতো শ্বাসজনিত সমস্যা থাকলে খুব বেশি ক্ষণ পুলে না থাকাই ভাল।