অনেকেই শৌখিনতার বশে পুরনো জিনিস সংগ্রহে রাখতে পছন্দ করেন। কেউ কেউ আবার কম খরচে ঘর সাজানোর জন্য পুরনো জিনিস কেনেন। এর ফলে ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেলেও অজান্তেই সংসারে অমঙ্গলের ছায়া বহন করে আনতে পারেন। বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, ব্যবহৃত জিনিসের সঙ্গে অনেক সময় সেই জিনিসের পুরনো মালিকের স্মৃতি জড়িয়ে থাকে। অধিকাংশ সময় সেই ব্যক্তির সমস্যাও ব্যবহৃত জিনিসের মাধ্যমে নতুন মালিকের সংসারে আছড়ে পড়ে। তার ফলে বাড়িতে নেতিবাচক শক্তির প্রবাহ সৃষ্টি হয়। সংসারে নিত্য অশান্তি থেকে শুরু করে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে। তবে বাস্তু নিয়ম অনুযায়ী, কয়েকটি উপায় মেনে চললেই পুরনো জিনিস সংক্রান্ত বাস্তুদোষ কাটানো যেতে পারে।
বাড়িতে কোনও পুরনো জিনিস কিনে আনলে তা অন্তত ২৪ ঘণ্টার জন্য সূর্যালোকের সামনে রেখে দিন। সেই ২৪ ঘণ্টা জিনিসটির সংস্পর্শে থাকার চেষ্টা করবেন না। বাস্তুমতে মনে করা হয়, সূর্যালোক সমস্ত রকমের নেতিবাচক শক্তিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। সূর্যের উজ্জ্বল রশ্মি সেই নেতিবাচক শক্তিকে ইতিবাচক শক্তিতে রূপান্তর করার ক্ষমতা রাখে। ২৪ ঘণ্টা পর সেই জিনিসটি ব্যবহার করতে আর কোনও রকম বাধা থাকবে না।
আরও পড়ুন:
হিন্দু ধর্মমতে গঙ্গাজলকে অত্যন্ত বিশুদ্ধ বলে গণ্য করা হয়। গঙ্গাজলের মধ্যে নেতিবাচক শক্তি দূর করার ক্ষমতা রয়েছে বলে মনে করা হয়। পুরনো জিনিস ঘরে আনার পর তার উপর গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিলে সেই জিনিসটির সঙ্গে আগের মালিকের দুঃখ-কষ্ট জড়িত থাকলে তা সম্পূর্ণ রূপে সরে যায়।
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, নুন নেতিবাচক শক্তি শোষণ করতে সক্ষম। কোনও ব্যবহৃত জিনিস ঘরে রাখার পর সঙ্গে সঙ্গে তা নুন-জল দিয়ে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। নুনের পরিবর্তে জলের সঙ্গে রক সল্ট বা সৈন্ধব লবণ জলের সঙ্গে মিশিয়ে দিতে পারেন।
কোনও পুরনো জিনিস কিনে আনলে ব্যবহারের আগে তার উপর নতুন রং করতে পারেন। তা ছাড়া জিনিসটির সামনে কর্পূর বা ধূপকাঠি জ্বালিয়ে রাখতে পারেন। এর ফলে নেতিবাচক শক্তি দূর হয়ে যায় বলে মনে করা হয়।
বাস্তুমতে, পুরনো জিনিস কিনে আনার পর ঘণ্টা বাজিয়ে প্রার্থনা করলেও নেতিবাচক শক্তির প্রভাব দূর হয়। ঘণ্টা বাজানোর সময় মনে মনে প্রার্থনা করে বলুন, ‘‘আমি পুরনো বেদনাদায়ক স্মৃতির এই বোঝা ত্যাগ করছি এবং নতুন ভালবাসা ও শান্তির সঙ্গে এই জিনিসটিকে গ্রহণ করছি।’’