রোজ সকালে চা বা কফির সঙ্গে দুটো করে বিস্কুট খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই। এক এক দিন এক এক রকম বিস্কুট দিয়ে হয় স্বাদবদল। কিন্তু বিস্কুটের যে ক্ষতিকর দিকগুলি আছে, তা অনেক সময়েই ভেবে দেখা হয় না। আসলে বিস্কুট অনেকের কাছে মুশকিল আসান গোছের একটা খাবার। বিস্কুট জাতীয় যে কোনও খাবার যে ভাবে উচ্চ তাপমাত্রায় তৈরি করা হয়, তা থেকে অ্যাক্রালামাইড তৈরি হয়। এটি কার্সিনোজেনিক, অর্থাৎ এর থেকে ক্যানসার হতে পারে। একই ক্ষতি হয় বাদামি টোস্ট করে পাউরুটি খেলে। গবেষণায় এই ধরনের খাবার নিয়মিত খাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি কুফল প্রমাণিত হয়েছে। শুধু কার্সিনোজেনিক প্রভাব নয়, বিস্কুট তৈরির অন্যতম উপকরণ পাম অয়েল, রিফাইনড সুগার, ময়দা— এগুলির মধ্যে একটিও স্বাস্থ্যকর নয়। দীর্ঘ দিন ধরে নিয়মিত ভাবে ট্রান্স ফ্যাট শরীরে প্রবেশ করলে তা সমস্যা তৈরি করতে বাধ্য। একটা সময়ের পরে মধুমেহ, স্থূলতার মতো সমস্যা দেখা দেয়। সম্প্রতি অভিনেত্রী কিয়ারা আডবাণী সমাজমাধ্যমে একটি ছবি ভাগ করে নিয়েছেন যেখানে দেখা গিয়েছে, রবিবার সকাল সকাল তিনি কফি খাচ্ছেন, তবে সঙ্গে বিস্কুট নয়, রয়েছে হেলদি বাইট।
প়ঞ্জাব নিবাসী পুষ্টিবিদ এবং ফিটনেস কোচ গরিমা গয়ালের মতে, চা কফির সঙ্গে কিছু না কিছু খেতে মন চায়, সে ক্ষেত্রে হেলদি বাইট একটি ভাল বিকল্প। তিনি আরও বলেন, “ক্যাফিনের উদ্দীপনার কারণে কফি দিয়ে দিন শুরু করলে তা মস্তিষ্ককে সজাগ করে, মনোযোগে তাৎক্ষণিক বৃদ্ধি ঘটায়। ব্যায়ামের আগে কফি খেলে ওয়ার্কআউটের কার্যকারিতাও বাড়ে, শরীর চাঙ্গা থাকে। তবে, সকালে ঘুম থেকে উঠেই, বিশেষ করে সঠিক খাবার না খেয়ে কফি খেলে বাড়তে পারে অ্যাসিডিটির সমস্যা।’’
কিয়ারার কফির সঙ্গে খান হেলদি বাইট। ছবি: ইনস্টাগ্রাম।
কফির সঙ্গে বাদাম, রকমারি বীজ বা খেজুর দিয়ে তৈরি এনার্জি বাইট খেলে, তা দ্রুত শক্তি জোগানোর মাধ্যমে শরীরে ভারসাম্য আনতে সাহায্য করে। গরিমা বলেন, “এই বাইটগুলিতে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং প্রাকৃতিক শর্করা থাকে, যা কফির সঙ্গে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ব্যায়ামের আগে হালকা খাবার হিসেবে বা অল্পস্বল্প খিদে পেলে এই ধরনের হেলদি বাইট খাওয়া যেতেই পারে।’’
কী ভাবে বানাবেন?
কাঠবাদাম, কাজু, মাখানা প্রথমে শুকনো তাওয়ায় কিছু ক্ষণ নাড়াচাড়া করে নিন। এ বার একটি মিক্সারে সেগুলি ভরে তার সঙ্গে মিশিয়ে দিন বেশ খানিকটা খেজুর আর কিশমিশ। এ বার মিশ্রণটি বেটে নিন ভাল করে। মিশ্রণটির মধ্যে মিশিয়ে দিন সামান্য কোকো পাউডার। একটি ট্রে-র উপর বাটার পেপার রেখে দিন। এ বার মিশ্রণটি থেকে গোলা বানিয়ে ছোট ছোট বলের আকারে গড়ে নিন। তা হলেই তৈরি হয়ে যাবে হেলদি বাইট।