Advertisement
E-Paper

লম্বাকার খুলির পশ্চাৎভাগ যেন ঝুলে থাকা ডিম! ভূগর্ভস্থ কক্ষের রহস্যময় খুলি কি ভিন্‌গ্রহীর? উত্তর মেলেনি আজও

ভূগর্ভস্থ রহস্যময় কক্ষে মেলে অসংখ্য অদ্ভুতদর্শন খুলি। কারও মতে সেগুলি দৈত্যের, কেউ বলেন ভিন্‌গ্রহীর। প্রত্নতত্ত্ববিদেরা যদিও মনে করেন সেগুলি ভিন্ন প্রকৃতির খুলিযুক্ত মানুষেরই।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ মে ২০২৬ ১১:৪৪
skull
০১ / ১৮

ভূগর্ভস্থ কক্ষে অসংখ্য খুলি। নব্য প্রস্তর যুগে নির্মিত সেই মেগালিথিক মন্দির বা স্মৃতিস্তম্ভ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধও ঘটতে দেখেছে। সেটি হয়ে উঠেছিল শয়ে শয়ে মানুষের আশ্রয়স্থল। তাই সেখানে খুলি পাওয়া অস্বাভাবিক কিছু মনে হয়নি অনেকেরই। কিন্তু খটকা লাগে খুলিগুলির আকৃতি দেখে। প্রশ্ন জাগে, এগুলি কি মানুষেরই খুলি?

malta
০২ / ১৮

কথা হচ্ছে ‘জায়েন্ট অফ মাল্টা’ নিয়ে। ভূমধ্যসাগরে অবস্থিত মাল্টা দ্বীপরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দ্বীপ গোজ়োয় নব্য প্রস্তর যুগে তৈরি করা মেগালিথিক মন্দির বা স্মৃতিস্তম্ভগুলির মধ্যে অন্যতম ‘জায়েন্ট অফ মাল্টা’।

sleeping lady
০৩ / ১৮

‘জায়েন্ট অফ মাল্টা’র তৈরি হওয়া ঘিরে মাল্টাবাসীদের মুখে নানা কথা শুনতে পাওয়া যায়। একটি অতি প্রাচীন লোককথারও উল্লেখ রয়েছে। তাতে বলা হয়, সানসুনা নামের এক দৈত্যাকার মহিলা নিজের হাতে বৃহদাকার চুনাপাথরের চাঁই তুলে সেই স্মৃতিস্তম্ভটি বানিয়েছিলেন। তবে যে যুগে চাকার ব্যবহারে মানুষের সদ্য হাতেখড়ি হয়েছে, সেই সময় দাঁড়িয়ে কী করে এমন আশ্চর্য ঐতিহাসিক নিদর্শন বানিয়ে ফেলা হল, সে রহস্যের এখনও সমাধান হয়নি।

malta
০৪ / ১৮

হেরিটেজ মাল্টার তথ্যানুসারে, ১৯০২ সালে সেই মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ পরিষ্কার করে বাড়ি নির্মাণ করার কথা ভাবেন মাল্টাবাসীরা। তখন মন্দিরের ছাদের কিছুটা অংশ ভেঙে পড়ে। সন্ধান মেলে তার তলায় লুকিয়ে থাকা এক ভূগর্ভস্থ কক্ষের।

malta
০৫ / ১৮

এর পরেই ‘জায়েন্ট অফ মাল্টা’ সরকারের অধীনে চলে যায়। ১৯১১ সাল পর্যন্ত সেখানে প্রত্নতাত্ত্বিক স্যর টেমি জামিটের অধীনে খননকার্য চালানো হয়। দেখা যায়, মন্দিরটি প্রধানত তিনটি স্তরে বিভক্ত। উপরিস্তর, যা প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত, মধ্যস্তর এবং নিম্নস্তর। ভূর্গভস্থ সেই অংশ ইতিহাসের পাতায় ‘হাল সাফলেইয়েনি হাইপোজিয়াম’ নামে খ্যাত। ভূগর্ভে এটি প্রায় ৩৫ ফুট পর্যন্ত বিস্তৃত।

skull
০৬ / ১৮

সেই ‘হাল সাফলেইয়েনি হাইপোজিয়াম’ থেকে পাওয়া যায় নানা জিনিস। প্রত্নতাত্ত্বিকেরা ভূগর্ভে লুকিয়ে থাকা সে সকল সুড়ঙ্গে বিভিন্ন আকৃতির মৃৎপাত্র, অলঙ্কার, পশুর মূর্তি প্রভৃতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। সেগুলির বেশির ভাগই লাল গেরিমাটি দিয়ে তৈরি। আর খোঁজ মেলে বেশ কিছু অদ্ভুতদর্শন খুলির।

skull
০৭ / ১৮

অদ্ভুতদর্শন, কারণ মানুষের খুলির সঙ্গে সেগুলির সাদৃশ্য থেকেও নেই। সে সকল খুলি আকৃতিতে যেমন বড়, তেমন গঠনেও মানুষের খুলির থেকে ভিন্ন।

skull
০৮ / ১৮

অনেকে সেগুলিকে ভিন্‌গ্রহীর খুলি বলেও মনে করেন। কিন্তু সেগুলি আদৌ ভিন্‌গ্রহীরই কি না তারও কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

malta
০৯ / ১৮

বেশির ভাগ মানুষেরই খুলির উপরিভাগ প্রায় গোলাকার হয়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে ‘মেসাফিলিক’ বলে। কিন্তু হাইপোজিয়ামে পাওয়া খুলিগুলি সাধারণ মানুষের খুলির থেকে একদমই আলাদা।

skull
১০ / ১৮

হাইপোজিয়াম থেকে সংগ্রহ করা খুলিগুলির বেশির ভাগেরই মাথার উপরিভাগ লম্বাটে ধরনের। অর্থাৎ, কপাল থেকে মাথার পিছনের ভাগ পর্যন্ত অংশটি অপেক্ষাকৃত লম্বা, যা সাধারণত মানুষের মধ্যে দেখা যায় না।

malta
১১ / ১৮

বিজ্ঞান দাবি করে, সাধারণ মানুষের খুলি বেশ কয়েকটি অংশ নিয়ে তৈরি হয়, যা বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে জোড়া লেগে গেলেও ভাগগুলিতে জোড়া লাগার দাগ রয়ে যায়। এগুলি বিজ্ঞানের পাতায় ‘সুচার’ নামে পরিচিত। কিন্তু হাইপোজিয়ামে সন্ধান পাওয়া খুলিতে এমনটা দেখা যায় না।

skull
১২ / ১৮

মাল্টার ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ থেকে পাওয়া খুলিগুলিতে কোনও ভাগ, দাগ বা সুচারের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। আশ্চর্য ঠেকলেও খুলিগুলি পুরোটাই একটি হাড় দিয়ে গঠিত হয়েছে। এমনটাই দাবি করেছেন টেমি জামিটের প্রত্নতাত্ত্বিক দল।

malta
১৩ / ১৮

যদিও এই বিষয়ে দ্বিমত রয়েছে। আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিকেরা মনে করেন, হাইপোজিয়াম থেকে পাওয়া খুলিগুলি যেহেতু বহু যুগ আগের, তাই সময়ের সঙ্গে দাগগুলি মিলিত হয়ে গিয়েছে বলে জানাচ্ছেন তাঁরা। তাঁদের মতে, বয়সজনিত কারণ বা অজানা শারীরিক কারণে সেই দাগগুলি খুলির সঙ্গে প্রায় মিলিয়ে গিয়েছে। তাই খালি চোখে তাদের আর ঠাহর করা যাচ্ছে না।

skull
১৪ / ১৮

সাধারণ মানুষের খুলির পশ্চাৎ অংশের সঙ্গেও মাল্টার খুলির পশ্চাৎ অংশের সাদৃশ্য পাওয়া যায় না। কমবেশি সব মানুষের খুলির পিছনের অংশ (বিজ্ঞানের ভাষায় ‘অক্সিপিটাল এরিয়া’) মসৃণ ভাবে নীচের দিকে নেমে যায়। ফুলে থাকে না। কিন্তু মাল্টার খুলির ক্ষেত্রে ব্যাপারটি ভিন্ন।

skull
১৫ / ১৮

সে সকল খুলির পশ্চাৎভাগ ফোলা বা বর্ধিত। অর্থাৎ, খুলিগুলির পিছনের অংশ সামনের তুলনায় বেশি বড় এবং ফোলা ধরনের। সেগুলি পিছন থেকে দেখলে ঝুলে থাকা কোনও উপবৃত্তাকার বস্তুর মতো দেখতে লাগে।

skull
১৬ / ১৮

ভিন্ন আকৃতির হওয়ায় এ সকল খুলি ঘিরে নানা মানুষের মনে নানা সংশয় ঘুরে বেড়ায়। পৃথিবীর বহু অংশে মাথায় কাপড় বা অন্যান্য জিনিস বেঁধে মাথা শক্ত করার চল রয়েছে। তাঁরা শৈশব থেকেই এ কাজ শুরু করে দেন। ফলে পরবর্তী কালে তাঁদের খুলি বাকি মানুষের থেকে কিছুটা অন্য রকম হয়।

skeleton
১৭ / ১৮

মাল্টাতেও সেই সময় এমন কোনও সংস্কৃতির চল ছিল কি না তা নিয়ে গবেষণা করেছেন প্রত্নতত্ত্ববিদেরা। কিন্তু কোনও সদুত্তর মেলেনি। প্রাথমিক ভাবে তাদের মধ্যে এমন কোনও চল ছিল না বলেই জানতে পারা গিয়েছে। তাই প্রত্নতত্ত্ববিদেরা ধরে নিচ্ছেন, সে সময়ের মানুষজন এমন খুলি নিয়েই জন্মেছিলেন।

museum
১৮ / ১৮

ভিন্‌গ্রহীর আবির্ভাব না উৎকট খুলির মানুষ, না কি কোনও দৈত্য— মাল্টার খুলি নিয়ে এ প্রকার তর্কবিতর্ক চলে আসছে এখনও। এর সুরাহা প্রত্নতত্ত্ববিদেরা এখনও করতে পারেননি। বর্তমানে এই খুলিগুলির বেশ কয়েকটি সাধারণ মানুষের দেখার জন্য ভেলেট্টার ‘ন্যাশনাল মিউজ়িয়াম অফ আর্কিয়োলজি’তে রাখা রয়েছে।

সব ছবি: ছবি: সংগৃহীত।

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও গ্যালারি

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy