Advertisement
E-Paper

যুদ্ধে জয় হল তাদেরই, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতেই দাবি ইরানের, ১০ দফা শর্তও দিয়েছে আমেরিকাকে

প্রসঙ্গত, ইরানকে ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। কিন্তু সেই সময়সীমা পার হওয়ার আগেই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, দু’দেশই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ১১:১৯
(বাঁ দিকে) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। (ডান দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম

(বাঁ দিকে) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। (ডান দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম

যুদ্ধে জয় হল তাদেরই। আমেরিকা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতেই দাবি করল ইরান। দুই দেশ আপাতত দু’সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটল। তবে এই পথে হাঁটতে আমেরিকার কাছে ১০ দফা শর্ত রেখেছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আপাতত দু’সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি চলবে। ইরানের পাঠানো শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে। সেই আলোচনা ফলপ্রসূ হবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।

প্রসঙ্গত, ইরানকে ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। কিন্তু সেই সময়সীমা পার হওয়ার আগেই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, দু’দেশই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, ‘‘হরমুজ় প্রণালী খুলে দিতে রাজি হয়েছে ইরান। আমরাও তাদের বিরুদ্ধে আপাতত দু’সপ্তাহের জন্য হামলা বন্ধ রাখছি।’’ ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে ‘দু’তরফেই যুদ্ধবিরতি’ বলে উল্লেখ করেছেন। কেন তিনি এই যুদ্ধ আপাতত স্থগিত করলেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি তিনি এটাও জানিয়েছেন, ইরানের তরফে তাঁদের কাছে ১০ দফা প্রস্তাব এসেছে। আলোচনার ভিত্তিতে সেই প্রস্তাব এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। শুধু তা-ই নয়, তিনি এ-ও দাবি করেছেন, যে শর্ত তাঁদের হাতে এসেছে, সেগুলির বেশির ভাগই দু’দেশ মানতে সম্মত হয়েছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকার কাছে ১০ দফা প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে—

Advertisement

হরমুজ় প্রণালী তারা খুলে দেবে ঠিকই, কিন্তু ওই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইরান বাহিনীর হাতেই। ইরান এবং তার সহযোগী গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করতে হবে। আরও বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার যে সব সেনাঘাঁটি আছে, সেখান থেকে সব সেনাকে সরাতে হবে। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা সামরিক সংঘাতে ইরানের যা ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে তাদের বিরুদ্ধে যতগুলি প্রস্তাব পাশ করানো হয়েছে সেগুলি খারিজ করতে হবে। হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। তাদের হাতে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে নাক গলানো যাবে না।

ইরান আরও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার বোর্ড অফ গভর্নর তাদের বিরুদ্ধে যে সব প্রস্তাব পাশ করিয়েছে, সেগুলি সব খারিজ করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইরানে আচমকাই হামলা চালায় ইজ়রায়েল। পরে তাতে যোগ দেয় আমেরিকাও। যৌথ হামলার প্রত্যাঘাত শুরু করে ইরানও। তার পর থেকে টানা যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধের কারণে অশান্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ় প্রণালী অবরোধ করে রাখার ঘোষণা করে তেহরান। ফলে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়। আলোচনার পর ভারত-সহ কয়েকটি দেশের পণ্যবাহী জাহাজকে হরমুজ় প্রণালী পার করার ‘অনুমতি’ দেয় ইরান। তবে স্পষ্ট জানায়, আমেরিকা, ইজ়রায়েল এবং তাদের মিত্র দেশগুলির জন্য বন্ধ থাকবে হরমুজ়। হুঁশিয়ারি দেয়, তাদের শর্ত না-মানলে বন্ধই থাকবে হরমুজ়। তার পরেও এক মাস পেরিয়ে যায় সামরিক সংঘাত। রবিবার ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন ট্রাম্প। তার মধ্যে যদি ইরান হরমুজ় না খোলে, তা হলে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে তাদের মুছে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন। মঙ্গলবার ছিল সেই সময়সীমার শেষ দিন। কিন্তু সময়সীমার শেষ হওয়ার কিছু আগেই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন ট্রাম্প। আপাতত দু’সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে।

Iran US
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy