Advertisement

নবান্ন অভিযান

‘মানুষ যদি ভোট দিতে না পারে ট্রাইবুনালের দরকার কী? কেন তৈরি করেছিলেন?’ ফের কোর্টে যাওয়ার কথা ভাবছেন মুখ্যমন্ত্রী

এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন মমতা। নিজের করা মামলায় নিজেই আইনজীবী হিসাবে সওয়াল করেছিলেন। এ বার তাঁর প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তৈরি করা ট্রাইবুনাল নিয়ে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ০১:০৮
বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের ফলে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। এর বিরুদ্ধে ফের আদালতে যাওয়ার কথা ভাবছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার হুগলির একাধিক জনসভা থেকে সেই বার্তা দিয়েছেন তিনি। এর আগে এক বার এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন মমতা। নিজের বক্তব্যও জানিয়েছিলেন। এ বার তাঁর প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তৈরি করা ট্রাইবুনাল নিয়ে। এসআইআর-এ বিবেচনাধীন ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাম পুনর্বিবেচনার জন্য ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে। তাতেও কেন সুরাহা হচ্ছে না? প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। অভিযোগ, প্রথম দফার ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ়’ করে দেওয়া হয়েছে। তা হলে এই ট্রাইবুনালের ভূমিকা কী? জানতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

বুধবার ভবানীপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন মমতা। তার পরেই হুগলিতে চলে যান। সেখানে আরামবাগ, বলাগড় এবং শ্রীরামপুরে পর পর তিনটি জনসভা করেছেন। প্রতি ক্ষেত্রেই ট্রাইবুনালের প্রসঙ্গ তুলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। মমতার প্রশ্ন, ‘‘মানুষ যদি ভোট দিতে না পারে ট্রাইবুনালের দরকার কী? কেন তা তৈরি করেছিলেন?’’ এর পরেই তিনি বলেন, ‘‘আমরা আবার চ্যালেঞ্জ করব। জানতে চাইব। জানার অধিকার তো সকলের আছে। ভোট দেওয়ার অধিকার সকলের আছে। এটা সাংবিধানিক অধিকার। প্রয়োজনে প্রত্যেকের নাম ভোটার তালিকায় তোলার আইনত ব্যবস্থা করতে হবে।’’ তিনি আদালতে লড়াই করে ৩২ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকায় তুলিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন মমতা।

বলাগড়ের সভা থেকে মমতা বলেছেন, ‘‘এ বার একটা সাংঘাতিক পরিস্থিতিতে নির্বাচন হচ্ছে। এত মানুষের নাম বেছে বেছে কেটে দেওয়া হয়েছে! আমার কেন্দ্রেও প্রায় ৬২ হাজার নাম বাদ দিয়েছে। আজ হোক বা কাল, সকলের নাম ভোটার তালিকায় উঠবে।’’ সুপ্রিম কোর্টের প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল, ট্রাইবুনালে আবেদন করলে নামগুলি পুনরায় বিবেচনা করা হবে। যেগুলি বিচারকেরা বাতিল করেছেন, সেগুলি বিবেচনা করা হবে। কিন্তু তার আগে ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ়়’ করে দিল কেন, আমার মাথায় ঢুকছে না। আমি বোকা হতে পারি, কিন্তু আইনজীবী হিসাবে আমার মনে হয়, আমাদের আবার কোর্টে যাওয়া উচিত। আমরা যাবও। ইঞ্চিতে ইঞ্চিলে লড়ে যাব।’’

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। তার পর থেকে ধাপে ধাপে বিবেচনার ভিত্তিতে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ৬০ লক্ষাধিক বিবেচনাধীন নামের মধ্যে গোটা রাজ্যে মোট ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জনের নাম বাদ পড়েছে। সবমিলিয়ে বাদের খাতায় প্রায় ৯১ লক্ষ। রাজ্যে ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দু’দফায় ভোট। ফলঘোষণা ৪ মে। রাজনৈতিক দলগুলির একাংশের অভিযোগ, এত জনকে বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা অসম্পূর্ণ। কী ভাবে তার ভিত্তিতে ভোটগ্রহণ হবে? বিবেচনাধীন তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইবুনাল গঠন করেছে সুপ্রিম কোর্ট। অনেকেই তাতে আবেদন করেছেন। কিন্তু ভোটের আগে তার সমাধান হবে কি না, ধোঁয়াশা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এসআইআর নিয়ে নতুন করে আদালতে যাওয়ার ইঙ্গিত দিলেন মমতা।

সংক্ষেপে
  • প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রচুর পরিমাণে ভোট পড়লে তা সাধারণত স্থিতাবস্থা বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হয়। অর্থাৎ, ক্ষমতাসীন সরকারের বিপক্ষে যায় জনতার রায়। তবে দীর্ঘলালিত এই ধারণার প্রতিযুক্তিও ছিল। তৃণমূলের তরফে গত লোকসভা এবং বিধানসভা ভোটের উদাহরণ দিয়ে দাবি করা হচ্ছিল, অনেক ভোট পড়লেও এ রাজ্যে তা শাসকের পক্ষেই গিয়েছে বরাবর। বিজেপির পাল্টা যুক্তিতে আবার ছিল ২০১১ সালের ‘পরিবর্তনের ভোট’। সে বারও প্রচুর ভোট পড়েছিল এবং ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার গড়েছিলেন মমতা। এ বারের ভোটে এসআইআর সুবিধা করে দিল বিজেপির।
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) যে হয়রানিকে প্রচারে হাতিয়ার করেছিল তৃণমূল, তা কাজে এল না। পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোট দিলেন বিজেপির পক্ষেই। ফলে এ রাজ্যেও ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার তৈরি হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ জয় করেছে বিজেপি। গত লোকসভা নির্বাচনেও যে দল সে ভাবে দাঁত ফোটাতে পারেনি, দু’বছরের ব্যবধানে তারাই ২০০-র গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। জেলায় জেলায় পদ্মের ঝড়ে উড়ে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।
Mamata Banerjee Election Commission TMC Supreme Court Tribunal SIR
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy