তৃণমূলকে বিঁধে গত কাল পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য টাটা গোষ্ঠীকে ফিরিয়ে আনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ন্যানো বিতাড়নের প্রসঙ্গ তুলে বলেছেন, বিনিয়োগকারীদের কাছে রাজ্য সম্পর্কে ভুল বার্তা গিয়েছিল। আজ গোটা বিষয়টির পাল্টা ভাষ্য দিয়েছে তৃণমূল। ন্যানো প্রকল্পের কথা অবশ্য উল্লেখ করা হয়নি। রাজ্যের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র জানিয়েছেন, টাটা গোষ্ঠীর অন্যান্য শাখা সংস্থার রাজ্যে গত দশ বছরে ‘বাড়বৃদ্ধি’র কথা। তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, টাটা কখনওই রাজ্য ছেড়ে যায়নি।
আজ অমিত মিত্রকে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তাঁর দাবি, ‘‘দ্বিতীয় ক্যাম্পাসটি চালু হয়ে যাওয়ার পর (৭০ হাজার আইটি পেশাদার নিযুক্ত হবেন) টাটার সংস্থা টিসিএস বেঙ্গালুরুর তুলনায় বাংলায় বেশি লোক নিয়োগ করবে। টিসিএস ইন্ডিয়ায় এক নম্বর জায়গা পাবে কলকাতা। গত ১৫ বছরে বাংলা ভারতের চামড়া শিল্প, সিমেন্ট শিল্পের রাজধানী হয়ে উঠেছে, লোহা-ইস্পাত রফতানিতে অগ্রণী রাজ্য। গত ১৫ বছরের ‘পূর্বের শেফিল্ড’-এর তকমাও ফিরে পেয়েছে। বেকারত্ব দমনের প্রশ্নে দেশের প্রথম পাঁচটি রাজ্যের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ রয়েছে।’’
বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন দলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। গত ১৫ বছরে বাংলায় টাটা শিল্পগোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতির খতিয়ান দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিস (টিসিএস)-এ কলকাতায় ৫৪ হাজার পেশাদার কর্মরত। সিলিকন ভ্যালি হাব-এ আরও একটি ২০ একরের ক্যাম্পাস খোলা হচ্ছে। টাটা হিতাচি রয়েছে। খননের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাদি উৎপাদনের বিস্তার ঘটাচ্ছে তারা। ২০২২ সালে টাটা মেটালিংক টাটা স্টিলের সঙ্গে মার্জার করে ৬০০ কোটি টাকার বাণিজ্য প্রসারণ ঘটিয়েছে এখানে। কলকাতায় সাত তারা হোটেল রয়েছে চারটি। দার্জিলিং, দুর্গাপুর, আসানসোলেও রয়েছে। ২০১৯ সালে টাটা স্পঞ্জ আয়রন লিমিটেড ওড়িশা থেকে বাংলায় তাদের সদর দফতর সরিয়ে এনেছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)