৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে খুন হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় কোনও খামতি রাখতে চাইছে না প্রশাসন। তাই নবান্ন সূত্রে খবর, আপাতত কয়েক মাস মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকবে দুই বাহিনী। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে শুভেন্দু তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের পরেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা পাওয়া শুরু করেন। ২০২১ সালে শুভেন্দু বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হলেও, সেই নিরাপত্তা বহাল ছিল। রাজ্য সরকার ভবানীপুর বিধায়কের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করতে চাইলেও, তা গ্রহণ করেননি তিনি।
আরও পড়ুন:
বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৎকালীন বিরোধী দলনেতার উপর প্রাণঘাতী হামলা হলে তাঁকে জ়েড পর্যায়ের নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীপদে শপথ নেওয়ার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত সেই কেন্দ্রীয় বাহিনীই ছিল তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে। কিন্তু শনিবার শুভেন্দু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীপদে শপথ নেওয়ার পরেই রাজ্য পুলিশ তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে। আর ৬ মে রাতে যে ভাবে শুভেন্দুর আপ্ত সহায়ককে সুপারি কিলার দিয়ে গুলি মেরে খুন করা হয়েছে, তাতে উদ্বিগ্ন রাজ্য প্রশাসন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ। তাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক শুভেন্দুর নিরাপত্তা রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সঙ্গে রাজ্য সরকারের তরফেও পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলেই জানাচ্ছে নবান্নের একটি সূত্র।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জ়েড পর্যায়ের নিরাপত্তা পেলেও, নিজের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়াবাড়ি একেবারেই পছন্দ নয় মুখ্যমন্ত্রীর। তাই তাঁর নিরাপত্তা এ ভাবে ঢেলে সাজানো হচ্ছে যাতে মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচিতে কোনও ব্যাঘাত ঘটে। নবান্নের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীকে নিরাপত্তা অবশ্যই দেওয়া হবে। কিন্তু তাতে তিনি যাতে বিরক্ত না হন, সেই বিষয়টিও পুলিশ প্রশাসন মাথায় রাখছে।’’