হরমুজ় প্রণালী ধরে যাচ্ছে পণ্যবাহী জাহাজ। ছবি: রয়টার্স।
হরমুজ় নিয়ে আগের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিল ইরান। সংবাদসংস্থা রয়টার্স তেহরানের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে ওয়াকিবহাল, এমন একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করেছে যে, ওমানের উপকূল ধরে নিরাপদে হরমুজ় পেরোতে পারবে পণ্যবাহী জাহাজ কিংবা ট্যাঙ্কার। এই মর্মে ইরানের তরফে আমেরিকাকে প্রস্তাব পাঠানোও হয়েছে বলে ওই সূত্রটির দাবি। আমেরিকার সঙ্গে সংঘাত এড়াতেই ওই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে সূত্র উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, “আক্রমণের ঝুঁকি ছাড়াই ওমানের দিক দিয়ে হরমুজ়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়টি ইরান ভেবে দেখছে। তবে এ ক্ষেত্রে একটি শর্ত রেখেছে ইরান। তা হল, ইরানের প্রায় সমস্ত দাবিই মেনে নিতে হবে আমেরিকাকে। এই বিষয়ে এখনও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি হোয়াইট হাউস। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের তরফেও আনুষ্ঠানিক ভাবে এখনও কিছু বলা হয়নি।
অথচ কয়েক দিন আগে পর্যন্তও হরমুজ় নিয়ে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল ইরান। বলা হয়েছিল, ওই প্রণালী ব্যবহার করলে পণ্যবাহী জাহাজগুলির কাছ থেকে শুল্ক আদায় করবে তেহরান। হরমুজ়ে ইরানের আধিপত্য খর্ব করতে রবিবার এই প্রণালী অবরোধ করার কথা ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে বিপাকে পড়ে পণ্যবাহী জাহাজগুলি। বিশেষত তেলবাহী জাহাজগুলি।
প্রসঙ্গত, হরমুজ় হল পারস্য এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী সরু একটি প্রণালী। সববচেয়ে সরু অংশ চওড়ায় প্রায় ৩৪ কিলোমিটার। এর এক দিকে ইরান, অপর দিকে ওমান। ভৌগোলিক কারণেই হরমুজ়ের উপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বেশি। আর আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর এই ভৌগোলিক সুবিধাকেই তারা হাতিয়ার করে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সংঘাতের আগে এই হরমুজ় দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করত অন্তত ১৩০টি জাহাজ। সংঘাত শুরু হওয়ার পরে হরমুজ় অবরোধ করে রাখে তেহরান। তার পরে সেখান দিয়ে জাহাজ পারাপার অনেকটাই কমে যায়।