ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। —ফাইল চিত্র।
ইতিমধ্যেই দু’বার ব্যর্থ হয়েছে ইরান এবং আমেরিকার শান্তি আলোচনা। সম্প্রতি ত্রিদেশীয় সফরের ফাঁকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছলেও, আমেরিকার প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করেননি ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ফলে শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যায় ইরান-আমেরিকা শান্তি বৈঠক। আজ পশ্চিম এশিয়ার একটি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, শান্তি বৈঠকে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে শান্তি প্রস্তাবের একটি খসড়া পাঠিয়েছে তেহরান।
দিন কয়েক আগেই ইরানের পাঠানো একটি শান্তি প্রস্তাবের খসড়া বাতিল করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার পরেই দ্বিতীয় বার শান্তি প্রস্তাবের খসড়া পাঠাল তেহরান। অন্য দিকে, ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে ফেলতে বদ্ধপরিকর তেহরানের শীর্ষ নেতৃত্ব। জানা যাচ্ছে, ইরানের ‘রেভোলিউশনারি গার্ড’ তথা ‘আইআরজিসি’-র প্রতি পক্ষপাতিত্বের জেরেই ইরানের শীর্ষ কর্তাদের রোষানলে পড়েছেন আরাঘচি।
ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, আরাঘচির উপর নাকি অসন্তুষ্ট ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। আমেরিকার সঙ্গে শান্তি আলোচনার নিরিখে তেহরানের তরফ থেকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট। সেগুলি ছিল ইরানের কূটনীতির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ, পেজ়েশকিয়ানের নির্দেশ উপেক্ষা করেছিলেন আরাঘচি। বরং, ‘আইআরজিসি’-র প্রধান আহমেদ ভাহিদির নির্দেশ মেনেই নাকি পদক্ষেপ করেন তিনি। যে খবর কানে আসতেই আরাঘচির উপর বেজায় চটেছেন পেজ়েশকিয়ান। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলির একাংশের দাবি, গত দু’সপ্তাহ ধরে আমেরিকার সঙ্গে শান্তি আলোচনা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা পেজ়েশকিয়ানের কাছে গোপন করেছেন আরাঘচি। এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়ায় আরাঘচির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ইরান প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের একটি সূত্র জানাচ্ছে, সরকারি নীতি তথা অবস্থান লঙ্ঘন করায় বিদেশমন্ত্রীর আরাঘচির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার পক্ষপাতি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। এ কথা তিনি নাকি তাঁর নিকট-মহলে সরাসরি জানিয়েও দিয়েছেন। আমেরিকার সঙ্গে শান্তি বৈঠকে অংশ নেওয়া ইরানের প্রতিনিধি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফের বিরুদ্ধেও উঠেছে একই অভিযোগ। তাঁর বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নিতে চাইছেন পেজ়েশকিয়ান বলে খবর।
বিগত বেশ কিছু দিন ধরেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা মোজতবা খামেনেইয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে একাধিক তত্ত্ব সামনে এনেছিল আমেরিকার সংবাদমাধ্যমগুলি। সেই দাবিকে আজ নাকচ করেছেন মোজতবার ব্যক্তিগত কার্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক পরিষদের সদস্য আয়াতোল্লা মোহসেন কোমি। তিনি বলেছেন, ‘‘উনি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন এবং সক্রিয় ভাবে দেশের বিভিন্ন বিষয় পরিচালনা করছেন।’’ তিনি আরও জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতার জীবন রক্ষাই আপাতত ইরান সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য। তেহরানকে চাপে রাখতে আমেরিকার তরফে ইরানের বন্দরগুলিকে অবরুদ্ধ করে রাখার প্রেক্ষিতে ট্রাম্পকে একহাত নিয়েছেন পেজ়েশকিয়ান। তাঁর মতে, আমেরিকার এই পদক্ষেপ ‘অসহনীয়’!
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে