US Israel Strike on Iran

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই নিহত আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের হানায়! জানাল তেহরান, টানা ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করল তেহরানও। দেশ জুড়ে ৪০ দিনের সরকারি শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ মার্চ ২০২৬ ০৭:১৯
Share:

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। —ফাইল চিত্র।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করল তেহরানও। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশ জুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

Advertisement

এর আগে ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু খামেনেইয়ের মৃত্যুর কথা জানিয়েছিলেন। তার পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সমাজমাধ্যমে সেই ঘোষণা করেন। কিন্তু ইরানের তরফে এই খবর উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে একাধিক বার। তারা দাবি করেছে, তাদের নেতা অক্ষত এবং নিরাপদে রয়েছেন। রবিবার সকালে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমও খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করল। যৌথ বাহিনীর হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে উল্লেখ করেছে তেহরান।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী রেভলিউশনারি গার্ডও খামেনেইয়ের মৃত্যুতে শোকবার্তা প্রকাশ করেছে। তারা লিখেছে, ‘‘আমরা এক মহান নেতাকে হারিয়েছি। তিনি অনন্য ছিলেন।’’

Advertisement

শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। এর পরেই শনিবার রাতে নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর বাহিনী সেই প্রমাণ পেয়েছে। শুধু তা-ই নয়, খামেনেইয়ের সম্পূর্ণ এলাকা উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘ইতিহাসের পাতায় অন্যতম কুখ্যাত ব্যক্তি খামেনেই। তাঁর বাহিনীর হাতে যাঁদের অঙ্গহানি বা মৃত্যু হয়েছে তাঁদের প্রতি ন্যায়বিচার হল।’’ ইরানের বাসিন্দাদের উদ্দেশে নতুন করে দেশ গঠনের বার্তা দেন ট্রাম্প। যাঁরা বাইরে আছেন, তাঁদের নিশ্চিন্তে দেশে ফিরতে বলেন। সেই সঙ্গে খামেনেই বিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ইরানের সেনাবাহিনীকে মিলেমিশে কাজ করার আহ্বান জানান। তবে এখনই ইরানে শান্তি ফিরছে না। ট্রাম্প জানিয়েছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আরও অন্তত এক সপ্তাহ ইরানে বোমাবর্ষণ চলবে!

আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের হামলার জবাবে পাল্টা প্রত্যাঘাত শনিবারই শুরু করেছিল ইরান। শুধু ইজ়রায়েল নয়, পশ্চিম এশিয়ার যে সমস্ত দেশে মার্কিন সেনা ঘাঁটি রয়েছে, সেই দেশগুলিতে হামলা চালানো হয়। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাই, আবু ধাবিতে বোমা ফেলে তেহরান। খালি করে দিতে হয় বিশ্বের উচ্চতম ভবন বুর্জ খলিফাও। কাতারের দোহা এবং সৌদি আরবের রিয়াধেও ইরান হামলা চালিয়েছে বলে খবর। সমগ্র পশ্চিম এশিয়া জুড়ে এখনও রয়েছে যুদ্ধের আবহ। ইরান আগেই নিজের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাজছে সাইরেন। ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, ইরান সমঝোতা এবং যুদ্ধবিরতি চাইছে। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর তাদের আক্রমণের ঝাঁজ আরও বেড়ে যায় কি না, সে দিকে নজর রয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement