ইরানে ইজ়রায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর। ছবি: রয়টার্স।
হামলা, পাল্টা হামলা চলছেই। এ বার ইজ়রায়েল বাহিনী দাবি করল, ইরানের গোয়েন্দা সদর দফতরে হামলা চালিয়েছে তারা। শুধু তা-ই নয়, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত এ রকম ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গাকেও নিশানা করা হয়েছে সোমবার থেকে রাতভরের হামলায়। তেল আভিভকে লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় চার জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ইজ়রায়েলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ইজ়রায়েলি সেনা আরও দাবি করেছে যে, সামরিক অভিযানের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত ইরানের ৩০০০ হাজার জায়গা নিশানা করা হয়েছে। যদিও তাদের সেই দাবিকে খণ্ডন করেছে রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ভোরে ইরানের দু’টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানোয় ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে তেহরান। সে দেশের বিদ্যুৎমন্ত্রী আব্বাস আলিয়াবাদী সরকারি টিভি চ্যানেলকে বলেন, ‘‘বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল আমেরিকার তরফে। কিন্তু তার পরেও আমাদের দু’টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে।’’ তবে এ ভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে যে ইরানকে দমানো যাবে না, সেই বার্তাও দিয়ে রেখেছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী।
তবে ইরান বাহিনী আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, নাতা্নজ়ের পর আসফাহান এবং খোরমশহরে যে ভাবে বোমাবর্ষণ করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত পরিকাঠামো ধ্বংস করার চেষ্টা চালাচ্ছে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল, তার বদলা নেওয়া হবেই। সেই হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেল আভিভের বেশ কয়েকটি জায়গাকে নিশানা করল ইরান।
প্রসঙ্গত, সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা চলছে। ফলপ্রসূ আলোচনা শুরু হয়েছে। তার পরই তিনি ঘোষণা করেন, আগামী পাঁচ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে হামলা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে আমেরিকা। হরমুজ় প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে হামলা চালানোর হুমকি দেন ট্রাম্প। ৪৮ ঘণ্টা সময়ও বেঁধে দেন। সোমবার সেই সময়সীমা শেষ হয়। তার পরই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আপাতত পাঁচ দিন হামলা বন্ধ রাখা হবে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে। তবে ট্রাম্পের এই দাবির পরই ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলিতে পাল্টা দাবি করা হয়, আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনাই হয়নি।