তেহরানে ইজ়রায়েল বাহিনীর হামলা। ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের রাজধানী তেহরানের বুকে মুহুর্মুহু আছড়ে পড়ল ইজ়রায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র। শুক্রবার সকালে এই হামলা চালানো হয়। ইজ়রায়েলের বায়ুসেনা জানিয়েছে, ৫০টি যুদ্ধবিমান একযোগে তেহরানে সামরিক এবং ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার লক্ষ্য করে হামলা চালায়। সূত্রের খবর, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের লুকোনোর জন্য যে বাঙ্কার তৈরি করা হয়েছিল, সেই বাঙ্কারেই হামলা চালানো হয়েছে।
ইজ়রায়েলের বায়ুসেনা জানিয়েছে, তাদের গোয়েন্দাবাহিনী মোসাদের সহযোগিতায় এই হামলা চালানো হয়। গত সাত দিনের মধ্যে শুক্রবারের এই হামলা সবচেয়ে জোরালো বলেই দাবি করেছে ইজ়রায়েল। এই বাঙ্কার বানালেও সেখানে আশ্রয় নেওয়ার আগেই খামেনেইকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি ইজ়রায়েলের। বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগই দেওয়া হয়নি ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে। এ বার খামেনেইয়ের সবচেয়ে সুরক্ষিত সেই জায়গাকে নিশানা বানিয়ে ধ্বংস করল ইজ়রায়েলি বায়ুসেনা। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরানের অন্য প্রশাসনিক এবং সামরিক সেনাকর্তারা এই ডেরায় আশ্রয় নিচ্ছিলেন। এ বার সেই ডেরা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হল।
ইজ়রায়েলি বায়ুসেনা জানিয়েছে, তেহরানের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য বাঙ্কার। অত্যন্ত সুরক্ষিত সেই বাঙ্কারগুলিতে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ বার সেগুলিকে নিশানা বানানো হবে বলে দাবি তাদের। দীর্ঘ সময় ধরে এই গোপন বাঙ্কারগুলির হালহকিত জানতে ইজ়রায়েলি গোয়েন্দারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অবশেষে এক এক করে সেই বাঙ্কারগুলি ধ্বংসে কাজ শুরু করল ইজ়রায়েল। শুক্রবার সকাল থেকেই তেহরানে হামলার গতি আরও বাড়ায় ইজ়রায়েল। তেহরানে মুহুর্মুহু বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায়। কেরমানশাহ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। ইজ়রায়েলের দাবি, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বেশির ভাগটাই ধ্বংস করে দিয়েছে তারা। প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে একযোগে হামলা শুরু করেছে ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা। তার পর থেকেই সামরিক সংঘাতে উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া।