Iran Situation

ইরান হামলা করলে এমন জবাব দেব, যা ওরা এর আগে কখনও দেখেনি! খামেনেইরা যুদ্ধ-হুমকি দিতেই সাবধান করল ইজ়রায়েল

গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে খামেনেই-বিরোধী গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বর্তমানে সেই বিক্ষোভ কিছুটা স্তিমিত হলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। ইরানের এই গণবিক্ষোভে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের মদত রয়েছে বলে শুরু থেকে অভিযোগ তুলে আসছে তেহরান।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:০১
Share:

(বাঁ দিকে) ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

ইরানের হুমকির পরে এ বার পাল্টা দিল ইজ়রায়েলও। কোনও রকম হামলা হলে ইজ়রায়েল এমন জবাব দেবে, যা ইরানকে আগে কখনও দেখতে হয়নি। সোমবার তা স্পষ্ট করে দিলেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। রবিবারই কোনও দেশের নাম না করে তেহরানের ‘শত্রুদের’ সাবধান করে দেয় ইরান। বলা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়োতোল্লা আলি খামেনেইয়ের উপরে যে কোনও ধরনের আক্রমণ মানে তা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। তার পরেই পাল্টা দিলেন নেতানিয়াহুও।

Advertisement

গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে খামেনেই-বিরোধী গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বর্তমানে সেই বিক্ষোভ কিছুটা স্তিমিত হলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। ইরানের এই গণবিক্ষোভে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের মদত রয়েছে বলে শুরু থেকে অভিযোগ তুলে আসছে তেহরান। তা নিয়ে দু’দেশকেই সাম্প্রতিক সময়ে হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ইরান। সোমবার নেতানিয়াহু জানান, ইরানের পরিস্থিতির দিকে অবিরাম নজর রাখছে ইজ়রায়েল। ইরানের শাসকবিরোধী বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী সাধারণ জনতার ‘সাহসিকতা’-রও প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে বলেন, “যদি ইরান ভুল করেও আমাদের উপর হামলা করে, তবে আমরা এমন শক্তি দিয়ে তাদের জবাব দেব যা তারা আগে কখনও দেখেনি।”

রবিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান সমাজমাধ্যমে লেখেন, তাদের দেশের অর্থনৈতিক দুর্দশার নেপথ্যে রয়েছে আমেরিকা ও তার বন্ধু দেশগুলির শত্রুতা ও ‘অমানবিক’ নিষেধাজ্ঞা। তাঁর বক্তব্য, ‘‘দেশের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি যে কোনও অবমাননা আসলে সমগ্র জাতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের সমান।’’

Advertisement

বস্তুত, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের গণবিক্ষোভে প্রকাশ্যে সমর্থন জুগিয়েছেন ট্রাম্প। বিক্ষোভকারীদের জন্য সাহায্য পাঠানোরও বার্তা দেন তিনি। ইরানের শাসক বদলের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও সম্প্রতি মন্তব্য করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। এই সবের মধ্যেই ইরানের আশঙ্কা, হামলা হতে পারে তাদের উপরে। এই আশঙ্কার কারণও রয়েছে। গত বছর ইরান-ইজ়রায়েল সংঘর্ষের সময়ে নেতানিয়াহুদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ট্রাম্প। মার্কিন বোমারু বিমান হামলাও চালিয়েছিল ইরানের পরমাণুকেন্দ্রগুলিতে।

ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকার ধারাবাহিক চাপের ফলেই ইরানে কয়েকশো বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড রদ করেছে খামেনেই প্রশাসন। যদিও অনেকেই এই বিষয়ে সন্দিহান। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের অভিযোগ, বিক্ষোভ থামাতে গোপনে নৃশংস ভাবে দমন-পীড়ন করা হয়েছে। ইরানের সরকারের অবশ্য দাবি, দেশে শান্তি ফিরে আসছে। ধীরে ধীরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হচ্ছে। ইন্টারনেট ব্যবস্থাও স্বাভাবিক করা হচ্ছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement