Yoon Suk Yeol

ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করতে উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠান, ৩০ বছর জেলের সাজা দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের

ক্ষমতার অপব্যবহার, ‘শত্রুরাষ্ট্র’ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যোগসাজশ এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে ৩০ বছর কারাদণ্ড হল দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিন্ডেন্ট ইউন সুক-ইওলের।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ১৬:৫৬
Share:

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিন্ডেন্ট ইউন সুক-ইওল। —ফাইল চিত্র।

সামরিক আইন জারির অভিযোগে বরখাস্ত এবং গ্রেফতার হয়েছিলেন আগেই। হয়েছিল জেলের সাজাও। এ বার ক্ষমতার অপব্যবহার, ‘শত্রুরাষ্ট্র’ উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যোগসাজশ এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে ৩০ বছর কারাদণ্ড হল দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন প্রেসিন্ডেন্ট ইউন সুক-ইওলের। ওই মামলায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউন, প্রতিরক্ষা কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স কমান্ডের প্রাক্তন প্রধান ইয়ো ইন-হিউং এবং ড্রোন অপারেশনস কমান্ডের সাবেক প্রধান কিম ইয়ং-কেও রাষ্ট্রদ্রোহ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ১৫ বছর করে কারাদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

সোল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট শুক্রবার রায় ঘোষণা করতে গিয়ে জানিয়েছে, ইওল দেশে সামরিক আইন (মার্শাল ল) জারি করার অজুহাত তৈরি করতে উত্তর কোরিয়ার আকাশসীমায় ড্রোন পাঠিয়েছিলেন। পড়শি দেশকে উস্কে দিয়ে সাজানো সংঘাতের আবহ তৈরি করে উত্তেজনা সৃষ্টি করাই তাঁর লক্ষ্য ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইউন সুক-ইওল দেশে সামরিক শাসন জারির চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সে সময়ই তিনি সীমান্তে উত্তেজনা তৈরি একনায়ক কিম জং-উনের দেশে ড্রোন পাঠিয়েছিলেন!

গত ৩ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় ইওল জানান, তিনি সারা দেশে সামরিক আইন বলবৎ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কেন এমন সিদ্ধান্ত নিতে হল তাঁকে, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছিলেন ইওল। তিনি জানান, উত্তর কোরিয়ার একনায়ক কিমের মদতে ক্ষমতা দখলের ছক কষছেন বিরোধীরা। তাঁর ব্যাখ্যা ছিল, দেশকে কমিউনিস্ট আগ্রাসন থেকে সুরক্ষা দিতে এবং রাষ্ট্রবিরোধী শক্তিকে নির্মূল করতে দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক আইন জারি করছেন। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, সামরিক আইন জারির মধ্যে দিয়ে দেশে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে চেয়েছিলেন ইওল।

Advertisement

সামরিক আইন জারির কথা ঘোষণার পর থেকেই ইওলকে বরখাস্তের (ইমপিচমেন্ট) প্রস্তাবও আনেন তাঁরা পার্লামেন্টে। গত ১৪ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে ভোটাভুটিতে বরখাস্তের প্রস্তাব বিপুল ভোটে পাশ হয়। জানুয়ারিতে ইওলকে আদালতের নির্দেশে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এর পরে দেশে সামরিক আইন জারি করার দায়ে জেলের সাজা হয় তাঁর।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement