আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। ছবি: রয়টার্স।
গত বছর ৩ ডিসেম্বর ব্রিটেনের সাদাম্পটনে বছর ১৮-র যুবক হেনরি নওয়াককে খুনের অভিযোগ উঠেছিল বছর তেইশের বিক্রম দিগওয়ার নামের এক প্রবাসী ভারতীয় তথা শিখ যুবকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা প্রসঙ্গেই গত কাল সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে ব্রিটেনের অভিবাসন নীতির কড়া সমালোচনা করেছিলেন আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তাঁর যুক্তি ছিল— নওয়াক খুনের ঘটনার জন্য দায়ী ব্রিটেনে অভিবাসনের বাড়বাড়ন্ত। এমন ঘটনার পরে ব্রিটেনের অভিবাসন নীতির উপর দেশের মানুষের ক্ষোভ জন্মানোটা স্বাভাবিক, এমনটাও দাবি করেছিলেন ভান্স।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞদের অনুমান, নওয়াক খুনের প্রসঙ্গের আড়ালে ব্রিটিশ অভিবাসন নীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিয়র স্টার্মার প্রশাসনকে বার্তা দিতে চেয়েছিলেন ভান্স। যদিও ভান্সের এমন মন্তব্যের পরে কার্যত নড়েচড়ে বসেছে ব্রিটিশ সরকার। এই প্রসঙ্গে আজ ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্রের বার্তা— ‘আমাদের গণতন্ত্রে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করা হচ্ছে’। আমেরিকা কিংবা সে দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের নামের উল্লেখ না করেই, ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্রের আরও অভিযোগ— ‘এগুলি ব্রিটেনের অন্দরের বিভেদকে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা মাত্র’।
গত কাল নিজের এক্স হ্যান্ডলে হেনরি নওয়াকের মৃত্যু নিয়ে একটি পোস্ট করেছিলেন ভান্স। সেখানে তিনি লেখেন, ‘এই ঘটনা মানুষের মনে যতটা ক্ষোভ তৈরি করেছে, ঘটনাটি ততটাই মর্মান্তিক।’ সঙ্গে তিনি জোড়েন—গত কয়েক প্রজন্মের ইউরোপের অভিজাত সম্প্রদায় যদি ঘৃণার রাজনীতি এবং অভিবাসীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতেন, তা হলে নওয়াক এখনও প্রাণে বেঁচে থাকতেন। ভান্সের এই পোস্ট সামনে আসার পরেই কার্যত বিক্ষোভ শুরু হয় ব্রিটেনের বিভিন্ন প্রান্তে।
পরিস্থিতি বুঝেই ময়দানে নামে প্রধানমন্ত্রী কিয়র স্টার্মারের সরকার। রীতিমতো বিবৃতি প্রকাশ করে ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র জানান, ‘আমাদের দেশের রাজনীতি কঠিন পরিস্থিতিতেও দেশবাসীকে একত্রিত রাখে। ...দেশ হিসেবে এটাই আমাদের পরিচয়’। প্রসঙ্গত, কড়া অভিবাসন নীতি নিয়ে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মহলে বারবার সমালোচনার মুখে পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এমনকি, বেআইনি অভিবাসী সন্দেহে সাধারণ আমেরিকানদেরও আটক করার অভিযোগও উঠেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই নওয়াকের পরিবারে সঙ্গে বিশেষ বৈঠক সেরেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়র স্টার্মার। নওয়াকের মৃত্যুর নেপথ্যে পুলিশের অবহেলার প্রসঙ্গটিও তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন স্টার্মার। অন্য দিকে, নওয়াকের মৃত্যু নিয়ে যেন ‘রাজনীতি’ করা না হয়, এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছে যুবকের পরিবার। গত বছর ৩ ডিসেম্বর একটি ছোরা দিয়ে ১৮ বছর বয়সি হেনরিকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে বছর তেইশের বিক্রম দিগওয়ার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় সম্প্রতি সাদাম্পটনক্রাউন আদালত বিক্রমকে দোষী সাব্যস্ত করেছে।
বিচার চলাকালীন বিক্রম খুনের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন যে, তিনি আত্মরক্ষার তাগিদেই কৃপাণ সঙ্গে রেখেছিলেন। এর পরেই মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে কৃপাণ। রিস্টোর ব্রিটেন পার্টির মতো কট্টর ডানপন্থী দলগুলিও এর পরেই দেশে কৃপাণ নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানায়। যদিও বিষয়টি ঘিরে ব্রিটেনে বসবাসকারী শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রবল প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। এক জন অপরাধীর জন্য গোটা সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করার অভিযোগও সামনে এসেছিল।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে