Accident in New York Airport

‘থামুন থামুন ট্রাক ওয়ান’, সংঘর্ষ এড়াতে এটিএসের প্রাণপণ বার্তা, প্রকাশ্যে মার্কিন বিমানবন্দরে দুর্ঘটনার আগের অডিয়ো

দুর্ঘটনার কবলে পড়া বিমানটি কানাডার মন্ট্রিয়ল শহর থেকে নিউ ইয়র্কে আসছিল। তাতে ছিলেন শতাধিক যাত্রী। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর তথ্য অনুযায়ী, গাড়িতে ধাক্কা মারার সময়ে বিমানটির গতি ছিল ৩৯ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ মার্চ ২০২৬ ১২:৫০
Share:

দুর্ঘটনার কবলে পড়া সেই ‘এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের’ বিমান। ছবি: রয়টার্স।

‘থামুন, থামুন, থামুন...’! নিউ ইয়র্কের লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরের ‘এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল’ (এটিএস)-এর কর্মীর আর্তনাদ। তিনি দেখতে পাচ্ছেন রানওয়ে ধরে ছুটে আসছে ‘এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের’ বিমান। আর সেই রানওয়েতেই দমকলের ট্রাক। ওই ট্রাকের চালককে ‘থামতে’ বলার ‘নির্দেশ’ গিয়েছিল এটিএস থেকে? তিনি তা উপেক্ষা করাতেই কি দুর্ঘটনা? উঠছে প্রশ্ন।

Advertisement

লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরের দুর্ঘটনার পর একাধিক প্রশ্ন নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বা এটিএস-এর কারও নজরে কি পড়ল না, রানওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটি? ওই রানওয়েতে ট্রাক থাকার পরেও সেখানে ওই বিমান নামল কী ভাবে? ট্রাকটিকে কেন আগেভাগেই সরানো হল না রানওয়ে থেকে? সেই আবহে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে একটি অডিয়ো ক্লিপ (যদিও ওই ক্লিপের সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। দাবি করা হচ্ছে, সেই ক্লিপটি দুর্ঘটনার আগে এবং পরে গার্ডিয়া বিমানবন্দরের এটিএস-এর কর্মীদের কথোপকথনের!

মনে করা হচ্ছে, এটিএস ট্রাকের চালককে ‘সতর্ক’ করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, ট্রাকটিকে ‘থামতেও’ বলা হয়। কিন্তু সেই বার্তা উপেক্ষা করেই এগিয়ে যান চালক। আর তার পরেই সংঘর্ষ! কী রয়েছে ওই ক্লিপে? ওই ক্লিপে এক জনকে (কন্ট্রোলার) বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘‘ট্রাক ১ এবং লা গার্ডিয়া টাওয়ার কোম্পানি ৪ নম্বর পয়েন্ট অতিক্রম করার অনুরোধ করছে।’’ তার পরেই কন্টোলারকে বলতে শোনা যায়, ‘‘ট্রাক ১ এবং কোম্পানি ৪ নম্বর পয়েন্ট পার করছে।’’

Advertisement

সেই পর্যন্ত সব ঠিকঠাক ছিল। তার পরেই ঘটে বিপত্তি। কন্ট্রোলারের কণ্ঠে উত্তেজনা। তিনি অনুরোধ করেন, ‘‘ফ্রন্টিয়ার ৪১৯৫, অনুগ্রহ করে থামুন।’’ তার পরেই ওই কন্ট্রোলারকে উত্তেজিত স্বরে বলতে শোনা যায়, ‘‘থামুন, থামুন, থামুন। ট্রাক ১ থামুন, থামুন, থামুন। থামুন ট্রাক ১, থামুন...।’’ সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, এটিএস-এর ‘নির্দেশ’ না-মেনেই এগিয়ে যায় ট্রাকটি। আর সোজা ধাক্কা খায় সিআরজে-৯০০ বিমানের সঙ্গে। ধাক্কার অভিঘাত এতটা বেশি ছিল যে, বিমানের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গিয়েছে। সংঘর্ষের পরে বিমানের সামনের অংশটি ট্রাকের উপরে উঠে গিয়েছে, এমন ছবি-ভিডিয়োও প্রকাশ্যে এসেছে।

দুর্ঘটনার কবলে পড়া বিমানটি কানাডার মন্ট্রিয়ল শহর থেকে নিউ ইয়র্কে আসছিল। তাতে ছিলেন শতাধিক যাত্রী। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর তথ্য অনুযায়ী, গাড়িতে ধাক্কা দেওয়ার সময়ে বিমানটির গতি ছিল ৩৯ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। দুর্ঘটনাটি ঘটে রবিবার রাত ১১টা ৩৮ মিনিট নাগাদ (স্থানীয় সময়)। দুর্ঘটনায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনার জেরে সাময়িক ভাবে বিঘ্নিত হয়েছে লা গার্ডিয়া বিমানবন্দরে সকল বিমানের ওঠানামা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement