বাংলাদেশের সেনা। —ফাইল চিত্র।
বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। সংখ্যালঘুরা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সেনা মোতায়েন করার দাবি জানিয়েছে তারা। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে বৃহস্পতিবার এমন সাত দফা দাবি তুলে ধরেছে সে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলির মিলিত মঞ্চ।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। কিন্তু সেই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সংখ্যালঘুরা কতটা নির্বিঘ্নে অংশগ্রহণ করতে পারবেন, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বতী সরকারের আমলে গত দেড় বছরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর আক্রমণের একের পর এক অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রশ্ন উঠেছে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে। যদিও ইউনূস সরকার তা শুরু থেকেই অস্বীকার করে এসেছে। তাদের দাবি, যে ঘটনাগুলি ঘটেছে তার সিংহ ভাগেরই নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক কারণ।
এই অবস্থায় ‘সংখ্যালঘু নির্যাতন’ নিয়ে ইউনূসের সরকারের অবস্থান নিয়েই সংশয় প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য সংখ্যালঘুরা যাতে সমান অধিকার পায়, তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে ওই সংগঠন। ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এবং সে দেশের নির্বাচন কমিশনের কাছে মোট সাত দফা দাবি তুলে ধরেছে তারা।
সেই দাবিগুলি—
১। ধর্মীয় এবং জাতিগত সংখ্যালঘুরা যেন ভোটের প্রচারে সমান সুযোগ পান, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
২। ভোটের প্রচারে ধর্ম এবং সাম্প্রদায়িকতাকে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ করতে হবে। কোনও দল বা প্রার্থী এমন করলে, শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করতে হবে কমিশনকে।
৩। সংখ্যালঘু এবং আদিবাসীরা যাতে নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন— তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে সেনা মোতায়েন করে সংখ্যালঘু এবং আদিবাসীদের নিরাপত্তা দিতে হবে।
৪। ভোটের আগে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে চিহ্নিত করতে হবে। সেখানে পুলিশের পাশাপাশি, সেনা, র্যাব এবং বিজিবির নিয়মিত টহলদারির ব্যবস্থা করতে হবে।
৫। কমিশন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার জন্য কী কী পদক্ষেপ করছে, তা জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের জানিয়ে দিতে হবে। রেডিয়ো এবং টেলিভিশনেও তা প্রচার করতে হবে।
৬। সব ধরনের ধর্মীয় উপাসনাস্থলে নির্বাচনী প্রচারের জন্য ব্যবহার করা নিষিদ্ধ করতে হবে।
৭। কোনও প্রার্থী ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বিবৃতি দিলে বা গুজব ছড়ালে, তাঁর প্রার্থিপদ বাতিল করতে হবে এবং আইনি পদক্ষেপ করতে হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের তরুণ নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকা। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির আঁচ ছড়িয়েছে। এরই মধ্যে সংখ্যালঘুদের উপরেও অত্যাচারের অভিযোগ উঠে এসেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের মিলিত ম়ঞ্চ। ভোটের আগে, ভোটের সময়ে এবং ভোট পরবর্তী সময়ে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউনূস সরকার এবং কমিশন কোনও সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ তুলছে তারা।
রাজনৈতিক দলগুলির কাছেও আট দফা দাবি তুলে ধরেছে তারা। রাজনৈতিক দলগুলি যাতে এই দাবিগুলি নিজেদের নির্বাচনী ইস্তাহারে যোগ করে, সেই আবেদনও জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। এর মধ্যে রয়েছে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আইন চালু করা, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন এবং সংখ্যালঘু মন্ত্রক গঠন এবং বৈষম্য দূর করার জন্য যথাযথ আইন প্রণয়নের দাবিও।