(বাঁ দিকে) বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীনও বাংলাদেশে কিছু কিছু নির্বাচন ‘সার্বিক যোগদানমূলক’ হয়নি। সংবাদসংস্থা এপি-কে একটি সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমানে তিনি ভারতে রয়েছেন। ইমেলের মাধ্যমে এপি-র প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন হাসিনা। সেই সূত্রে নিজের শাসনকালের প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাধিকার রয়েছে ১২.৭ কোটির বেশি মানুষের। ইতিমধ্যে ভোটের প্রচার শুরু হয়ে গিয়েছে। রাস্তায় রাস্তায় মিছিল এবং জনসভা হচ্ছে। তবে এই নির্বাচনে হাসিনার দল আওয়ামী লীগ লড়ছে না। ওই দলের কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তারই সমালোচনা করতে গিয়ে হাসিনা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা বা নির্বাচন বয়কট করার ধারা পরিবর্তন করতে না পারলে বাংলাদেশের উন্নতি সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, ‘‘জনসংখ্যার একটি নির্দিষ্ট অংশকে যখন রাজনৈতিক যোগদান থেকে বঞ্চিত করা হয়, তখন ক্ষোভ বাড়ে এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়। বহিরাগত ভাবে জন্ম নেওয়া সরকার কখনও বিচ্ছিন্ন জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে না।’’
হাসিনা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের মানুষের অগ্রগতি চাইলে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বয়কটের ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তাঁর কথায়, ‘‘আমার সরকারের আমলেও কিছু নির্বাচন সার্বিক যোগদানমূলক ছিল না। কারণ, কোনও কোনও রাজনৈতিক দল নির্বাচনের মতো গণতান্ত্রিক পদ্ধতিকে বয়কট করেছিল। এটা কোনও আদর্শ হতে পারে না। এই চক্র ভাঙতে হবে, নয়তো সমস্যার কোনও প্রতিকার নেই।’’ হাসিনা মনে করেন, বাংলাদেশের একটি বৈধ সরকার প্রয়োজন, যা ‘জনগণের প্রকৃত সম্মতিতে’ দেশ চালাবে। সেটাই বাংলাদেশিদের ক্ষত সারানোর একমাত্র উপায় বলে জানিয়েছেন তিনি।
আওয়ামী লীগকে ভোটে নিষিদ্ধ করে ইউনূসের সরকার আসলে লক্ষ লক্ষ ভোটারের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে, দাবি হাসিনার। তিনি বলেছেন, ‘‘সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট না হলে বাংলাদেশের অস্থিতিশীলতা ঘুচবে না।’’ হাসিনার দলকে বাদ দেওয়ায় বাংলাদেশের নির্বাচন আদৌ গণতান্ত্রিক পদ্ধতি মেনে হচ্ছে কি না, প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। ইউনূসের দফতর থেকে এ প্রসঙ্গে এপি-কে বলা হয়েছে, দেশের নিরাপত্তা বাহিনী সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করবে। কোনও হিংসা বা অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলিকে গোটা প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখার জন্য আমন্ত্রণও জানিয়েছে ইউনূস সরকার। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, ৫০০-র বেশি বিদেশি পর্যবেক্ষক ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে নজরদারি চালাবে।