মুহাম্মদ ইউনূস। — ফাইল চিত্র।
জুলাই আন্দোলনের আগের ‘অচল’ বাংলাদেশ এখন অগ্রগতির দেশ দাবি করে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে ভাষণে বললেন, ‘‘আমি আপনাদের কাছে বিদায় নেওয়ার জন্য উপস্থিত হয়েছি।’’ সেই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, তিনি সফল না ব্যর্থ, তা বিচার করবেন বাংলাদেশবাসী।
সোমবার রাত ন’টা (স্থানীয় সময়) নাগাদ প্রধান উপদেষ্টার দফতর থেকে তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণে জানান, নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে তিনি বিদায় নেওয়ার জন্য উপস্থিত হয়েছন। তাঁর দাবি, বহু বছর পরে বাংলাদেশে ‘আদর্শ’ নির্বাচন হয়েছে, যা ‘দৃষ্টান্ত’ হয়ে থাকবে। শেখ হাসিনার সরকারকে ‘দৈত্যের গ্রাস’ বলে কটাক্ষ করে তাঁর দাবি, ছাত্র-ছাত্রীরা দেশকে মুক্ত করেছিলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেশ সচল হয়েছে বলে দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘‘যাঁরা দেশকে লুটেপুটে খেতেন তাঁদের অনুগতেরা অভ্যুত্থানের সঙ্গে সঙ্গে পালিয়েছেন।’’ এ ছাড়া বাকিরা হয় নিজেদের ভোলবদল করেছেন বা আত্মগোপন করে আছেন।
পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের শহিদ ও আহতদের ত্যাগকেও কুর্নিশ জানান তিনি। জানান, নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে প্রণয়ন ও সংস্কার হয়েছে ১৩০টি আইন। ৬০০টি নির্দেশ জারি করা হয়েছে, তার মধ্যে ৮৪ শতাংশের বেশি কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে ইউনূসের পরামর্শ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সততার উপরে জোর দেওয়া উচিত।
শনিবার নিজের বক্তব্য পেশের সময়ে প্রধান উপদেষ্টা জানান, দেশ পরিচালনার দায়িত্ব থেকে তিনি অব্যাহতি নিলেও, দেশের অন্যান্য নাগরিকেদের মতো তিনিও নতুন বাংলাদেশ গড়ার ‘দায়িত্ব’ পালন করবেন।