Water Level Falling

জলস্তর নামছে, উদ্বেগ শহরে

সম্প্রতি শহরের বেশ কিছু জায়গায় জলস্তর প্রায় ১০ ফুট পর্যন্ত নেমে গিয়েছে বলে তাঁদের নজরে এসেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:৩৩
Share:

১১ নম্বর ওয়ার্ডের গয়লাপাড়ায় স্ট্যান্ড ভেঙে গিয়ে জল অপচয় হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র ।

শীতেও জলস্তর নামছে হু হু করে। গত কয়েক দিনে জলের অভাবে পুরসভার কয়েকটি সাবমার্সিবল পাম্পে সমস্যা দেখা দেওয়ায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বিষ্ণুপুর পুরপ্রশাসনের। অনিয়ন্ত্রিত ভাবে শহরে বাড়ি বাড়ি সাবমার্সিবল পাম্প বসানোয় এবং পুকুর ভরাট করায় জল সঙ্কট তৈরি হয়েছে বলে পুরসভার দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন বাসিন্দাদের একাংশ। যদিও পুরপ্রশাসনের দাবি, জলের সমস্যা মেটাতে তাঁরা উদ্যোগী হয়েছেন।

পুরপ্রধান তৃণমূলের গৌতম গোস্বামী জানান, সম্প্রতি শহরের বেশ কিছু জায়গায় জলস্তর প্রায় ১০ ফুট পর্যন্ত নেমে গিয়েছে বলে তাঁদের নজরে এসেছে। সে কারণে নতুনমহল, তিলবাড়ি, পুরভবন এলাকায় পুরসভার জলের কয়েকটি পাম্পে সম্প্রতি জল তুলতে সমস্যা হচ্ছে। কখনও জল উঠছে, কখনও উঠছে না। পুরপ্রধান বলেন, ‘‘জলস্তর অনেক নেমে যাওয়ায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। অন্য বছরে এ সময়ে সমস্যা হত না। প্রখর গ্রীষ্মেই সাধারণত এই সমস্যা হত।’’

ইতিমধ্যে শহরের উঁচু এলাকা কাটানধার, নতুনমহল, তিলবাড়ি, কলেজ মোড়, শালবাগান, সেনহাটি, হাউজিং, কুসুমবনী, তুর্কি, তুঁতবাড়ি এবং আংশিক ভাবে পুরভবন এলাকায় মাঝে মধ্যেই পাইপলাইনে জল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ। তবে পুরপ্রধানের আশ্বাস, রেললাইনের অন্য পাশের হিমঘর এলাকার জলের ওভারহেড ট্যাঙ্ক থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে শহরে জল আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আরও একটি জায়গা থেকেও জল আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ মুহূর্তে বিষ্ণুপুর শহরের ১৯টি ওয়ার্ডে প্রায় ২০ হাজার পরিবারে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও অনেকে রাস্তার ট্যাপ থেকে জলসংগ্রহ করেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে পুরসভার উদ্যোগে কমবেশি চার-পাঁচটি সাবমার্সিবল পাম্প বসানো হয়েছে। কোথাও সংখ্যাটা আরও বেশি। এছাড়া অনেকেই ব্যক্তিগত ভাবে বাড়িতে সাবমার্সিবল পাম্প বসিয়ে জল তুলছেন। সেই সংখ্যাটা প্রতিটি ওয়ার্ডে কমপক্ষে ৩০০। ফলে ভূগর্ভস্থ জল প্রয়োজনের থেকে বেশি উঠে যাচ্ছে অনেকের মত।

বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী পরিমল দাসের দাবি, ‘‘এমনও রয়েছে একই পরিবারের তিন ভাই তিনটি আলাদা সাবমার্সিবল পাম্প বসিয়েছেন। পুরসভার নজরদারি আরও বাড়াতে হবে। বহুতল আবাসনগুলি যাতে বৃষ্টির জল সংরক্ষণের পরিকাঠামো গড়ে তোলে, সে জন্য পুরসভাকে তাদের বাধ্য করানো উচিত। রাস্তার ধারের কলগুলি থেকে জল পড়ে অপচয়ও মানা যায় না। পানীয় জলের বিষয়ে পুরসভা কঠোর না হলে আগামিদিনে জল কিনে খেতে হবে । মাটির নীচ থেকে জল উধাও হয়ে যাবে।”

পুরসভার বিজেপির পুরপ্রতিনিধি শঙ্খজিৎ রায় বলেন, “সাবমার্সিবল বসানোর উপরে পুরসভার কোনও নজরদারি নেই। শহর জুড়ে একের পর এক বহুতল তৈরি হচ্ছে। সেখানে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প বসিয়ে জল তোলা চলছে। অথচ বৃষ্টির জল ধরে রাখার কোনও উদ্যোগ নেই। ব্যক্তিগত স্বার্থে শহরে একের পর এক পুকুর বুজিয়ে ফেলা হয়েছে। বাঁধগুলি সংস্কারেও নজর নেই। জল সঙ্কট দেখা দেওয়াই স্বাভাবিক।’’

তবে পুরপ্রধান গৌতমের দাবি, ‘‘পানীয় জলের সঙ্কট নিয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন আছি। সে জন্য লালবাঁধের মতো অন্য বাঁধগুলিও সংস্কার করে বৃষ্টির জল ধরে রাখা হবে। চরম গ্রীষ্মে বিভিন্ন এলাকায় পানীয় জলের ট্যাঙ্ক সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে জলের অপচয় বন্ধ করতে হলে সাধারন মানুষকেও সচেতন হতে হবে।’’ তিনি জানান, কুমারী টকিজের সামনে নতুন ওভারহেড ট্যাঙ্ক তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন