US-Iran Conflict

যুদ্ধের আবহে ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম! ইরানের কৌশলে হরমুজ় প্রণালীতে বন্ধ পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল, চিন্তায় দিল্লিও

পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে বিশ্বের অন্য দেশগুলির বাণিজ্যিক যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হল হরমুজ় প্রণালী। পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মাঝের এই সরু প্রণালী দিয়ে আমেরিকা-সহ বহু দেশের বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজ যাতায়াত করে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ মার্চ ২০২৬ ১২:১৩
Share:

হরমুজ প্রণালীতে দু’টি পণ্যবাহী জাহাজের উপর হামলা ইরানের! ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের আবহে বিশ্ববাজারে ক্রমশ বাড়ছে অশোধিত তেলের দাম। এ বারও যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিচিত কৌশল পুনরায় কাজে লাগিয়ে হরমুজ় প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। ফলে পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মধ্যবর্তী এই সরু প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই জলপথ ধরে তেল পরিবহণ থমকে যাওয়ায় বাড়ছে জ্বালানির দাম।

Advertisement

সামুদ্রিক বাণিজ্যের উপর নজরদারি চালানো ব্রিটিশ সংস্থা ‘ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস’ জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ় প্রণালীতে এখনও পর্যন্ত দু’টি পণ্যবাহী জাহাজের উপর হামলা হয়েছে। আরও একটি জাহাজের খুব কাছে বিস্ফোরণ হয়েছে। তেহরান হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ় প্রণালী দিয়ে তারা কোনও জাহাজ যেতে দেবে না।

পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে বিশ্বের অন্য দেশগুলির বাণিজ্যিক যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হল হরমুজ় প্রণালী। পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মাঝের এই সরু প্রণালী দিয়ে আমেরিকা-সহ বহু দেশের বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজ যাতায়াত করে। এই প্রণালীর এক দিকে রয়েছে ইরান, অন্য দিকে রয়েছে ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। আর এই প্রণালী ধরে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বে তেল রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Advertisement

ভারতীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টায় ব্যারেল প্রতি অশোধিত তেলের দাম ছিল ৭৬.১৬ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৬,৯৬০.৮৩ টাকা), যা আগের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি। আমেরিকা নিয়ন্ত্রিত তেলের বাজারে ব্যারেল প্রতি দামও আগের তুলনায় ৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬৯.৬৭ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ৬,৩৬৭.৬৬ টাকা)।

পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে বিশ্বের অন্য দেশগুলির বাণিজ্যিক যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হল হরমুজ় প্রণালী। পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরের মাঝের এই সরু প্রণালী দিয়ে আমেরিকা-সহ বহু দেশের বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজ যাতায়াত করে। এই প্রণালীর এক দিকে রয়েছে ইরান, অন্য দিকে রয়েছে ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি।

গোটা বিশ্বে রফতানিযোগ্য তেলের ২০ শতাংশ যায় এই হরমুজ় প্রণালী ধরেই। তাই এই প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ভারতও। কারণ দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ তেল হরমুজ় দিয়ে আমদানি করা হয়। ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কুয়েতের মতো দেশ থেকে প্রতি দিন ২৫-২৭ লক্ষ ব্যারেল তেল আমদানি করে নয়াদিল্লি। এই বিপুল পরিমাণ তেল আসে হরমুজ় প্রণালী থেকেই। যদিও কেন্দ্রের একটি সূত্রের দাবি, আপাতত দেশে বেশ কয়েক দিনের তেল মজুত রয়েছে। তাই স্বল্প মেয়াদে হরমুজ় বন্ধ থাকলেও চিন্তার কারণ নেই। তবে এই অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিকল্প উপায় ভাবতে হতে পারে ভারতকে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement