US Iran Conflict

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যেতে ট্রাম্পকে পরামর্শ দিচ্ছেন সৌদি আরবের যুবরাজ সলমন! দাবি রিপোর্টে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাম্প্রতিক সময়ে ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেছেন। কখনও তিনি বলেছেন, এই সংঘর্ষ আর খুব বেশি দিন চলবে না। আবার কখনও বলেছেন, সংঘর্ষ দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ ১২:১৩
Share:

(বাঁ দিকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি আরবের যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সলমন (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের ভূমিকা নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছিল। এ বার যখন যুদ্ধে ইতি পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তখন ফের আলোচনায় উঠে এল সৌদি আরব। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিচ্ছেন সৌদির যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সলমন। নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স-এর এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হচ্ছে। রিপোর্টে বলা হচ্ছে, সলমন ট্রাম্পকে বোঝাতে চাইছেন যে মার্কিন-ইজ়রায়েলি অভিযান পশ্চিম এশিয়াকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর এক ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ এনে দিয়েছে।

Advertisement

যুদ্ধ শুরুর পরে মার্চের শুরুর দিকে ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনও সলমনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, ইরানে হামলার উস্কানি দিতে ট্রাম্পকে ঘন ঘন ফোন করেছিলেন সৌদির যুবরাজ। এ বার নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স-ও জানাচ্ছে, গত সপ্তাহে ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিক বার কথা বলেছেন সলমন। তিনি ট্রাম্পকে এটাই বোঝাতে চেয়েছেন যে ইরানের ‘কট্টরপন্থী’ শাসনকে ধ্বংস করা প্রয়োজন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাম্প্রতিক সময়ে ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেছেন। কখনও তিনি বলেছেন, এই সংঘর্ষ আর খুব বেশি দিন চলবে না। আবার কখনও বলেছেন, সংঘর্ষ দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। তবে দু’দিন আগে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার আলোচনা শুরু হয়েছে। দু’পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক পর্বে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ অবস্থায় ফের যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য সলমনের পরামর্শের কথা প্রকাশ্যে এল।

Advertisement

নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক কারণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কারণেও ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের একের পর এক হামলার জেরে হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে রয়েছে। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় জ্বালানি ক্ষেত্রে দৃশ্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। সৌদি, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কুয়েতের তেল এই জলপথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। হরমুজ়কে এড়ানোর জন্য সৌদি এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি পাইপলাইনও তৈরি করেছে। কিন্তু সেই বিকল্প পথগুলিতেও আক্রমণ হচ্ছে বলে অভিযোগ।

গতকালই ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে মঙ্গলবার জানানো হয়, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এই সংঘর্ষে জড়ানোর প্রায় দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যুদ্ধের ফলে সৌদির যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, তা নিয়ে চিন্তিত সলমনও। কিন্তু সংঘর্ষের এই পরিস্থিতিতে সব কিছু থেমে যাওয়ার পক্ষপাতী নন তিনি। সলমনের আশঙ্কা, এই মুহূর্তে আমেরিকা যুদ্ধ থামিয়ে পিছু হটলে ইরানের ক্রোধ এসে পড়বে সৌদি-সহ পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার বন্ধু দেশগুলির উপরে। এবং তখন ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সাহায্য ছাড়া একাই লড়তে হবে তাদের। বিশ্লেষকদের অনুমান, সম্ভবত সেই আশঙ্কা থেকেই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন সৌদির যুবরাজ। যদিও তাঁদের মধ্যে কী নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে তা প্রকাশ্যে আসেনি। রিয়াধও কিছু জানায়নি। হোয়াইট হাউসও বলেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কথোপকথন নিয়ে তারা কোনও মন্তব্য করবে না।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement