CERN

অ্যান্টিম্যাটার পরিবহণে সফল ‘সার্ন’

আদতে ‘সার্ন’-এর গবেষকেরা উপলব্ধি করেছিলেন, অ্যান্টিম্যাটার নিয়ে গবেষণাকে আরও এগিয়ে যেতে গেলে, সেটিকে অন্য গবেষণাগারে নিয়ে যাওয়া জরুরি। কিন্তু কী ভাবে তা সম্ভব?

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ ০৭:১১
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

পরিকল্পনাটা চলছিল বিগত কয়েক বছর ধরেই। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সাফল্য কতখানি আসবে, তা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন খোদ গবেষকেরাই। অবশেষে ‘অ্যান্টিম্যাটার’ পরিবহণের সেই দুরূহ কাজটি সেরেই ফেললেন ‘সার্ন’ তথা ‘ইউরোপিয়ান অর্গানাইজ়েশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ’-এর বিজ্ঞানীরা। উদ্দেশ্য? খুব সংক্ষেপে বললে— অ্যান্টিম্যাটার সংক্রান্ত গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া! প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার সেই পরিবহণ-পর্ব সম্প্রতি মিটেছে নির্বিঘ্নেই। অ্যান্টিম্যাটার পরিবহণের ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্তরে সাফল্য মিলতেই, এ বার তাকে সুইৎজ়াল্যান্ডের জেনিভা থেকে জার্মানির ডুসলডর্ফের গবেষণাগারে পাঠানোর পরিকল্পনাও শুরু হয়েছে।

আদতে ‘সার্ন’-এর গবেষকেরা উপলব্ধি করেছিলেন, অ্যান্টিম্যাটার নিয়ে গবেষণাকে আরও এগিয়ে যেতে গেলে, সেটিকে অন্য গবেষণাগারে নিয়ে যাওয়া জরুরি। কিন্তু কী ভাবে তা সম্ভব? এখানেই চিন্তায় পড়েছিলেন গবেষকেরা! কারণ, ম্যাটার বা কণা এবং অ্যান্টিম্যাটারের গড়নের ধর্মেই যে রয়েছে বিস্তর ফারাক! পজ়িটিভ চার্জের প্রোটনের অ্যান্টিম্যাটার হলেও, ‘অ্যান্টিপ্রোটন’ নেগেটিভ তড়িৎধর্মী। আবার, নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রনের অ্যান্টিম্যাটার থাকলেও, ‘পজ়িট্রনের’ চার্জ আবার পজ়িটিভ। অর্থাৎ— কণা কিংবা ম্যাটারের সঙ্গে অ্যান্টিম্যাটারের ছোঁয়া লাগলে বিস্ফোরণ অবধারিত। কারণটা তড়িৎ-ধর্মের পার্থক্য। সেই বিস্ফোরণে ম্যাটার এবং অ্যান্টিম্যাটার বিলীন হয়ে গেলে, পড়ে থাকে কেবলই শক্তি তথা ‘এনার্জি’। আর ঠিক সেই কারণেই বিজ্ঞানীদের অ্যান্টিম্যাটারকে সংরক্ষিত রাখতে হয় বিশেষ ভাবে নির্মিত আধারে। যে আধারের চৌম্বক ক্ষেত্র তার ভিতরে থাকা অ্যান্টিম্যাটারকে কার্যত ভাসমান অবস্থায় রাখে। যাতে তা আধারের দেওয়ালের কোনও ধাতুর সংস্পর্শে না আসে।

‘সার্ন’-এর বিজ্ঞানীদের কাছে মূল চ্যালেঞ্জ ছিল— এত দিন বিশেষ আধারে সংরক্ষিত অ্যান্টিম্যাটারকে কী ভাবে সাধারণ ধাতু বা পদার্থের সংস্পর্শে না এনে পরিবহণ করানো যায়। জানা গিয়েছে, প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার এই পরিবহণ-পর্বকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য বিশেষ আধার প্রস্তুত করেছিলেন গবেষকেরা। এরপর গবেষণা কেন্দ্রের মূল আধার থেকে ১০০টি অ্যান্টিম্যাটারকে বার করে বিশেষ ভাবে তৈরি নতুন চৌম্বকীয় আধারে থিতিয়ে যাওয়ার জন্য বেশ কিছুটা সময় দেওয়া হয়েছিল। তারপর শুরু হয়েছিল নতুন আধারটিকে বিশেষ ট্রাকে চাপিয়ে পরিবহণের পালা।

খবর, এ ক্ষেত্রে বিশেষ চৌম্বকীয় ক্ষেত্র আধারের ভিতরে রাখা অ্যান্টিম্যাটারকে নির্দিষ্ট স্থানে ধরে রেখেছিল। আর সেই আধারের অন্দরে বিপুল চৌম্বক ক্ষেত্রে তৈরির জন্য ট্রাকের সঙ্গে জোড়া হয়েছিল অতি শক্তিশালী জেনারেটর। আবার, আধারের ভিতরের অংশে যাতে অতিশীতল তথা মাইনাস ২৬০ ডিগ্রিরও কম তাপমাত্রা পুরো সময়টায় বজায় থাকে, সে দিকেও নজর রাখতে হয়েছিল বিজ্ঞানীদের। জানা গিয়েছে, এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীদের কাজ অনেকটাই সহজ করে দিয়েছিল তরল হিলিয়াম। যা কি না ওই আধারের ‘কুল্যান্ট’ হিসেবে কাজ করেছিল। পুরো ঘটনাটি সম্পর্কে ‘সার্ন’-এর মুখপাত্র সোফি তেসাউরি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পরিবহণের ক্ষেত্রে বিশেষ আধার তৈরিটাই ছিল আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন