US Iran Peace Deal

আমেরিকা-ইরান লিখিত চুক্তির আড়ালেও থেকে যাবে অনেক ‘হিসাব’! সব কিছু স্পষ্ট করতে চাইছেন না মার্কিন শীর্ষকর্তারা

আমেরিকা-ইরানের মধ্যে যে মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে, তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান না মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সও। তাঁরও দাবি, ওটি একটি খুবই সাধারণ নথি। একই সুরে কথা বলছেন মার্কিন আধিকারিকেরাও।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ ১৬:২৮
Share:

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আমেরিকা-ইরান চুক্তির খসড়া এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশিত হয়নি। চুক্তিতে কী কী বিষয় থাকছে, ইরানকে কতটা ছাড় দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও অস্পষ্টতা রয়েছে। তবে মার্কিন আধিকারিকদের দাবি, চুক্তির নথিতে কী কী উল্লেখ থাকছে, তা ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ, দু’পক্ষের মধ্যে গোপন আলোচনা এবং প্রতিশ্রুতিগুলির তাতে উল্লেখ নেই।

Advertisement

আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে ইতিমধ্যে একটি মউ ভার্চুয়াল মাধ্যমে স্বাক্ষরিত হয়েছে। চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে আগামী শুক্রবার। এরই মধ্যে মার্কিন রক্ষণশীল রাজনীতিকেরা দাবি তুলেছেন, চুক্তিতে কী কী রয়েছে, সেই রূপরেখা তাঁদের দেখাতে হবে। তাঁরা সন্দেহ করছেন, যুদ্ধ শেষ করার নামে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসন ইরানকে অনেক বেশি ছাড় দিয়ে দিচ্ছে। যদিও মার্কিন আধিকারিকদের দাবি, চুক্তিতে যা লেখা থাকছে, তা খুবই অস্পষ্ট। এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হল, পরবর্তী সময়ে আরও সুনির্দিষ্ট মুখোমুখি বৈঠকের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা। সেই কারণে চুক্তিটির ভাষ্য এমন রাখা হচ্ছে যাতে ইরানি প্রশাসন নিজেদের দেশে সেটিকে ‘রাজনৈতিক ভাবে গ্রহণযোগ্য’ বলে তুলে ধরতে পারে।

আমেরিকা-ইরানের মধ্যে যে মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে, তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান না মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সও। তাঁরও দাবি, ওটি একটি খুবই সাধারণ নথি। সিএনএন-কে মার্কিন আধিকারিকেরা জানাচ্ছেন, ইরান বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আমেরিকাকে। ওই প্রতিশ্রুতিগুলির কারণেই আমেরিকা চুক্তিস্বাক্ষরে আরও বেশি আগ্রহী হয়েছে। তবে ওই গোপন প্রতিশ্রুতিগুলির কথা নথিতে উল্লেখ নেই।

Advertisement

ঘটনাপরম্পরা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল আধিকারিকেরা এই চুক্তিটিকে একটি ‘রাজনৈতিক দলিল’ হিসাবে ব্যাখ্যা করছেন। তাঁদের কথায়, “মউয়ে কী লেখা থাকছে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের বেশি বিশ্লেষণ করা ঠিক হবে না। এই নথির চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল আমাদের পারস্পরিক বোঝাপড়া।” মার্কিন প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, “নথিতে মূলত বলা হয়েছে— আমরা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেব, পারমাণবিক বিষয় নিয়ে একটি চুক্তি করব এবং লেনদেন বন্ধ থাকা তহবিলগুলি ছেড়ে দেব। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা তোলা হবে যখন আমাদের (আলোচনার) অগ্রগতি হবে। ফ্রিজ় থাকা তহবিল কী পদ্ধতিতে ছাড়া হবে, তা নিয়ে ঐকমত্য হওয়ার পরেই তা ছাড়া হবে।” ওই মার্কিন আধিকারিক আরও জানান, চুক্তিপত্রকে এমন ভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে ইরান নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি সুবিধাজনক জায়গায় থাকার সুযোগ পায়।

চুক্তিপত্রে কী কী থাকছে, তা দেখেছেন এমন এক আধিকারিক সিএনএন-কে জানান, মজুত থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে ইরান কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা চুক্তির খসড়ায় নির্দিষ্ট ভাবে লেখা নেই। যদিও ট্রাম্প প্রশাসনের আধিকারিকদের দাবি, ওই ইউরেনিয়াম ধ্বংসের কাজে তদারকি করবে আমেরিকা। চুক্তিতে লেখা আছে, ইরান কোনওদিন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে ২০১৫ সালের ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে হওয়া চুক্তিতেও এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ইরান। এ ক্ষেত্রে মার্কিন আধিকারিকদের দাবি, তেহরান ওয়াশিংটনকে ‘গোপনে’ জানিয়েছে ট্রাম্প পারমাণবিক বিষয়ে যা চাইছেন, তা তারা করবে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র সহযোগিতায় ইরানে মজুত ইউরেনিয়াম ধ্বংস করা হবে। এবং সেই কাজে যুক্ত থাকবে আমেরিকাও। আধিকারিকদের দাবি, এই গোপন আলোচনার বিষয়গুলি চুক্তির নথিতে উল্লেখ নেই। আবার ইরানের বন্ধ হওয়া তহবিল ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হলেও তা কখন, কী ভাবে করা হবে সে বিষয়ে কোনও উল্লেখ নেই। এ নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমার কথা বলা হয়নি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement