Coronavirus

মার্কিন বর্ণ-বিক্ষোভের নেতৃত্বে ভারতীয় মুখ

শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড খুনের প্রতিবাদে শহরতলি ‘ক্যাপিটল হিল অটোনমাস জ়োন’-এ ব্যারিকেড দিয়েছিলেন আগেই।

Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২০ ০৪:৫৭
Share:

ক্ষমা সাওন্ত

বিয়ে করে আমেরিকায় আসার পর-পরই কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাট চুকিয়ে দিয়েছিলেন মুম্বইয়ের মেয়ে ক্ষমা সাওন্ত। ঠিক করেছিলেন, আর্থিক বৈষম্যের কারণগুলো খুঁজতে অর্থনীতি নিয়ে পড়বেন। সেই মতো নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি। তত দিনে ‘সোশ্যালিস্ট অল্টারনেটিভ’ পার্টিতে নাম লেখানোও হয়ে গিয়েছে তাঁর। তার পর ২০১৩-য় ওই দলের টিকিটেই টানা ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকা ডাকসাইটে ডেমোক্র্যাট নেতা রিচার্ড কনলিনকে হারিয়ে সিয়্যাটল শহরের কাউন্সিলওম্যান হন ক্ষমা। আজ শহরের ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনের মুখও বছর ছেচল্লিশের এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন।

Advertisement

শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েড খুনের প্রতিবাদে শহরতলি ‘ক্যাপিটল হিল অটোনমাস জ়োন’-এ ব্যারিকেড দিয়েছিলেন আগেই। পুরো এলাকাটাই এ বার ‘পুলিশ-মুক্ত’ করার দাবি তুললেন ক্ষমা। তাঁর দাবি, শহরের পূর্ব থানা এলাকা কোনও ভাবেই আর পুলিশের হাতে ছাড়া যাবে না। শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় বিকল্প হিসেবে স্থায়ী ‘কমিউনিটি-কন্ট্রোল’ মডেলের কথা বলছেন সমাজবাদী নেত্রী। সিয়্যাটলের কাউন্সিলওম্যান হিসেবে তাঁর অফিস এ নিয়ে আইন আনছে বলেও শুক্রবার একটি টুইট করেন তিনি।

সিয়্যাটল পুলিশ বিভাগটাই কার্যত তুলে দিতে চাইছেন ক্ষমা। কথায়-কথায় পুলিশের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধেও সুর চড়াচ্ছেন ২০১০-এ মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া সমাজবাদী নেত্রী। তাঁর নেতৃত্বেই ‘ডিফান্ড দ্য পুলিশ’ স্লোগান সামনে রেখে গত মঙ্গলবার শহরের টাউন হলে হাজারের বেশি মানুষ জমায়েত করেছিলেন। জনতার দাবি, পুলিশের জন্য বরাদ্দ অর্থ জনসেবামূলক কাজে ব্যবহৃত হোক। বেশি রাতে, জনতার এই ভিড়টাকেই আবার শহরের মেয়র জেনি দুরকানের পদত্যাগের দাবিতে সরব হতে দেখা যায়। প্রায় সবার মুখে মাস্ক থাকলেও, আন্দোলনে নেমে পারস্পরিক দূরত্ববিধি শিকেয়। দু’টি ঘটনাস্থলেই হাজির ছিল পুলিশ। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের কেউ আইন-অমান্য করেননি বলে পদক্ষেপ করার সুযোগ পায়নি পুলিশ।

Advertisement

এ দিকে, বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ক্রমে জোরালো হচ্ছে ব্রিটেনও। আঁচ বুঝে সামাজিক বৈষম্যের সব দিক খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিশন তৈরির কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তবে একই সঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, বিক্ষোভ-প্রতিবাদের নামে ‘নতুন করে ইতিহাস’ লিখতে দেবে না তাঁর প্রশাসন। পার্লামেন্টের বাইরে ব্রিটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের মূর্তির উপরেও চড়াও হয়েছিলেন ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনকারীদের একাংশ। গত শনিবার আবার এর পাল্টা মূর্তি সংরক্ষণের দাবিতে এলাকায় জমায়েত করতে দেখা গিয়েছিল চরম ডানপন্থীদের একাংশকে। নাৎসি স্লোগান দিতে থাকা ওই ভিড় পরে পুলিশের সঙ্গেও সংঘর্ষে জড়ায়। কয়েকশো আন্দোলনকারীকে গ্রেফতারও করে পুলিশ।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আজ একটি কাগজেও কলম ধরেন বর্ণ-বিক্ষোভ নিয়ে। দেশের ঐতিহ্য রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বরিস লেখেন, ‘‘বৈষম্য ঠেকাতে আমরা অনেক কিছু করেছি, এমন বলার কোনও জায়গা নেই। অনেক পথ চলা বাকি। সেই কারণেই এই কমিশন। সরকারি বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এই কমিশন কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য পরিষেবা-সহ সব ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ খতিয়ে দেখে পদক্ষেপের সুপারিশ করবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement