Iran-US Conflict

আমেরিকা ইউরেনিয়াম চুরি করতে এসেছিল নিখোঁজ পাইলট উদ্ধারের আড়ালে! মার্কিন সেনার অভিযান নিয়ে বড় দাবি ইরানের

ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের কথায়, ‘‘পাইলট উদ্ধারের অভিযান ছিল পুরোটাই ভুয়ো। আসলে পাইলটকে উদ্ধারের আড়ালে ইউরেনিয়াম চুরি করাই লক্ষ্য ছিল আমেরিকার। কিন্তু ওরা সেটা করতে পারেনি।’’

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৫৭
Share:

ইরানে মার্কিন সেনার অভিযান ঘিরে রহস্য। প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

নিখোঁজ পাইলট উদ্ধারের আড়ালে দেশ থেকে ইউরেনিয়াম চুরি করার চেষ্টা করেছিল আমেরিকা। এমনই দাবি করল ইরান। প্রসঙ্গত, রবিবার তারা দাবি করেছিল, পাইলটকে উদ্ধারে আমেরিকার অভিযানকে ভেস্তে দিয়েছে তারা। কিন্তু তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উল্টো সুর শোনা গেল তাদের কণ্ঠে। ইরানের মাটিতে অভিযান চালিয়ে আমেরিকা যখন নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধার করে নিয়ে আসার জোরালো দাবি করতে শুরু করে, তখন ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইলি বাকাই পাল্টা দাবি করেন, মার্কিন বাহিনীর এই অভিযান শুধু পাইলট উদ্ধারের জন্য নয়, তাঁদের দেশ থেকে ইউরেনিয়াম চুরি করার পরিকল্পনাও ছিল।

Advertisement

ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের কথায়, ‘‘পাইলট উদ্ধারের অভিযান ছিল পুরোটাই ভুয়ো। আসলে পাইলটকে উদ্ধারের আড়ালে ইউরেনিয়াম চুরি করাই লক্ষ্য ছিল আমেরিকার। কিন্তু ওরা সেটা করতে পারেনি। আমাদের বাহিনী এই পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে।’’ আমেরিকার এই অভিযান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বাকাই আরও দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনীর এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানটিকে ইরান সেনা গুলি করার পর পাইলট বয়ার-আহমেদ প্রদেশের কোগিলুয়ে এলাকায় আত্মগোপন করেছিলেন। কিন্তু মার্কিন বাহিনী মধ্য ইরানে নামার চেষ্টা করেছিল। ঘটনাচক্রে, যেখানে পাইলটের খোঁজ মিলেছে, সেই অঞ্চল থেকে এই এলাকা অনেক দূরে। তা হলে মধ্য ইরানে নামার চেষ্টা কেন করেছিল মার্কিন বাহিনী? এই প্রশ্ন তুলেই বাকাই দাবি করেছেন, আসলে পাইলটের উদ্ধারের নামে ইউরেনিয়াম হাতানোর চেষ্টা করেছিল আমেরিকা।

ইরানের হাতে ৪০০-৪৫০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। যা পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাজে লাগতে পারে। এই ইউরেনিয়াম নিয়েই বার বার প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি, ইরানের কাছে যে শর্ত পাঠানো হয়েছিল, তার মধ্যে হরমুজ়কে উন্মুক্ত করা ছাড়াও এই ইউরেনিয়াম সংক্রান্তও শর্ত ছিল। ইরানের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকার নজর তেহরানের হাতে থাকা এই ৪০০-৪৫০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম। প্রসঙ্গত, ট্রাম্প এর আগেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানের হাতে ইউরেনিয়াম থাকা বিশ্বের পক্ষে বিপজ্জনক। মার্কিন প্রাশানের এস সূত্রের দাবি, উপদেষ্টাদের মাধ্যমে তাই বার বার তেহরানের উপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তাঁদের মাধ্যমে তেহরানকে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তারা যদি আমেরিকার এই প্রস্তাবে রাজি না হয়, তা হলে ইউরেনিয়াম নিজেদের হাতে নিতে বলপ্রয়োগের রাস্তায় হাঁটবেন। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বাকাই তাই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, পাইলট উদ্ধারের পাশাপাশি, ইউরেনিয়াম চুরি করারও চেষ্টা করেছে আমেরিকা। যদিও আমেরিকার তরফে এই দাবির পাল্টা কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ট্রাম্পও এই অভিযোগ নিয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেননি।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement