হরমুজ় নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘ঠাট্টা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
হরমুজ় প্রণালীকে ‘ট্রাম্প প্রণালী’ বলে উল্লেখ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার সংবাদমাধ্যমে ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাত, হরমুজ় প্রণালী নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ফাঁকে তিনি হরমুজ়ের সঙ্গে নিজের নাম জুড়ে দিয়ে সেটিকে ‘ট্রাম্প প্রণালী’ বলে উল্লেখ করেন। শুধু তা-ই নয়, হুঁশিয়ারিও দেন, ‘‘ট্রাম্প প্রণালী আমাদের খুলতেই হবে।’’
হরমুজ়কে যখন ট্রাম্প প্রণালী বলে উল্লেখ করেন, তখন তাঁর এই নতুন নামকরণ শুনে গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়। তা অনুধাবন করে বিষয়টি তখন হালকা করার চেষ্টা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে কিছুটা কটাক্ষ মিশ্রিত সুরেই ট্রাম্প বলেন, ‘‘হরমুজ় নিয়ে আমাদের আলোচনা চলছে। যদি কোনও সমাধান বার করতে পারি, তা হলে তার থেকে বড় কিছু হবে না। কিন্তু হরমুজ় খুলতেই হবে।’’ তার পর আরও জোর দিয়ে বিষয়টি বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘‘ট্রাম্প প্রণালীকে খুলতেই হবে। থুড়ি, আমি হরমুজ় প্রণালী বলতে চেয়েছিলাম। মুখ ফস্কে ওটা ট্রাম্প হয়ে গিয়েছিল।’’ তার পরই হাসতে হাসতে বলেন, ‘‘বড় ভুল হয়ে গিয়েছে। ক্ষমা করুন।’’
তাঁর এই মন্তব্যকে সংবাদমাধ্যম যে বাড়িয়ে-চড়িয়ে তুলে ধরবে, সেটাও বলেন ট্রাম্প। এ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘‘সাধারণত, আমি খুব একটা ভুল করি না।’’ তবে হরমুজ় প্রণালী খুলতে আলোচনা যে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে তেহরানের সঙ্গে, ট্রাম্পের কথায় তা বার বার উঠে এসেছে। সামরিক সংঘাত থামাতে এবং হরমুজ় প্রণালী খোলার জন্য ইতিমধ্যেই মধ্যস্থতাকারী হিসাবে কাজ করছে পাকিস্তান। তাদের মাধ্যমে ১৫ দফা শর্তও পাঠানো হয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই দাবি সম্পূর্ণ খণ্ডন করে ইরান পাল্টা দাবি করেছে, ওদের সঙ্গে কোনও রকম আলোচনাই হয়নি। তবে হরমুজ় যে সহজে খুলবে না, তা জানিয়ে দিয়েছে ইরান। সঙ্গে হুঁশিয়ারিও দিয়েছে, হরমুজ় খুলতে কেউ যদি কোনও রকম পদক্ষেপ করার চেষ্টা করে, তা হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। যদিও ইরান জানিয়েছে ‘বন্ধু দেশ’গুলি ছাড়া বাকিদের তেল এবং পণ্যবাহী জাহাজকে হরমুজ় পার করতে দেওয়া হবে না। ঘটনাচক্রে, পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী (আমেরিকার দাবি অনুযায়ী) হিসাবে কাজ করলেও, করাচিগামী একটি জাহাজকেও ফেরত পাঠিয়ে দেয় ইরান। তবে হরমুজ় খুলতে যে ট্রাম্প বদ্ধপরিকর, শুক্রবার সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন। আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানকে সময় দেওয়া হয়েছে বলে দাবি আমেরিকার। এই সময়ের মধ্যে তাদের দেওয়া শর্ত মেনে না নিলে হামলা আরও জোরালো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।