US Iran Tension

ইরানকে সমঝোতার জন্য পাঁচটি প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প, রাজি মোজতবাও? হরমুজ়, পরমাণু চুক্তি-সহ তালিকায় আর কী

ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে প্রাথমিক ভাবে একটি সমঝোতাপত্রের (মউ) খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী দিনে বৃহত্তর সমঝোতার ভিত হয়ে উঠতে পারে সেটি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ১৭:১৮
Share:

(বাঁ দিকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

ইরানের সঙ্গে বোঝাপড়া চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। কেবল চুক্তিতে স্বাক্ষরের অপেক্ষা। শুক্রবার এমনটাই দাবি করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ইউরোপের কোনও দেশে চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাবেন তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। এই বোঝাপড়ায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের সম্মতি আছে বলেও দাবি করেছেন ট্রাম্প।

Advertisement

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ একটি রিপোর্টে জানিয়েছে, ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে প্রাথমিক ভাবে একটি সমঝোতাপত্রের (মউ) খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী দিনে বৃহত্তর সমঝোতার ভিত হয়ে উঠতে পারে সেটি। সেখানে মোট পাঁচটি প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে। তার মধ্যে হরমুজ় প্রণালী থেকে শুরু করে পরমাণু চুক্তি সংক্রান্ত প্রস্তাব রয়েছে।

প্রথমত, আমেরিকা-ইরানের খসড়া সমঝোতায় বলা হয়েছে, ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ় প্রণালী খুলে দিতে হবে ইরানকে। সে ক্ষেত্রে আমেরিকাও অবরোধ তুলে নেবে। ওই জলপথ দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা হবে। সমঝোতায় এটাই আমেরিকার প্রাথমিক লক্ষ্য।

Advertisement

দ্বিতীয়ত, হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়ার পরিবর্তে ইরানের উপর চাপিয়ে রাখা অর্থনৈতিক বিধিনিষেধগুলি সহজ করবে আমেরিকা। ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, চুক্তির পর তুলে নেওয়া হবে ইরানের তেল সংক্রান্ত যাবতীয় নিষেধাজ্ঞা। এর ফলে দীর্ঘ দিন ধরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে ইরানকে। তেল রফতানি বৃদ্ধি করতে পারলে ক্ষতি কিছুটা সামাল দিতে পারবে তেহরান।

তৃতীয়ত, সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি করতে পারে আমেরিকা এবং ইরান। অ্যাক্সিয়সের রিপোর্ট বলছে, চলতি সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বৃদ্ধি করা হতে পারে। এতে পশ্চিম এশিয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হবে।

চতুর্থত, ইরানের সঙ্গে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সংঘাতের মূলে রয়েছে তাদের পারমাণবিক কার্যকলাপ। সমঝোতায় ইরানকে পরমাণু সংক্রান্ত আলোচনায় যোগ দেওয়ার জন্য রাজি হতে বলা হচ্ছে। সেখানে তাদের ইউরেনিয়াম ভান্ডার এবং পরমাণু অস্ত্র নিয়ে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা আলোচিত হতে পারে। তবে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত কোনও সমঝোতা এখনই সম্ভব নয়।

পঞ্চমত, ব্লুমবার্গের রিপোর্টে দাবি, পশ্চিম এশিয়া থেকে আমেরিকার সেনা প্রত্যাহার সমঝোতার অন্যতম বড় শর্ত হতে চলেছে। তা না-করলে ইরান কোনও আলোচনায় বসতে রাজি হবে না। পশ্চিম এশিয়ায় ইরান সংলগ্ন অঞ্চল থেকে আমেরিকা সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে খসড়া চুক্তিতে। ওই অঞ্চলে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটাও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement